বিশেষ প্রতিবেদক :
টেকনাফসহ পুরো দেশে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি অনুসরণ করে মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার থাকায় তিন চতুর্থাংশ মাদক অপতৎপরতা কমলেও হ্নীলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও মুখোশের আড়ালে থাকা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক মাদক কারবারীদের তৎপরতা এখনো বন্ধ হয়নি। এই চক্রের অপতৎপরতার কারণে এলাকায় মানুষের হয়রানি এবং ভোগান্তি কমেনি। তবুও মাদকসহ লোকজন আটক অব্যাহত থাকায় এখনো হ্নীলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা নিয়ে জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাই অত্র ইউনিয়নকে শতভাগ মাদকমুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।
বিভিন্ন এলাকাবাসীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, এখনো পর্যন্ত আলী আকবর পাড়ার আব্দু শুক্কুরের পুত্র রহমত করিম (২২), আবু ছিদ্দিক প্রকাশ পুতু বলীর পুত্র জালাল উদ্দিন (৩৫) সহ ১০/১৫ জনের গ্রæপ,
উলুচামরী এলাকার মৃত কালা মিয়ার পুত্র জালাল ওরফে লাশ জালাল (২১), কোনাপাড়ার জয়নাল, কালি ও মিজান, আবুল মঞ্জুরের পুত্র মোঃ আবছার উদ্দিন (২৪),ছোট লেচুয়াপ্রাং এলাকার জাফর আলমের পুত্র হেলাল উদ্দিন ওরফে নাক কাঁটা কালাবদা (৩৭), জনৈক মিয়াজীর পুত্র হেলাল (২৫), জালাল (২৬), আব্দু সালাম বঙ্গর পুত্র কালু (২৬), খোরশেদ (২৪), মোঃ আলম (১৮), লাল মিয়ার পুত্র ঈমান হোছন (৩৭), ছইল্যা বুইজ্জার পুত্র ফরিদ আলম (৩৭), বার্মাইয়া ফায়সাল (২৯), হাছিমের পুত্র আব্দুর রহিম (২৬), বড় লেচুয়াপ্রাং এলাকার আবুল হোছনের পুত্র জালাল উদ্দিন (২০), পেঠান আলীর পুত্র আব্দুল হক (২০), মৃত আবু শামার পুত্র নুর হোসাইন (৩০) সহ ৩০/৩৫জনের গ্রæপ,
পশ্চিম সিকদার পাড়ার রফিক মিস্ত্রীর ছেলে ইমরান প্রকাশ পুতিয়া (২৮), মালয়েশিয়া প্রবাসী ইসমাঈলের স্ত্রী রেহেনা বেগম (২৮), তার ভাই লেইংগ্যা জালাল (২৬), মোহাম্মদ জলিলের পুত্র ইব্রাহীম (২৫), কালু হাজীর পুত্র দেলোয়ার হোছন (২৭), জাহাঙ্গীর আলম (২৪), জামাল হোছন (৩০), উলা মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদ (২৫), আহমদ হোছনের পুত্র আব্দুল বাসেত (১৯) সহ ২০/২৫ জনের গ্রæপ,
দক্ষিণ আলীখালীর রশিদ আহমদের পুত্র ছিদ্দিক আহমদ (৩২), হায়দার আলীর পুত্র দিলদার আহমদ (৩২), নুরুল কবিরের পুত্র আব্দুল মাজেদ (২৪), রশিদ মিয়ার পুত্র কাইসার (২৫), মৃত ঠান্ডা মিয়ার পুত্র মোঃ ইসমাঈল (২৬), মোঃ সোহেল (২২), হাসান আলীর পুত্র জাকির হোছন (২০), শফি ড্রাইভারের পুত্র সরোয়ার কামাল (৩৩), জাহেদ হোছাইনের পুত্র জসিম উদ্দিন পেঠান (৩০), উত্তর আলীখালীর মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র ছালেহ আহমদ (৩৫), হাফেজ আহমদ (৩০), কামরুল ইসলাম (২৫), নুরুল হাকিম (২০), মৃত আনর আলীর পুত্র হোছন (৪০), মৃত হায়দর আলীর পুত্র হেলাল উদ্দিন (৩৫), কামাল হোছন (৪৫), আবছার উদ্দিন (৩০), জামাল হোছন মেম্বারের স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৫০), ফরিদ আলমের পুত্র দিদারুল ইসলাম জিন্নাহ (৩২), মোস্তাক আহমদ ওরফে গোজা মোস্তাক (৩০) সহ ৩০-৩৫ জনের গ্রæপ,
পূর্ব রঙ্গিখালী জুম্মা পাড়ার মৃত ছালেহ আহমদের পুত্র হেলাল উদ্দিন (৪০), মাঈন উদ্দিন (৩৫), মতুপাড়ার জাহেদ হোছন মিস্ত্রির পুত্র মোস্তফা (২৩), সরওয়ার (২৪)সহ ১০/১৫জনের গ্রæপ,
পশ্চিম লেদার কাদির হোছনের পুত্র মোঃ ছিদ্দিক (৩০), বেলা কাদিরের পুত্র মোঃ নুর (৩৫), বদর উদ্দিন সরকারের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন (৩০), আমিন উদ্দিন (২৮), পশ্চিম লেদা নুরালী পাড়ার ফজু বৈদ্যের পুত্র রবি আলম (১৮), পশ্চিম লেদার আবুল খাইরের পুত্র মিজানুর রহমান (২০), মৃত গবী সোলতানের পুত্র কামরুল ইসলাম (৩২), কুব্বাস মিয়ার পুত্র ফোরকান (৩০)সহ ১৫/২০ জনের গ্রæপ,
মোছনীর জাফর আলমের পুত্র আবুল কালাম (৩০), মৃত রশিদ আহমদের পুত্র শওকত আলী (৩৫), জাদিমোরার ঈমাম হোছনের পুত্র মোঃ শফিক (২০), মোঃ নুর (২৫), আলী আহমদের পুত্র খায়রুল বশর (৪০),বৃটিশ পাড়ার মৃত ছৈয়দ হোছনের পুত্র বার্মাইয়া লম্বা মৌলভী (৩৮), নয়াপাড়ার মৃত মকতুল হোছনের পুত্র সলিম (৩০) সহ ৩০/৩৫জনের গ্রæপ ছাড়াও সহ¯্রাধিক মাদক কারবারী অদ্যবধি মরিচ্যাঘোনা, রোজারঘোনা, মৌলভী বাজার, মুসলিম পাড়া, অইর পাড়া, হোয়াব্রাং, বৃহত্তর পানখালী, বৃহত্তর সিকদার পাড়া, সুলিশ পাড়া, পুরান বাজার, বৃহত্তর ফুলের ডেইল, নাটমোরা পাড়া, দরগাহ পাড়া, রাসুলাবাদ, গাজী পাড়া, দক্ষিণ আলীখালী, লেদা মৌলভী পাড়া, লেদা লামার পাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিম লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া, বৃটিশ পাড়া, দক্ষিণ জাদিমোরা ও দমদমিয়া এলাকায় রাজনৈতিক পদবী, মিডিয়াকর্মীর ব্যানার, জনপ্রতিনিধিদের যোগ-সাজশ ও প্রভাবশালীদের উৎপাত, বিভিন্ন সোর্সসহ স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজ পড়–য়া অনেক শিক্ষার্থী টাকার লোভে এখনো এসব অপরাধে কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। যার কারণে এখনো মাদক উদ্ধার, মাদকসহ আটকের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে
পাশাপাশি আলীখালী, লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া, শালবাগান, জাদিমোরা ও দমদমিয়ায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মাদকের সাথে সরাসরী সম্পৃক্ত হয়ে উঠায় পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠার আশংকা তৈরী হচ্ছে।
উক্ত বিষয়ে আইন-শৃংখলা রক্ষীবাহিনীর বিশ^স্থ সংস্থার একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট জানতে চাইলে জানান, সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্সনীতি বাস্তবায়নে আইন-শৃংখলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। এসব অপরাধ দমন করে ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় জনসাধারণের বিকল্প বৈধ কর্মসংস্থান তৈরীর পরিবেশ তৈরী করতে হলে সবাই মিলে এলাকাকে উপরোক্ত অপরাধমুক্ত করতে হবে। আইন-শৃংখলা রক্ষীবাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, মিডিয়াকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ মিলে মিশে কাজ করলে দ্রæত সময়ে এসব অপরাধ দমন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদের মধ্যে গুটি কয়েকজনের নাম প্রকাশ হলেও অজ্ঞাতনামার বাইরের থাকা শত শত মানুষ কৌশলে এখনো এই সর্বনাশা মাদকের চালান খালাস, পরিবহন, বিক্রি ও সেবনে লিপ্ত রয়েছে। যা আইন-শৃংখলা বাহিনীর চলমান অভিযানে স্পষ্টই প্রতীয়মান হচ্ছে। এলাকাকে মাদকমুক্ত করে জনসাধারণের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে তোলে বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর বৈধ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করা হচ্ছে।
