মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : হ্নীলায় বহু বিবাহ পাগল এবং মামলাবাজ পিতার বিরুদ্ধে নিজের জন্ম দেওয়া মেয়েকে মিথ্যা অপহরণ ও শ্লীলতাহানি চেষ্টা মামলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভিকটিম। এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
১৭ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মামলা নং-সিআর-১৮০/২০২১ইং ভিকটিম ছৈয়দ আলমের মেয়ে সাবিনা আক্তার (১৪) জানান, এই মামলার বাদী আমার জন্মদাতা পিতা হন। তিনি একে একে ৭টি বিবাহ করেন। তিনি আমাদের বর্তমানে সন্তানের নিয়মিত ভরণ-পোষণ না দিয়ে সন্তানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। এখন আমরা কোন প্রকারে বাহিরে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। এমতাবস্থায় আমার পিতা বিবাহিত জনৈক রোহিঙ্গা ইয়াছিন নামে এক সৎ মাকে ভিকটিম সাজিয়ে আদালতে উপরোক্ত মামলাটি দায়ের করেন। উক্ত মামলায় যা বলা হয়েছে আমার জীবনে আমি এই ধরনের কোন পরিস্থিতির শিকার হয়নি। বর্তমানে মায়ের সাথে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রয়েছি এবং তিনি যে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আমার জনৈক সৎ মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েই গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে আহত হওয়ার চিহ্ন। আমার পিতার একাধিক বিয়ের নেশা এবং ছেলে-মেয়ের ভরণ-পোষণ না করায় সমাজসহ স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সালিশ থাকলেও তিনি তা মানতে রাজি না। তাঁর জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা। আমরা তা না করতে নিষেধ করায় তিনি আমাদেও উপর ক্ষুদ্ধ হন। বরং আমার মত একজন মেয়ের জীবনকে কলুষিত করে মামলাবাজির টাকা আয়ের পথে পা দেয়। আমি এই ব্যাপারে এলাকার জনপ্রতিনিধি,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সুশীল সমাজের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উক্ত মামলাবাজ ছৈয়দ আলমের ২য় স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৬) জানান,আমার সংসারে ৫জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তিনি এখন আমার ভরণ-পোষণ দেয়না। এই ব্যাপারে আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। তারপরেও পর্যায়ক্রমে আরো ৫টি বিয়ে করে। এখন কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আমার যুবতি মেয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যা মামলায় এলাকার নিরীহ মানুষ জনকে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে এই ষড়যন্ত্রের রহস্য বের করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য,গত ১৪জুন টেকনাফের হ্নীলা লেচুয়াপ্রাং এলাকার মৃত কাদির হোছনের পুত্র ছৈয়দ আলম (৫৪) টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মামলা নং-সিআর-১৮০/২০২১ইং দায়ের করে। এতে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় আপন ভাগিনা নুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ রুবেল (২৪), মোহাম্মদ সোহেল (২২), ভাতিজা নুর আহমদের পুত্র মুহিবুল্লাহ, সালেহ আহমদের পুত্র সাইফুল ইসলাম, নুর আহমদের পুত্র হামিদুল্লাহকে আসামী করে। যা নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত ছৈয়দ আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোন (০১৮৭৩-২১৩২৪১) এ বার বার যোগাযোগ করতে চাইলে সংযোগ না পাওয়ায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,তিনি একজন বিবাহ পাগল এবং মামলাবাজ প্রকৃতির মানুষ। এই মামলায় যা বলা হয়েছে সেই ব্যাপারে তার ভিকটিম মেয়ে এবং স্ত্রী কিছুই জানেনা। সুতরাং একটি মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির কোন প্রশ্নই উঠেনা। তিনি এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###
