চকরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় সাবেক ইউপি মেম্বার ও এক শিশুকে মাথা পাঠিয়ে জখম , মাকে শ্লীলতাহানি

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় শিশুসহ দুইজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এরমধ্যে শিশু মোছায়েফ নবীন (৬) এর মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এসময় শিশুর মাতা নাসরীন সুলতানা সুমী নামের এক গৃহবধুকে শ্লীলতাহানী চেষ্ঠা করে দূর্বৃত্তরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সাবেক মেম্বার জিন্নাত আলীকেও পিটিয়ে জখম করে তারা। ওইসময় গৃহবধুর একটি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্যারচর ১নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়ায় এঘটনা ঘটে।

আহত গৃহবধু নাসরীন সুলতানা সুমী জানান, তার প্রবাসী স্বামী আমান উল্লাহর পাঠানো টাকা দিয়ে শ্বাশুর বাড়িতে দুটি কক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে দুইটি কক্ষের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু একই এলাকার সামসুল আলমের দুই পুত্র আবদুল হামিদ (৩০) ও জাহেদুল ইসলাম (২৫) বাড়ি নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে। তারা পূর্ব শত্রুতার জেরধরে প্রায় সময় বাধা দিয়ে থাকে। এনিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শালিশ বিচারও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোন আইনকানুন মানেন না।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করলে সামসুল আলম ও তার দুই পুত্র আবদুল হামিদ ও জাহেদুল ইসলাম দা ও লোহার রড নিয়ে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেন। কী কারণে বাধা দেওয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা অর্তকিতভাবে দা ও লোহার রড দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে শ্লীলতাহানীও করে তারা। তারা শিশুপুত্র মোছায়েফ নবীনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে হামলা করে।
এসময় শিশুপুত্র মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুর মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। দূর্বৃত্তরা তার শরীর থেকে একভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও নিয়ে যায়। বাড়ির আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পরে তার শ্বাশুর বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাসুর সাবেক মেম্বার জিন্নাত আলীকেও হামলা করে। পুলিশের সামনে জিন্নাত আলীকে মারধর করা হয়েছে। এসময় মুখের মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। তবে পুলিশের সামনে মারধর করলেও কাউকে গ্রেফতার করেননি। নাসরীন সুলতানা সুমী বাদী হয়ে সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
এব্যাপারে চকরিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, দুই পরিবারের মধ্যে জায়গার সীমানা বিরোধ রয়েছে। সোমবার সকালের দিকে বাড়ি নির্মাণ নিয়ে মারামারি করে তারা। ওইসময় মোছায়েফ নামের এক শিশুর মাথায় আঘাত পেয়েছে। দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলে অন্য পক্ষের লোকজন সাবেক এক মেম্বারকে মারধর করে। আহত নারী বাদি হয়ে এজাহার দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।##