যে কারণে টেকনাফে বিয়ে বিচ্ছেদ প্রবণতা বাড়ছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

যে কারণে টেকনাফে বিয়ে বিচ্ছেদ প্রবনতা বাড়ছে। বিবাহ বিচ্ছেদ পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রেক্ষাপট এবং অনুসন্ধানী জরীপে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে স্বামীরা স্বামী পক্ষের যৌতুকদাবি, স্বামী স্ত্রী উভয়ের দ্বারা শারীরিক ও মানষিক অত্যাচার, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, দু’জনের জীবন যাপনে অমিল, সন্দেহ প্রবনতা, স্বামীর কাছ থেকে ভরণ পোষণ না পাওয়া, স্বামীর অবাধ্য হওয়া, রোহিঙ্গা সুন্দরী রমনী, স্ত্রীর চাহিদা পূরণে স্বামীর ব্যর্থতা, শিক্ষার অভাব, সর্বোপরী ফেইসবুক ও টুইটারে মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাদিক সর্ম্পকে জড়ানো, ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী জীবন যাপন না করা, বিদেশী অপসংস্কৃতির প্রতি আস্থাশীল এবং বিদেশে স্বামী প্রবাস জীবনে দীর্ঘদিন থাকার কারণে একাদিক বিবাহ প্রেরনতা এবং স্বামী স্ত্রীর (তালাক) বিচ্ছেদ ঘটনা ও ঘটছে। টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা এবং দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে রয়েছে আতœীয়তার বন্ধন। এখানকার স্বাং¯কৃতি মিয়ানমারের আরাকানের সাথে প্রায় মিল রযেছে। ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে বউ বাণিজ্য । সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশী নাগরিকের সাথে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় বিবাহ বন্ধনে আব্ধ হচ্ছে ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প ও ভূয়া আইডিকার্ডের মাধ্যমে। কয়েক বছরে যেতে না যেতে এ বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পরে দারস্থ হচ্ছে থানা ও গ্রাম্য আদালতে। এছাড়া উদ্বুদ্ধ করছে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন হিন্দি (ষ্টার জলসা) কিরণমালা এবং সিরিয়াল নাটক এবং নানা দেশীয় পুর্ণোগ্রাপি। এসব কিছুর সহজলভ্যতায় নৈতিক মূল্যবোধ হারাচ্ছে অনেক নারী পুরুষ। ঘটছে নৈতিক অরক্ষয়। জড়িয়ে পড়ছে পরকীয়ার মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধমূলক কাজে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে বর্তমান সময়টা খুব অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমাজের মানুষ খুব বেশি অধৈর্য হয়ে পড়েছে। পরিবার গুলোর মধ্যে নৈতিকতার চর্চা উঠে যাচ্ছে। পরকীয়া পরিবারকে খুব বেশি সময় না দেয়া, পরিস্পরিক সহমর্মিতার অভাব, আস্থাহীনতা, সম্মানবোধের অভাব, সর্বোপরি ইয়াবা কালোটাকার প্রভাব, পরকীয়ার কারণে পরিবার গুলোর মধ্যে বেশিভাগ ভাংগন ঘটে। অধিকাংশ বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে পুরুষের চেয়ে নারীরা অনেকাংশে বেশী। এর পেছনে নারীর ক্ষমতায়নের চেয়ে শিক্ষার হার ও সম্মানবোধ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী বলে মনে করেন অনেকেই। এ প্রসঙ্গে টেকনাফ নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার কাজী মাওঃ রাগেবুল হক বলেন, বিয়ে বিচ্ছেদের নেপথ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশী। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দারিদ্রতা, স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নির্যাতন, স্বামী মাদক সেবন, সংসারের প্রতিগুরুত্ব না দেয়া, রোহিঙ্গা সুন্দরী রমনীর সাথে পরকীয়া এবং মোবাইল ফোন ও ফেইসবুক, ইন্টারন্যাট অশ্লীল ছবির প্রতি আশক্ত হয়ে প্রায় স্ত্রী ও নারী পরকীয়ায় জড়িত হয়ে পড়ে। যার কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটনা ঘটে। টেকনাফ বাইতুশ শরফ মাদ্রাসার শিক্ষক ও পুরাতন পল্লান পাড়া (মাতব্বর বাড়ী) জামে মসজিদের খতিব মাওঃ বখতিয়ার উদ্দীন চৌং বলেন, আমার দৃষ্টিতে বিয়ে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ, স্বামী-স্ত্রী পরকীয়া, একাদিক বিয়ে, ইয়াবা প্রবাসী, স্বামীর প্রতি আস্থাহীনতা, বিয়ে বরাবর কুফু অনুযায়ী বিয়ে না করা এবং স্ত্রীকর্তৃক যৌতুক নেয়ার কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে। টেকনাফ মডেল থানার সাবেক (ও’সি) মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, মামলার মধ্যে নারী নির্যাতন মামলা সবার শীর্ষে। এর মধ্যে পরকীয়া, মাদক সন্দেহ ভাজন ও পরস্পর আস্থাহীনতা। বিয়ে বিচ্ছেদের পুরুষের চেয়ে নারী সংখ্যা বেশী।