বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়ায় মাদক সেবন করে দোকানের মালামাল তছনছ করার ঘটনায় বাঁধা দিতে গিয়ে সৃষ্ট ঝগড়ায় সংগবদ্ধ মাদক কারবারীদের হামলায় বৃদ্ধা নারীসহ ৫জন আহত হয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে মিজবাহ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কিডনী নষ্ট হয়ে এখন মৃত্যুর পথে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় দরিদ্র পরিবারটি যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীন রয়েছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের দাবী।
ভূক্তভোগী অসহায় পরিবারের দাবী,গত ২৬জুলাই (মঙ্গলবার) রাত ৯টারদিকে পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া কম্বনস্থ প্রাইমারী স্কুলের সামনে মৌলভী ইদ্রিসের পুত্র মিজবাহ উদ্দিনের দোকানে গিয়ে স্থানীয় মোঃ শরীফের পুত্র ইয়াবা কারবারী দিল মোহাম্মদ ওরফে মদখোর দিল মোহাম্মদ (২২) কোন কারণ ছাড়াই কথা কাটিতে লিপ্ত হয়ে দোকানের মালামাল নামিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলতে থাকে। তা জানতে পেরে দোকানে বসে থাকা লুৎফুর রহমান ভাই মিজবাহকে জানলে ঘর থেকে বের হয়ে মদ খেয়ে মাতলামী করছ কেন জানতে চায় তখনই দিল মোহাম্মদ মারামারী শুরু করে দেয়। এই শোর-চিৎকার শুনে দিল মোহাম্মদের ভাই নুর মোহাম্মদ (২৬) রিদুওয়ান (২০) এবং পিতা মোহাম্মদ শরীফ এসে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এসময় অসহায় মিজবাহের মা হালিমা খাতুন (৫০) এসে ঝগড়া না করার জন্য বাঁধা দিলে ইয়াবা কারবারী দিল মোহাম্মদ সজোরে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর সবাই মিলে মিজবাহ ও লুৎফুর রহমান সহোদরদের উপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসব অন্যায় দেখে নির্দোষ লোকজনকে উদ্ধার করতে হামলাকারীদের আপন চাচা আবুইল্যার পুত্র আয়াজ উদ্দিন (৪০) এবং মৃত রুহুল আমিনের পুত্র শাকের (৪৫) ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে এলাকার লোকজন সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে ছুরিকাঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক মিজবাহ ও লুৎফুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
চমেক থেকে আহতদের বোন জামাই কামাল বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন ছুরিকাঘাতে মিজবাহের কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। তার শরীর ফুলে যাচ্ছে। সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার দরকার। তাছাড়া লুৎফুর রহমানের অবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হামলায় গুরুতর রক্তাক্ত অসহায়-দরিদ্র পরিবারের লোকজন আর্থিক সংকটে ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেনা।
এই হামলার কারণ হিসেবে স্থানীয় লোকজনের বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে শুনা যাচ্ছে। আহদের পরিবারের পক্ষের এক মেয়েকে বিবাহ করতে ব্যর্থ হওয়া, দোকানদারের প্রতিযোগিতার ইস্যু নিয়ে এলাকার চিহ্নিত সংঘবদ্ধ মাদক কারবারী সিন্ডিকেট এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার আব্দুল জাব্বারের আতœীয়-স্বজন হওয়ায় তারা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে এলাকায় নানা অপরাধ করে বেড়ালেও সাধারণ অসহায় কোন মানুষ তাদের অন্যায় আবদারের প্রতিবাদ করতে পারেনা।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার হাসান আহমদ জানান,ঘটনাটা আমার বাড়ি থেকে দূরে তাই আমি বিস্তারিত জানতে পারিনি। সকালে লোকজন থেকে ছুরিকাঘাতে ৪/৫জন আহত হওয়ার খবর শুনেছি।
উল্লেখ,এই হামলাকারী রিদুওয়ান গত বছর এলাকায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাদশাহর পুত্র ইকবালকে ছুরিকাঘাত করে পঙ্গু করে দেয়। সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় এলাকার লোকজন তাকে ধরে স্থানীয় আব্দুল জাব্বার মেম্বারের নিকট সোর্পদ করলেও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে।
সাবেক মেম্বার আব্দুল জাব্বার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমার বাড়ি একটু দূরে। ঘটনা শুনে আমি আসতে আসতে আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলছে তা ভিত্তিহীন। আমি কোন অপরাধীকে রেহায় দিইনা। মুলত মাদক সেবন সংক্রান্ত বিষয়ে এই ধরনের ঘটনা বলে পরে জানতে পেরেছি।
উক্ত এলাকার নিরীহ সাধারণ লোকজন শান্তিতে থাকলে অত্র এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী,অবৈধ অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য টেকনাফে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা বাহিনী সমুহের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###
