হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশনের গত ২৫বছরে বহুমূখী কার্য্যক্রম

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা। এই উপজেলার একটি ইউনিয়ন হ্নীলা। আর এই ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ফুলের ডেইল। আজ থেকে ২৫ বছর আগে ১৯৯৮ সালের ৫মার্চ টেকনাফ উপজেলার সর্বপ্রথম চিকিৎসক ডা. জামাল আহমদ প্রতিষ্ঠা করেন হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন। বর্তমানে অসহায় ও দুস্থ টেকনাফবাসীর অন্যতম আশ্রয়স্থল, জনসেবার অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ফাউন্ডেশন অত্র এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ২৫বছরের পূর্ণতা পেয়ে আজ তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এক বিশাল মহীরূহ। ফাউন্ডেশনের বর্তমান নিয়মিত কার্য্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, শিক্ষা সহায়ক প্রকল্প, গণ পাঠাগার (ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র), কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং বার্ষিক চিকিৎসা শিবির। ডা. জামাল আহমেদের পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা আবুল হাশেম, মা গুলফরাজ বেগম। এলাকায় দানবীর এবং গরীব, মেহনতী মানুষের সেবা প্রদানের জন ̈ মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের ব্যাপক সুনাম ছিল। টেকনাফ উপজেলার প্রথম চিকিৎসক হিসেবে যখন ডা. জামাল আহমদ এম.বি.বি.এস ডিগ্রী প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর ছেলে ডা. জামালকে গ্রামের আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত গরীব-দুঃখী মানুষের সেবা করার কথা বলেন। বাবার নির্দেশ পালন করতে গিয়েই এক সময় ডা. জামাল অনুভব করলেন এই সেবা তো বাড়ীতে বসে করা সম্ভব নয়। এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন। এইভাবেই ডা. জামালের কয়েকজন চিকিৎসক বন্ধু, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছোট্ট পরিসরে ফুলের ডেইল গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন’। দীর্ঘদিনের প্রত ̈াশা, মেধা আর শ্রমের সার্থকতা এখন খুঁজে পাওয়া যায় হ্নীলা ফুলের ডেইল গ্রামে। নিজস্ব ভবনে চলছে ফাউন্ডেশনের বহুমুখী কার্য্যক্রম। জনহিতকর কাজ বৃহত্তর আঙ্গিকে পরিচালনা করা কোন এক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সাংগঠিনক ভিত্তি। আর তাই এই ২৫বছর পর ডা. জামাল আহমদ এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। এইভাবে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া কোন ভাল কাজই সার্থকতা পায় না। ফাউন্ডেশনের ভিত্তি প্রস্তুতকালে কিছুটা দ্বিধা-দ্ব›দ্ব থাকলেও পরবর্তীতে সকলের সহযোগিতায় এই বিশাল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

একদিকে পেশাগত ব্যস্থতা, অন্যদিকে জনকল্যাণকর কাজের বিশাল পরিধি। এই দুইয়ের সম্মিলন ঘটিয়ে ডা. জামাল আহমদ সমগ্র টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সাড়া জাগানো কাজ করেছেন। যার ফলশ্রæতিতে বলা যায়, সুদীর্ঘ ২৫বছরধরে ‘হ্নীলা ̧লফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন’ একটানা কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ২৫ বছরে ফাউন্ডেশনের বহুমূখী কার্য্যমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ : হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হাশেমিয়া দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারী দ্বারা দৈনিক চিকিৎসা সেবা, মেডিকেল অফিসার দ্বারা সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা মাসিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। তাছাড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির। এদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। বিশেষ রোগীদের ইকো ও ইসিজি করা হয়। ২০১৫ সালে মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা। এতে মিনি অপারেশন যেমন-হার্নিয়াম পাইল্স, খৎনা ও কর্ণছেদন ইত্যাদি করা হয়। নি¤েœ গত ২৫ বছরের দৈনিক, সাপ্তাহিক, মসিক ও বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবিরে রোগী দেখার খতিয়ান ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের চিত্র তুলে ধরা হলো-
১৯৯৮সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৮৮৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২২৩জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১২৬ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৭৬১ জনসহ মোট ১৯৯৯ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১০২৩ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২৪৫ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৫৬ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬১০জনসহ মোট ২০৩৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০০ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৮৬৩ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২২৩ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১২১জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬৫৬ জনসহ মোট ১৮৬৩ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০১সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৬৯৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২৪০ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ৩০২ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫০২ জনসহ মোট ১৭৪৩ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০২ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৫৫৬ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৮৭৬ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৫৩ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫৪৩ জন,খৎনা : ৪০জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৯৯ জনসহ মোট ২১২৮ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৩ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৫৮৯ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২২৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৮৯ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬৪০ জন, খৎনা : ৬০ জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১১০ জনসহ ১৭০২ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৪ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৫৪৮ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ১৯৮ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১১৭ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫৭০জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২০০জন, খৎনা : ৬০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ২২৬ জনসহ মোট ১৬৯৩ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৫ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৪০৪ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৪৯২জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ৫৫ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬২৫জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২০০জন, খৎনা : ২০০ জনসহ মোট ১৭৭৬ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৬ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৪২৬ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২৯৫ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১০১ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬০০ জন,খৎনা : ৮০ জন,কর্ণছেদন : ১৫০ জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৮১৯জনসহ মোট ৩০০১ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৮ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৫৬৬৯ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৬৪২ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৪৯ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫২৫ জন,খৎনা : ৬০ জন,কর্ণছেদন : ১৪০ জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ৪০০১ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ১৬৭ জনসহ মোট ৬৯৮৫ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৯ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৪৭৫৭ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৫৩৬জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১২৮ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫৬৫ জন,খৎনা : ৮৬জন,কর্ণছেদন : ৬০জন,ফি ্রবøাড গ্রæপিং : ২০৫ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৯৩ জনসহ মোট : ৫৯৮৬জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১০ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৪০২৭ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৬৭৯ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৮৭জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫৩০জন, খৎনা : ১০০ জন,কর্ণছেদন : ১০০জন,ফ্রি বøাড গ্রæপিং : ২১৯জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ১৭৩জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ২৬০০জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০০জন শিক্ষার্থীদেরকে কৃমি ও ভিটামিন সেবনসহ মোট ৫৪২৩ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১১ সাল দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৩৫৩০ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৫১৫ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২৫৬ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৮৪৩জন,হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন খৎনা : ১০০ জন, ফ্রি বøাড গ্রæপিং : ২১৯ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ১৩৬জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ২০০৬ জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০০ জন শিক্ষার্থীদেরকে কৃমি ও ভিটামিন সেবনসহ মোট ৫১৪৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১২ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৩৩৪১ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৬১৫ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১৫৪ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৪৫৯ জন, খৎনা: ৯৬ জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২০০ জন, কিডনী পরীক্ষা : ১০০ জন, ইকো : ১৫ জন, ইসিজি : ৫০ জনসহ মোট ৪৫৬৯ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৩সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৩৭৯৮জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৫১৮জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২৯৩জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬৬৫ জন,খৎনা : ৯৭ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২০০জন,কিডনী পরীক্ষা : ১০০ জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ৩৬৯১ জনসহ মোট ৫২৭৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৪ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ৩৪৪৭জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৪৭৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২৩২জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬৫৬জন,ইকো : ১৬জন, ইসিজি : ৩৬জনসহ মোট ৪৮০৯জন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৫ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১৯৫১জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৪৭৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২২৪ জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬১১ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৯০০জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৮০ জন, ইকো : ১১জন, ইসিজি : ৩২জনসহ মোট ৩২৬০ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৬ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১৮৬৬ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২০৮জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২৫০জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৬১১জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৩৭২ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৮০ জন, খৎনা : ২১৫ জন,মিনি অপারেশন : ২৪ জন,ইকো : ১১ জন,ইসিজি : ২০ জনসহ মোট ৩২৬০জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৭সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১৭৩৬ জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ১২৭ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২০৭ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৩২৮জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৬৪০ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৮০ জন, খৎনা : ১৫২ জন,মিনি অপারেশন : ২৬জন,ইকো : ১৩ জনইসিজি : ২৩ জনসহ মোট ২৩৯৮জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০১৮ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১১৬৫জন, সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৩৭০জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২৮০জন, বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৭৪৬জন কর্ণছেদন : ৩৩০ জন,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১১০৮জন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২০০ জন,খৎনা : ২৬০জন,মিনি অপারেশন : ৩৩ জন,ইকো : ২২ জন, ইসিজি : ২৫ জনসহ মোট ২৫৬১ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
২০১৯ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১৬৮৫ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২২৪ জন, মাসিক চিকিৎসা সেবা : ৩২৮ জন. বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির : ৫৩১ জন,কর্ণছেদন : ২১০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১০৮৯ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ২৬১০ জন,খৎনা : ২৫৯ জন,মিনি অপারেশন : ১৪ জন,ইকো : ১৬ জন, ইসিজি : ২৬ জনসহ মোট ২৭৬৮ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০২০সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ১৮০০জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ১৪৪ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা, কর্ণছেদন ও বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ ছিল,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৫৫০ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৬৫৭ জন,ক্রিয়েটিনিন : ৭১ জন,খৎনা : ৩১৩ জন, ইসিজি : ১৪ জনসহ মোট ১৯৪৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০২১ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ২০০৭ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ২৩২ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ১১ জন,বার্ষিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শিবির: করোনার কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, কর্ণছেদন : হয়নি,ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৮০২, ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৫৬২ জন, ক্রিয়েটিনিন : ৫৭ জন, খৎনা : ৫৬৫ জন,ইসিজি : ৬ জনসহ মোট ২২৫০ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

২০২২ সালে দৈনিক চিকিৎসা সেবা : ২১০০ জন,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবা : ৩০৮ জন,মাসিক চিকিৎসা সেবা : ২০০ জন, ফ্রি ঔষধ বিতরণ : ১৭২৬ জন,ডায়াবেটিস পরীক্ষা : ৬৬৫ জন,ক্রিয়েটিনিন : ৪৮জন,খৎনা : ৬১৪ জন, মিনি অপারেশন : ৬ জন, ইসিজি : ১৮ জনসহ মোট ২৬০৮ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২৫ বছরে ফাউন্ডেশনের আউটডোরে দৈনিক চিকিৎসা সেবায় মোট ৪৯,২৭৬জনকে,সাপ্তাহিক চিকিৎসা সেবায় ৮,৮৫৪ জনকে, মাসিক চিকিৎসা সেবায় ৪,২১৯ জনকে, বার্ষিক চিকিৎসা সেবায় ১২,৫৬৩ জন রোগীসহ মোট ৭৪,৯১২ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। মেডিকেল ডে-কেয়ার সেন্টারে ৩,৩৫৭ জনের খৎনা, ৯৯০ জন মেয়ে শিশুদের কর্ণছেদন এবং ১১৫ জনের বিভিন্ন ধরনের মিনি অপারেশন করা হয়েছে। প্যাথলজিতে ৬,৩০৬ জনের ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ২৫১ জনের ইসিজি এবং ১০৪জনের ইকো করা হয়েছে। এছাড়া ২৭, ৪৩৯জন গরীব রোগীদেরকে ফ্রি ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া কিডনী ক্যাম্প : শিশু স্বাস্থ্য, মাতৃদুগ্ধ পান, শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হৃদরোগ, হাড়ভাঙ্গা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, নিরাপদ মাতৃত্ত¡, হাইপার টেনশন, বয়সন্ধিকালের নানান সমস্যা, শ^াসকষ্ট, কিডনী, বাতজ¦র, মাতৃকালীর স্বাস্থ্যসেবা, হৃদরোগ সার্জারী, ডায়াবেটিস, অশর্^রোগ, স্তন ক্যান্সার কি ও কেন? প্রতিরোধের উপায়, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্রমবিকাশ, প্রচলিত গ্রামীণ ধাত্রী সেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা এবং ডেলিভারী সামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য সমীক্ষা ও উপজেলা ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনা বিষয়ক সেমিনার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

তাছাড়াও ক্যান্সার বিষয়ক পরামর্শ কেন্দ্র : ২০১১ সালে বিশেষ আয়োজন ছিল মহিলাদের জরায়ু মুখ ক্যান্সার নির্ণয় ক্যাম্প। এতে ১৩২ জন রোগীর ক্যান্সার নির্ণয় পরীক্ষা করা হয় তার মধ্যে ২৫ জন রোগীর ক্যান্সার শনাক্ত করা হয় এবং তাদেরকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।

২০১২সালে ফাউন্ডেশন কিডনী রোগীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে ১০০ জন রোগীর কিডনী ঈৎবধঃরহরহব (ক্রিয়েটিনিন) পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ৯ জন রোগী কিডনী রোগ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ডায়াবেটিস ক্যাম্প : ২০১৬ সালে ফাউন্ডেশন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে ২৪৬জন রোগীর ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং গরীব ডায়াবেটিস রোগীদেরকে বিনামূল্যে ঔষধ ও ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতি বছর বার্ষিক চিকিৎসা শিবিরে ডায়াবেটিস ক্যাম্প তো আছেই।

২০১৯সালের ৮ফেব্রæয়ারী হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন ও কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় “হ্নীলা গুলফরাজ-হাশেম ফাউন্ডেশন ডায়াবেটিস সেন্টার”। এতে এ পর্যন্ত ২৫০ জন ডায়াবেটিস রোগী রেজিস্ট্রেশন সম্পনড়ব করে। রেজিস্টার্ড রোগীদেরকে প্রতি ২মাস অন্তর নামে মাত্র মূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসা প্রদান হয়। এ পর্যন্ত ১৩টি ডায়াবেটিস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বার্ষিক চিকিৎসা শিবিরে ১৪তম ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন রোগের উপর সচেতনতামূলক বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পর্যন্ত ডায়াবেটিস সেন্টার থেকে ২৭ জনকে ফ্রি ডায়াবেটিস পরীক্ষার মেশিন এবং ১৬জন গরীব রোগীকে নিয়মিত বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় গত ২৫বছরে গুহাফা মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৫,৮৪১জন শিক্ষার্থী অংশ-গ্রহণ করেছে। এতে ৯৯ জনকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং ৫৭৬ জনকে সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫৯ জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কম্পিউটার সেন্টার থেকে গত ২৫ বছরে ৯৪৫ জন শিক্ষার্থী কম্পিউটার কোর্স সম্পন্ন করেছে। ফাউন্ডেশনের গণপাঠাগার থেকে গত ২৫ বছরে ৪৮,৫৬৭ জন পাঠক জ্ঞান আহরণ করেছে। গত ২৫ বছরে ৫৫ জন গুনীজনকে চিকিৎসা, শিক্ষা ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

ডাঃ জামাল আহমেদ আশা প্রকাশ করেন,অত্র উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে সুস্বাস্থ্যবান, শিক্ষিত ও প্রযুক্তি নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য অত্র ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে। পেরিয়ে আসা বিগত দিনগুলোর মতো সকলের সহযোগিতায় মানব কল্যাণমূলক কাজে এই সামাজিক সংগঠনটি আরো বহুদূর এগিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত। ###