| ছুরিকাঘাতে আহত বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, জাফর ইকবালের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, তিনি আশঙ্কামুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।
এখানে তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালে তাকে দেখতে আসেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
এর আগে শনিবার বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করে এক যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। বর্তমানে তাকে সিলেটে একটি বেসরকারি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাত ১২টার দিকে তার জ্ঞান ফিরেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল মুক্তমঞ্চে বসেছিলেন। সামনে একটি রোবট প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। হঠাৎ ওই যুবক এসে তার মাথার পেছনে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

জাফর ইকবালে ওপর হামলাকারীর গ্রামের বাড়িতে অভিযান :
বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুল হক (২৫) ওরফে ফয়জুলের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে, সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা সংস্থা ও থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে হামলাকারী সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন গ্রামের হাফেজ আতিকুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সঙ্গে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার থাকত ফজলুল। তিনি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন বলে জানা গেছে।
মঈন কম্পিউটার নামে সে একটি দোকানে কাজ করতো বলে জানা গেছে। কখনো কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী, কখনো মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবার কখনো ফেরি করে কাপড় বিক্রির আড়ালে অনেকটা রহস্যেঘেরা জীপন যাপন করতেন হামলাকারী ফজলুল।
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার এসআই শাহ আলম ভুইয়া ওই যুগান্তরকে বলেন, সিলেটের ঘটনা জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাতেই কলিয়ারকাপন গ্রাম ও স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ফজুলুলের তথ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছি।
এসএমপির জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুর রহমান্ও রোববার রাতে হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। ড. জাফর ইকবালকে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিগোষ্ঠী হুমকি দিয়েছিল। এ কারণে তাকে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তাও দেয়া হয়। সব কিছু মাথায় রেখে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। শনিবার রাতের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে আতিকুর রহমান পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে সিলেটে চলে যান। সেখানেই পরিবারের সঙ্গে ফজলুল বসবাস করে আসছিলো।
এলাকায় তেমন একটা আসা যাওয়া ছিলনা পরিবারের লোকজনের। বছরের দুটি ঈদেই কেবল আতিকুর রহমান পরিবারের লোকজনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন।
উপজেলার জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শোভা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় আতিকুর ও তার ছেলে কিংবা পরিবারের লোকজন খুব বেশি আসা-যাওয়া করতো না। মাস খানেক আগে ফজলুল কিছু কাপড় নিয়ে এসেছিলো গ্রামের বাজারে। বিক্রি করে আবার সিলেটে চলেও গেছে বলে জানতে পেরেছি।
এলাকাবাসী আরো জানায়, ফয়জুল এলাকার মসজিদকে হানাফি মাযহাবের মসজিদ দাবি করে নিজে ওই মসজিদে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকে।
উল্ল্যেখ্য, শনিবার বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের উপর হামলা করে ফয়জুল।
