ফরিদুল আলম : হ্নীলায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র পেশীশক্তির দাপট খাটিয়ে এক সৌদি প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমি জবর দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জবর দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা মৌজার আরএস ৯২৩নং খতিয়ান,এমআরআর-১০৩৬নং খতিয়ান ও বিএস ১৯২৫নং খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক সুই থোয়াইং সওদাগরের পুত্র সুইবং সওদাগরের মালিকানাধীন জমি গত ১২-০৪-১৯৭৯ইং তারিখে উখিয়া এসআর অফিসের রেজিঃযুক্ত ৯৩৩নং ও ৯৩৪নং দলিলমূলে স্থানীয় মৃত হাজী মোহাম্মদ আলীর পুত্র হাজী জালাল আহমদ খরিদমূলে ৮৪শতক জমির মালিক হন। এরপর
উক্ত ভোগদখলীয় জমির উপর বিগত দিয়ারা জরিপকালে ১৩৭৫নং ও ১৫৫০নং খতিয়ানমূলে ৮৪ শতক জমি জালাল আহমদের নামে চুড়ান্ত খতিয়ান প্রচার হয়। জালাল আহমদ মৃত্যুবরণ করলে ওয়ারিশী হিসেবে ১ স্ত্রী ছলেমা খাতুন, ৪ পুত্র সিকান্দর আলী, আব্দুল্লাহ, আব্দুল মতলব ও মোহাম্মদ ইসলাম প্রকাশ ইব্রাহীম এবং ৩ কন্যা কুলসুমা, ফাতেমা খাতুন ও আয়েশা মালিক। তৎমধ্যে ওয়ারিশী প্রাপ্ত জমিতে ভোগদখলীয় অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) টেকনাফ অফিসের নামজারী ও জমাভাগ মামলা নং-২৭৬৮/২০১৪-১৫ইং এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) টেকনাফ মহোদয়ের গত ২৯-০৫-২০১৫ইং তারিখের আদেশমতে নামজারী বিএস ৫০৫৫নং খতিয়ান ফাতেমা খাতুন ও আয়েশার নামে সৃজিত হয়। যার দিয়ারা খতিয়ান নং-১৩৭৫, ১৫৫০ এবং দিয়ারা দাগ নং-১৮৭, ১৯৩।
এদিকে হ্নীলা মৌলভী বাজারের সিকান্দর আলীর পুত্র সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ ফজল উক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশদার ফুফু ফাতেমা খাতুন ও আয়েশা হতে টেকনাফ এসআর অফিসের রেজিঃযুক্ত ২৭৩২নংমূলে গত
১৯-১১-২০১৯ইং (০.৩৬০একর +০.৩৬০একর =০.০৭২০ একর) জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমির উপর এলাকার একটি প্রভাবশালী, ভূমি দস্যু ও কুচক্রী মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। চলতি বছরের গত মার্চ মাসের শেষের দিকে প্রবাসী ফজলের ভাই জিয়াউর রহমান উক্ত জমিতে কাজ করতে গেলে স্থানীয় মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র সোলতান আহমদ, সোলতান আহমদের পুত্র নুরুল আমিন, দরবেশ আলীর পুত্র ওমর, মৃত নাজির হোছনের পুত্র নুরুল আলম প্রকাশ কালু, মোহাম্মদ আমিনসহ একটি গ্রæপ বাঁধার সৃষ্টি করেন। এই ব্যাপারে গত ৩ এপ্রিল ফজলের ভাই জিয়াউর রহমান টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। করোনা দূর্যোগের কারণে বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি কিন্তু এই সুযোগে উপরোক্ত বিবাদীরা বিরোধীয় জমিতে দোকানপাটসহ স্থাপনা নির্মাণ করে জবর দখলে নেয়।
উল্লেখ্য,ফজলের বাবা সিকান্দর আলী উক্ত জমির জন্য ২০২০সালের নভেম্বরের দিকে অভিযুক্তদের বিবাদী করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ দায়ের করেন। ইউনিয়ন পরিষদ সালিশ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ উভয়পক্ষের কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে বাদীর পক্ষে লিখিতভাবে চুড়ান্ত রায়নামা প্রদান করেন এবং সিকান্দর আলী মার্কেট নির্মাণ করে ভোগ দখলে রয়েছে। কিন্তু সিকান্দর আলীর বোনেরা একই ওয়ারিশী সম্পত্তি থেকে ফাতেমা খাতুন ও আয়েশাকে বঞ্চিত করে জবর দখলে নিয়েছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত সোলতান আহমদ জানান,আমরা আমাদের জমিতে রয়েছি।
এদিকে সৌদি প্রবাসী ফজল ফুফু ফাতেমা খাতুন ও আয়েশা হতে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য ভূমি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন। ###
