পরিবেশের বিপর্যয় ও জেলেদের অসচেতনতাসহ নানা কারণে বঙ্গোপসাগরে বিচরনকরা সামুদ্রিক কাছিম বা কচ্ছপের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

কোডেকের উদ্যোগে সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণ গবেষণার রিপোর্ট পেশ সেমিনার অনুষ্ঠিত

আজিজ উল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে ইউএসআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)এনজিওর ন্যাচার এন্ড লাইফ প্রজেক্টের উদ্যোগে সমুদ্রের কাছিমের”ভেলিডিশন ওয়ার্কশপ” বাংলাদেশের সোনাদিয়া থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত এলাকায় সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণের উপর গবেষণা কর্মশালার ফলাফল বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কাছিমের উপর দীর্ঘ ৩ মাস ধরে চালানো গবেষণার ডকুমেন্টারি রিপোর্ট পেশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফরিদ আহসান।
জানা যায়, সোমবার( ২৯ অগাস্ট) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা অবধি কক্সবাজার কলাতলি হোটেল সী প্যালেসের হল রুমে এনজিও কোডের উদ্যোগে সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণের উপর গবেষণা বিষয়ক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দু রহমান।
এসময় উক্ত কর্মশালায় কাছিম সংরক্ষণের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা থেকে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। প্রকল্প পরিচালক শীতল কুমার নাথের সঞ্চালনায় উদ্ভোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কোডেকের উপ-নির্বাহী প্রধান কমল সেনগুপ্ত।
অংশগ্রহনকারী ব্যাক্তিগণ সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কক্সজারের সোনাদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, কাছিম সংরক্ষণে সরকারী-বেসরকারী সমন্বিত উদ্যোগ এবং জেলেদের জাল থেকে কাছিম যাতে নিরাপদে বের হতে পারে তার জন্য জালে টিইডির ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন,” সমুদ্র চরের বালিয়াড়ি সাগরে তলিয়ে যাওয়ার পিছনে উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ঝাউগাছ রোপনকে দায়ী করেন এমন কি বালিয়াড়ির দিয়ে মেরিনড্রাইভের কিয়দংশ নির্মিত হওয়ার সমুদ্রের ভয়ানক ঢেউ সরাসরি মেরিনড্রাইভে আঁচড়ে পরছে এতে করে সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়তে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক প্রফেসর ড. মো. ফরিদ আহসান বলেন,” দীর্ঘ তিন মাস ধরে কক্সবাজারের সোনাদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন অবধি সমুদ্রে সামুদ্রিক কাছিমের উপর গবেষণা চালিয়ে ৫ প্রজাতির কচ্ছপের সন্ধান পেয়েছি এবং সেন্টমার্টিন বালিয়াড়িতে কুকুরের উপদ্রবে কাছিমের ডিম ধ্বংস হয় এছড়া সমুদ্র কাছিম সংরক্ষণে কোডেকের দুটি হ্যাচারিসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কাছিমের ডিম সংরক্ষণের জন্য ২২টি কাছিম সংরক্ষণ কেন্দ্রের স্থাপনা বা অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছেন বলে জানান তার গবেষণালব্ধ রিপোর্টের ফলাফল পেশকাল।”
এছাড়া এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেরিন সাইন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নেসারুল হক, কক্সবাজার পরিবেশ বিভাগের ডিডি মো. হাফিজুর রহমান, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা( ডিএফও) সারওয়ার আলম, এসিএফ ড. প্রনাতুষ রয়, রফিকুল আলম চৌু. , বন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ফিশারি বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান, কোডেকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কামাল সেনগুপ্ত,পিডি শিতাল কুমার নাথসহ বন বিভাগের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতারা,পরিবেশ উন্নয়নের সংগঠনের কর্মীরা, বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মীরাসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।