চকরিয়ার বদরখালী সমিতির নির্বাচন ঘিরে সরগরম উপকূলীয় জনপদঃ ভোটযুদ্ধে ৩৮ প্রার্থী

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

এম জিয়াবুল হক : আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সমবায় প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বহুল প্রতিক্ষিত ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী সমিতির ১২ পদের বিপরীতে মোট ৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা পরবর্তী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়ার মধ্যদিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সভাপতি পদে ৪জন, সহসভাপতি-৫ জন, সম্পাদক পদে ৫জন এবং ৯টি ব্লকে পরিচালক পদে ২৪ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে রয়েছেন।
নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি-পদে লড়ছেন ৪জন। তারা হলেন প্রবীণ সমবায়ী সাবেক তিনবারের সম্পাদক দেলোয়ার হোছাইন এমএ (গোলাপ ফুল), সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল হান্নানের বড়ছেলে নুরে হাবিব তছলিম (ছাতা), বর্তমান কমিটির সভাপতি নুরুল আলম সিকদারের ছেলে ছরওয়ার আলম সিকদার ( চেয়ার) ও মনজুর আলম (ডামি প্রার্থী)।
সহসভাপতি পদে ভোটযুদ্ধে আছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আলী মোহাম্মদ কাজল (বাই সাইকেল), নতুন প্রার্থী আনছারুল করিম (মই), কামাল উদ্দীন বাবুল (হাঁস), মাস্টার মকবুল হোছাইন (কলসি), ও আহমদ উল­াহ (ডামি প্রার্থী)।
সমিতির আলোচিত পদবী সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে ভোটের মাঠে আছেন পরীক্ষিত সমবায়ী নেতা ও সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী (দেওয়াল ঘড়ি), সাবেক প্রয়াত সম্পাদক ইকবাল বদরীর ভাই এ এম এস্তেফাজুর রহমান (আনারস), নতুন মুখ মইন উদ্দিন (চাকা)। অন্য দুইজন নজরুল ইসলাম ও আরিফ জুনায়েত রাসেল (ডামি প্রার্থী)। এখানে মুলত ভোট যুদ্ধ হবে প্রথম তিনজনের মধ্যে।
সমিতির ৯টি ব্লক থেকে নির্বাচিত হবেন ৯জন পরিচালক। এখানে ৯টি পদের বিপরীতে ভোটযুদ্ধে আছেন ২৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন বর্তমান কমিটির সদস্য জসিম উদ্দিন টিটু, শাহাব উদ্দিন শাকিল, আব্দুল আজিজ, মোজাহার আহমদ, আবুল হাসনাত মো পারভেজ, নাজেম উদ্দীন, কতুব উদ্দীন, মেম্বার বখতিয়ার উদ্দিন রুবেল, রেজাউল করিম বাদল, নাজিম উদ্দিন,জয়নাল আব্দীন, নুরুল কাদের,মো বেলাল উদ্দীন,জিয়া উদ্দীন,হামিদ উল্লাহ, মো নাছির উদ্দীন, জাফর আলম, এস এম শওকত ওসমান, সিরাজুল হক, মেজাফ্ফর আহমদ, কুতুব উদ্দীন সোহেল, আব্দুল কাদের মানিক, আহমদ আলী মাজু, , মোহাম্মদ নুরুল কাইছার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অবিশ্বাস হলেও সত্যি যে বদরখালী জনপদের চারদিকে এখন নির্বাচনী উত্তাপ বিরাজ করছে। উৎসবের আমেজ সাজ সাজ অবস্থা চলছে উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীতে। পরিস্থিতি দেখে যে কারো মনে হবে এখানে যেন জাতীয় নির্বাচনের উৎসব চলছে। উপনিবেশ সমবায় আইন অনুযায়ী তিন বছর পর পর অনুষ্টিত হয় সমিতির বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচন।
বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গেল দুইমাস আগে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষনা করা হয়। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান এবারকার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক। তার তত্তাবধানে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দুইজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা যথাক্রমে চকরিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার জাহাংগীর আলম ও কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় অফিসার মো.রমিজ আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন।
এশিয়ার বৃহত্তম জনপদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে ৫০ হাজার জনগোষ্টির সম্পদ বদরখালী সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতি। এখানে মোট ভোটার ১৫০০ জন। তারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আগামী তিনবছরের জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত করব্নে। অবশ্য তফসিল ঘোষনার পর পুরো বদরখালীজুড়ে ভোটার ও সাধারণ জনগনের মাখে উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। আর প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচার প্রচারণা ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বদরখালী বাজার, গ্রামের অলিগলি প্রার্থীদের তোরন ব্যানার পেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থীরা পক্ষে ভোটারদের কাছে ও প্রচারণায় তুমুল প্রচারনা চালাচ্ছেন। চারিপাশে প্রার্থীরা তাদের নিজেদের মত করে বিভিন্ন আশা প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে পোষ্টার ব্যানারের মাধ্যমে নিজ নিজ পরিচর ফুটিয়ে তুলছেন।
প্রচার প্রচারণায় শুধু এখানে সীমাবদ্ধ নয়। তৈরা করা হয়েছে বাজারের মোড়ে মোড়ে সহ মহেশখালী সেতুর পূর্বপাড়-বদরখালী ফেরীঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রার্থীদের তুরং, লাগানো হয়েছে বিলবোর্ড। তৈরি হয়েছে বদরখালী জুড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় বদরখালী বাজার জুড়ে প্রার্থীদের পদচারণা। বাজারের গুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সড়কে প্রার্থীদের আনাগোনা দেখা গেছে। প্রতিদিনই প্রার্থীদের মাইকে আওয়াজ ও নির্বাচনী গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো বদরখালী জনপদ। পাশাপাশি চলছে প্রার্থী ও সমর্থকদের স্বাগত মিছিল।
প্রচার রয়েছে, নির্বাচনের শেষমুর্হুতে এসে বিত্তশালী প্রার্থীরা গতবারের মতো টাকা দিয়ে ভোট কিনবে। এইজন্য ইতোমধ্যে অনেকে প্রস্তুতিও নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বদরখালী সমিতির অনেক প্রবীণ ভোটার। তাদের অভিমত, নির্বাচনের সময় টাকা দিয়ে যে প্রার্থী ভোট কিনবে, তিনি বিজয়ী হলে পরে সমিতির তহবিল নয়ছয় করে সেই টাকা হাতিয়ে নেবে। তাই টাকা দিয়ে নয়, বরং সভাপতি ও সম্পাদক পদে সৎ যোগ্য ও পরীক্ষিত সমবায়ী এবং ন্যায় বিচারক দেখে সেই প্রার্থীকে ভোট দেওয়া সবার উচিত।
অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে সম্পাদক পদে ভোটযুদ্ধে আছেন সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত সময়ে দায়িত্বপালনকালে আমি সবার আগে সমিতির স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। চেষ্ঠা করেছি, সমিতির উন্নয়ন ও আয়েরখাতকে সুপরিসর করতে। কাজ করেছি বদরখালীবাসির ভাগ্যউন্নয়নে।
তিনি বলেন, আমি সমিতির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সবার মাঝে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সতেষ্ট ছিলাম। প্রতিটি মসজিদ মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। ইনশাল­াহ এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে সমিতির সার্বিক অগ্রগতি উন্নয়ন ও সভ্য পোষ্যদের অধিকার মর্যাদা নিশ্চিতে কাজ করবো।

সম্পাদক প্রার্থী এএম এস্তাফেজুর রহমান বলেন, আমার প্রয়াত ভাই একেএম ইকবাল বদরী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানএ ছিলেন তিনি। সমিতির দায়িত্ব পালন কালে ইকবাল বদরী সভ্য পোষ্যদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। বদরখালী সমিতিকে নতুন ভবন উপহার দিয়ে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রুপ দিয়েছেন। আম আশাবাদী সম্মানিত সভ্যরা আমাকে বিজয়ী করে আমার ভাই ইকবাল বদরীর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে সুযোগ দেবেন।
অপর সম্পাদক প্রার্থী মইন উদ্দিন বলেন, বদরখালী সমিতির সভ্য পোষ্যরা পরিবর্তন চান। সেই চেতনাকে ধারণ করে এবারের নির্বাচনে সমিতির স্বার্থরক্ষা ও সভ্যদের অধিকার সুনিশ্চিতে আমাকে বিজয়ী করবে।
সভাপতি প্রার্থী প্রবীণ সমবায়ী দেলোয়ার হোছাইন এমএ বলেন, বদরখালী সমিতির ইতিহাসে প্রতিটি সংকটময় মুর্হুতে সম্পাদক পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছি। সমিতির স্বার্থে সব সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবেলা করেছি। জটিলতা হলে আইনীভাবে মোকাবেলা করেছি। কোনদিন সমিতিকে পরাজিত হতে দেইনি। এখন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে বদরখালী সমিতি। সেইকারণে বহিরাগত দখলবাজরা বদরখালী সমিতির সম্পদ লুটে নিতে অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। আমি মনে করি, সংকটময় পরিস্থিতি উত্তোরণের জন্য বদরখালী সমিতির সভ্য পোষ্যরা ইনশাল­াহ এবারের নির্বাচনে আমাকে বিজয়ী করবেন।
বদরখালী সমিতির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান বিএ। শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরুস্কারও পেয়েছেন আবদুল হান্নান। এবারের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সেই আবদুল হানান্ন মিয়ার বড়ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা নুরে হাবিব তছলিম। জানতে চাইলে নুরে হাবিব তছলিম বলেন, আমার বাবা মরহুম আবদুল হান্নান বিএ’র আর্দশ ধারণ করে বদরখালীবাসির সু:খ দু:খের সারথী হিসেবে কাজ করতে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আমার বাবা যেমন বদরখালী সমিতিকে অনন্য উচ্ছতায় নিয়ে গেছেন, তেমনি বদরখালী ইউনিয়নবাসিকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়েছেন।
সম্পদ সমৃদ্ধ ও মেধানির্ভর আজকের বদরখালী প্রতিষ্ঠার পেছনে যে কজন মানুষ ভুমিকা রেখে গেছেন, তাদের মধ্যে আমার বাবা মরহুম হান্নান মিয়া ছিলেন একজন। যার সম্মাণে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারের মন্ত্রী সাংসদরা বদরখালীতে আসেন। এইজন্য আমার পরিবার ধন্য, গর্বিত প্রিয় বদরখালীবাসি। তাই সবাইকে বলবো পরিবর্তনের শপথ নিন, বদরখালী সমিতিকে উন্নয়ন সমৃদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠাণে পরিণত করতে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ছাতা মার্কায় ভোট দিয়ে এগিয়ে থাকুন।
সভাপতি পদে লড়বেন ছরওয়ার আলম সিকদার। তিনি বর্তমান কমিটির সভাপতি নুরুল আলম সিকদারের ছেলে। অভিমত জানিয়ে ছরওয়ার আলম সিকদার বলেন, আমার বাবা নুরুল আলম সিকদার পরপর তিনবার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সমিতির সার্বিক উন্নয়ন ও সভ্য পোষ্যদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেছেন। সেই কারণে সম্মানিত সভ্যরা তাকে বারবার বিজয়ী করেছেন। আমি মনে করি আমার বাবার হাতধরে এগিয়ে চলা সমিতির উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সম্মানিত সভ্যরা চেয়ার মার্কায় ভোট দিয়ে খাদেম হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেবে। ##