শামীম ইকবাল চৌধুরী : রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নে পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে অপহরণ মামলা সাঁজাতে গিয়ে পুলিশের ভূয়সী ভূমিকার কারণে ব্যার্থ হয়েছে এক যুবক। তাঁর নাম ফারুক আজম। সে গর্জনিয়ার থিমছড়ি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ২ জুলাই রাত ১০টায় ৯৯৯ এ ফারুক আজম তাঁর বোন শাহীনা আক্তার (৪০) কে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করেছিলো। কিন্তু রামু থানার নিয়ন্ত্রণাধীন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ৩ জুলাই রাতে গর্জনিয়ার জাউচপাড়া গ্রাম থেকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে বের করে। এ কাজে সহযোগিতা করেন স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য কমরুন্নাহার।
৪ জুলাই সোমবার দুপুরে
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন- “শাহীনা আক্তার মেয়েটি নিজেই আড়ালে থেকে ভাই ফারুক আজমকে দিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে অপহরণ নাটক সাঁজাতে চেয়েছে। যেটা আমরা ব্যার্থ করে দিয়েছি। সাঁজানোর বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাঁজানোর কথা স্বীকার করেছেন।
পরে তাঁকে ভাইয়ের হাতে হস্তান্তর করেছি।”
স্থানীয় সূত্র জনায়- গর্জনিয়ার থিমছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের পুননির্মাণ কাজ চলাকালিন সময়ে ক্লিনিকের জমি দখলের চেষ্টা চালান স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম গং। তাঁরা আদালতে একটি মামলাও করেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে করা সেই মামলা খারিজ করে দেন আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলামের ছেলে ফারুক আজম, হারুনর রশীদ ও মেয়ে শাহীনা আক্তার নানা তালবাহানা করছে। যাতে করে থিমছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মরতরা ফেঁসে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
তবে ফারুক আজমের দাবি- তাঁর বোন শাহীনা আক্তারের মানসিক সমস্যা রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সকলের কাছে দু:খ প্রকাশ করেন।
গর্জনিয়ার থিমছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জুলেখা খানম বলেন- “আদালতের নির্দেশনা না মেনে ক্লিনিকের জমি দখলের জন্য শাহীনা আক্তারের পরিবার উঠেপড়ে লেগেছে। শাহীনা স্থানীয় রোগীদের অশ্লীলভাবে গালিগালাজ করে। সে জমি দখলে নিতে না পারলে প্রাণ কেড়ে নিবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ক্লিনিকের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করবো।”
