হ্নীলায় ইয়াবার প্রবর্তক বার্মাইয়া শামসু বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলেও সহযোগীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বিশেষ প্রতিবেদন : টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক কারবারী,হ্নীলায় ইয়াবার প্রবর্তক ও ১০টি মামলার পলাতক আসামী শামসুল আলম প্রকাশ বার্মাইয়া শামসু বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলে এখনো সহযোগীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
সুত্র জানায়, ২১জানুয়ারী রাত দেড়টায় টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের হাতে আটক হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়ায় অবস্থানকারী মোহাম্মদ হোছনের পুত্র শামসুল আলম প্রকাশ বার্মাইয়া শামসুকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে ওঁৎপেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও আতœরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের এসআই রাসেল, এএসআই ফয়েজ ও এএসআই আমির আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল হতে ২টি দেশীয় অস্ত্র,২০ হাজার ইয়াবা ও ১২টি কার্তূজ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল হতে বার্মাইয়া শামসুকে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। নিহত শামসুর বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট, অস্ত্র, ইয়াবা ও অন্যান্য অপরাধের ১০টি মামলা রয়েছে।
মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান।
উল্লেখ্য, নিহত বার্মাইয়া শামসু মায়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার নাগাকুরাস্থ কাছারী বিলের মোঃ হোছন প্রকাশ মাছন বলির পুত্র। প্রায় ১৫/২০ বছর আগ হতে সে এপারে চোরাচালান কাছে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়ায় অবস্থান নিয়ে জনৈক মহিলাকে বিয়ে করে এখানে আস্তানা গড়ে। টাকার বিনিময়ে অর্জন করে বাংলাদেশী জাতীয়তার সনদ।
সীমান্তে ইয়াবা চোরাচালানের প্রচলন হলে সে টেকনাফের উত্তরাঞ্চল তথা হ্নীলা-হোয়াইক্যং এলাকায় এই ব্যবসার প্রসার ঘটায়। হ্নীলা কাস্টমস ঘাট, সুলিশ গেইট, হোয়াব্রাং, মৌলভী বাজার, খারাংখালী, নয়াবাজার ও নয়াপাড়া পয়েন্টে ইয়াবা চালান খালাসের জন্য গড়ে তোলে বিশেষ সিন্ডিকেট। মাদকের বিরুদ্ধে এত কড়াকড়ি না থাকায় এসব সিন্ডিকেটের সহায়তায় অল্পদিনেই বাংলাদেশ সীমান্তে কোটিপতি বনে হয়ে যায় এই ইয়াবা ডন। তারই আর্শীবাদে স্থানীয় অনেক লেবার ও বেকার লাখপতি হয়ে অট্টালিকার মালিক বনে গেছে। আবার অনেকে চালান ছিনতাই করায় হয়রানির শিকার হয়ে পথে বসেছে।
এই নারী লিপ্সু ও সৌখিন ইয়াবা কারবারী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলে রাজ-প্রসাদ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে নামে-বেনামে অসংখ্য যানবাহনের মালিক। বাংলাদেশ সরকার এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় এই শামসু খোলস পাল্টিয়ে বিভিন্ন স্থানের প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় গিয়ে প্রশাসনের নাগালের বাইরে থাকার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বেশ কয়েক বার আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে মোটাংকের ক্ষয়ক্ষতি ও হাজত বাসের পর সে আত্নগোপনে চলে যায়। সে আতœগোপনে চলে গেলেও হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের ৬/৭টি পয়েন্ট এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালীর জাম্বনিয়া পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান খালাস অব্যাহত রাখে। কিন্তু আইন-শৃংখলা বাহিনীর কৌশলগত ভূমিকায় সেই ইয়াবা গডফাদার পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের অভিযানে গেলে বন্দুক যুদ্ধে সে মারা যায়। কিন্তু এই বার্মাইয়া শামসুর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহযোগীরা ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকায় সচেতন মহলে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।