হোয়াইক্যংয়ে বিয়ের অভিমানে যুবতির গলায় ফাঁস ; স্বশস্ত্র হামলায় সিএনজি চালক খুন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম / হেলাল উদ্দিন / সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে এক যুবতির নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিমানে ফাঁস লাগিয়ে আত্নহনন এবং অতিরিক্ত যাত্রী নিতে নিষেধ করায় এক সিএনজি চালকের স্বশস্ত্র হামলায় অপর সিএনজি চালক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের অনুমতি স্বাপেক্ষে মহিলাকে দাফনের প্রস্তুতি চললেও সিএনজি চালকের মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল ৩ মে (রবিবার) বিকাল সাড়ে ৫টারদিকে উপজেলার হোয়াইক্যং তুলাতলী এলাকার ফরিদ আলম প্রকাশ গণ ফরিদের পুত্র সিএনজি চালক রাসেল মাঝের পাড়া এলাকা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় স্থানীয় আব্দুল মোনাফের পুত্র সিএনজি চালক আব্দুল্লাহ ওরফে বাবু (২৩) লকডাইনে এইভাবে যাত্রী পরিবহন না করার জন্য নিষেধ করে। তা নিয়ে দুই সিএনজি চালকের মধ্যে তুমুল বাক-বিতন্ডা হয়। এরপর সিএনজি চালক রাসেল যাত্রী নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে চলে যায়। ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্বে এই রাসেল ইয়াবা কারবারী রবি, হেলাল ও হোছনের নেতৃত্বে ৮/১০জন দা-কিরিচ নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে এসে বাবু ইফতার করতে বাড়িতে প্রবেশের আগেই অর্তকিত হামলা চালিয়ে কিরিচের কোপে রক্তাক্ত করে ফেলে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন বাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই সে মারা যায়।
হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হারুন অর রশিদ সিকদার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। তখন পুলিশের এসআই নাজমুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার (ওসি তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অপরদিকে সকাল সাড়ে ৭টারদিকে একই ইউনিয়নের হাসাইন্যার টেক এলাকায় মৃত নাগু মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগম পানি আনতে যায়। ফিরে এসে বাড়িতে মেয়ে জান্নাত আরা (১৬) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায়। তখন কান্নাকাটি শুরু হলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে তাকে ফাঁস থেকে নামিয়ে নেয়। এই খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নিহতের মায়ের কোন অভিযোগ না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি স্বাপেক্ষে ঐ মহিলাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই অপমৃত্যুর তথ্যানু সন্ধানে স্থানীয়দের অভিমত, পিতৃহারা এই মেয়েকে মা বাহারছড়া ইউনিয়নে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র ঠিক করেন। কিন্তু মেয়ে এই বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকার করায় মা-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও অভিমান চলে আসছে। হয়তো এই কারণে এই মেয়ে চরম অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহননের পথ বেচে নেয়। যা খুবই দুঃখজনক।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এই অপমৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। ###