টেকনাফে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন চিকিৎসক ; অবহেলায় রোগীর মৃত্যু!

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ফিরোজ (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সে টেকনাফ পৌর এলাকার কায়ুকখালী পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ডাঃ শোভন দাশ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে পেটে ব্যাথা নিয়ে ফিরোজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সিনথিয়া পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসাপত্র দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দেন।

ফিরোজের বাবা জানান, পেটের ব্যাথা নিয়ে সকাল ১১টায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাঃ সিনথিয়া তাকে চিকিৎসা দেন। সন্ধ্যার দিকে পেট ফুলে গেলে বিষয়টি ডাঃ সিনথিয়াকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি অমলে না নিয়ে আরো পর্যবেক্ষনের কথা বলেন। পরে ডিউটি পাল্টিয়ে রাতে ডাঃ শোভন দাশ এলে ফের তাকে পেট ফুলে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়, কিন্তু তিনি ঠিক হয়ে যাবে বলে কোন চিকিৎসা না দিয়ে পূর্বের ব্যবস্থ পত্র মতে চিকিৎসা চালানোর পরামর্শ দিয়ে চলে যান। রাতে ১২টার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে ডাঃ শোভনকে জরুরী বিভাগে খোঁজে পাওয়া যায়নি। শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোন হাসপাতালে নেয়ার কথা ভেবে দায়িত্বরত নার্সদের ডাক্তারকে ডাকার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ডাঃ শোভন বিশ্রামে রয়েছেন এবং সকালের আগে ডাকা যাবেনা বলে জানান। পরে সকাল ৭টায় ডক্টরস কোয়ার্টারে গিয়ে ডাঃ শোভনকে রোগীদের প্রাইভেট চিকিৎসারত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি এসে রোগী দেখে ৩টি ইঞ্জেকশন লিখে দেন। অনেক খোঁজে ২টি ইনজেকশন পাওয়া গেলেও অপর একটি ইঞ্জেকশনের পরিবর্তে অন্য কোন ইনজেকশন লিখে দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা আমলে নেননি। অবশেষে সকাল ৭টায় টয়লেটে যাওয়ার সময় পড়েগিয়ে তার মৃত্যু হয়।

এই বিষয়ে ডাঃ শোভন দাশের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি রাতে যখন ডিউটিতে আসি তখন রোগীর অবস্থা ভালো ছিলো। রাতে রোগীর অবস্থা অবনতির বিষটি আমাকে কেউ কিছুই জানায়নি। তবে তিনি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ডক্টরস কোয়ার্টারে অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

টেকনাফ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, আমি ছুটিতে চট্টগ্রাম অবস্থান করছি। বর্তমানে হাসপাতালের দায়িত্বে আছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ এনামুল হক। আমার চেয়ে বিষয়টি তিনি ভালো বলতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে আমি খোঁজ খবর নিয়েছি। দায়িত্বরত চিকিৎসকের কোন অবহেলা ছিলো কিনা সেটি তদন্তের জন্য উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসকদের কোন অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।