হ্নীলায় কয়েকটি স্থানে দেশীয় মদ ও ইয়াবা সেবীদের অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অর্জনের লক্ষ্যে টেকনাফ উপজেলায় নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী এবং সুবিধাভোগী মহলের ইন্ধনে মাদক চোরাচালান কৌশলে চলে আসলেও কয়েকটি স্থানে এখনো দেশীয় মদ উৎপাদন এবং খুচরা ইয়াবা বিকক্রয়ের স্থান সমুহে সেবন অব্যাহত রয়েছে। এসব মাদক সেবনে মাতালদেও মাতলামিতে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্রে অভিযোগ উঠেছে। তাই এসব দমনের জন্য জোর দাবী উঠেছে।
জানা যায়, হ্নীলা পুরান মগপাড়ায় ৩/৪টি এবং চৌধুরী পাড়ার ২৫/৩০টি বাড়িতে দেশীয় মদ তৈরীর পাশাপাশি সেবনের আসর জমে। এছাড়া অটোরিক্সা ও টমটম চালকদের সহায়তায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প, রঙ্গিখালী, আশ্রয়ন কেন্দ্র, হামজার ছড়া, ঊলুচামরী, পশ্চিম সিকদার পাড়া, ছোট লেচুয়াপ্রাং, মইন্যার জুম, মৌলভী বাজার, খারাংখালী এলাকায় সরবরাহ করে আসছে। এসব এলাকার মাদক সেবীরা মাদক সেবন করে দোকান-পাট ও রাস্তা-ঘাটে মাতলামি করায় সাধারণ মানুষ ও নারীদের চলাচল ব্যাহত করছে। আবার অনেক মাদক কারবারীরা মাদকাসক্ত হয়ে এলাকায় হুংকার দিয়ে বেড়ায়। মূলত এসব মাদক সেবীদের কারণে এলাকার মানুষ সীমাহীন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বলে একাধিক সুত্রের দাবী।
অপরদিকে হ্নীলা বৃহত্তর জাদিমোরা, নয়াপাড়া, মোচনী, দক্ষিণ লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালী, হ্নীলা পুরান বাজার এলাকার কয়েকটি স্পট, হ্নীলা দরগাহ পাড়া, আশ্রয়ন কেন্দ্র, হামজার ছড়া, পশ্চিম সিকদার পাড়া, সিকদার পাড়ার উত্তরের বিল পাড়া, উলুচামরী, ছোট লেচুয়াপ্রাং, মইন্যার জুম, পানখালী, হোয়াব্রাং, মৌলভী বাজার, রোজারঘোনা, আলী আকবর পাড়া ও মরিচ্যাঘোনায় খুচরা ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের আসর বসছে। এসব ইয়াবা সেবীরা মাদকের টাকার জন্য পথচারীদের বিরক্ত করে ক্ষান্ত হয়না বিভিন্ন বাসা-বাড়ির মূল্যবান জিনিস পত্র চুরি করে বিক্রি করে মাদক সেবন করছে। বলতে গেলেই চলতি করোনাভাইরাস দূর্যোগে বিভিন্ন এলাকার মানুষ অভাবের তাড়নায় থাকার পাশাপাশি কারবারী এবং সেবীদের দৌরাতেœ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। যা চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে সাফল্যের অন্তরায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ভিত্তিক মাদক নির্মূল কমিটি কাগজে-কলমে থাকলেও কোন ধরনের মাদক বিরোধী কার্য্যক্রম চোখে পড়ছেনা। এসব মাদক প্রতিরোধ কমিটির নিরবতায় মাদক কারবারী ও সেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, চলমান বিশ^ মহামারী করোনাভাইরাসের দুঃসময়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ্এলাকার মাদক কারবারী ও সেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের অবিলম্বে কঠোর হাতে দমন করা না হলে সামাজিক পরিবেশ অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
হ্নীলা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জানান, ভাই সমাজে মাদক কারবারী ও সেবীদের যে দাপট তাতে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা আতংকের। তাদের অব্যাহত হুমকিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উদ্বিগ্ন। তাই এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের বিকল্প নেই।
এসব মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণের অবাধ্য হওয়ায় আইন-শৃংখলা বাহিনী ছাড়া তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে সুত্র জানায়। তাই এসব মাদক সংশ্লিষ্টদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ###