হোয়াইক্যংয়ে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে ছুরিকাঘাত ব্যক্তির হাসপাতালে মৃত্যু ; দাফন সম্পন্

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে জমি বিরোধ ও মামলা মোকর্দ্দমার জেরধরে প্রতিপক্ষের হাতে ছুরিকাঘাত ব্যক্তি হাসপাতালে ২০দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। রাতেই স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। হামলাকারীরা নৃশংস এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।

জানা যায়,১৩আগষ্ঠ রাতের প্রথম প্রহরের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টেকনাফের হোয়াইক্যং পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ার আবুল কাশেম সিকদারের ৪র্থপুত্র রবিউল হোসাইন সিকদার (৩২) ইন্তেকাল করেন। তারা ৪ ভাই ও ৩ বোন রয়েছে। ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। নিহত রবিউল হোসাইন সিকদার এবং ছালেহ আহমদ গংয়ের মধ্যে জমি-জমা বিরোধ চলে আসছে।

নিহতের চাচাত ভাই আবুল কালাম জানান,গত ২৩জুলাই সন্ধ্যারাতে হোয়াইক্যং ফাঁড়ি থেকে ফেরার পথে একটি সিএনজিতে যাত্রী বেশে থাকা ৫জনের মধ্যে একই এলাকার ছালেহ আহমদের পুত্র ইমান হোছন এবং কবিরের পুত্র শাহ আলম ওরফে বাটপার শাহ আলম গং মিলে রবিউল হোসাইন সিকদার (৩২) কে শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। সে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আতœীয়-স্বজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গয়ালমারা হাসপাতাল এরপর কুতুপালং হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সে জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপরোক্ত হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করেন। ২০দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল। চমেকে পোস্টমর্টেম ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ বাদে এশা বাড়িতে পৌঁছলে রাত সোয়া ১০টায় সিকদারিয়া জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সুত্র নিশ্চিত করেন।

এদিকে হামলাকারীরা রবিউল হোসাইন সিকদার মারা যাওয়ার খবর পেয়ে নিজেদের বসত-বাড়িতে নিজেরা ভাংচুর চালিয়ে নিহতের স্বজনেরা ভাংচুর চালিয়েছে বলে নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার আশ্রয় নিচ্ছে বলে নিহতের স্বজনদের দাবী।

এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে ছালেহ আহমদ গংয়ের বক্তব্য জানতে একাধিক বার চেষ্টা করেও কাউকে না পেয়ে কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হোয়াইক্যং ফাঁড়ির আইসি জায়েদ খান জানান,রবিউল হোসাইন সিকদার বাদী হয়ে স্থানীয় ছালেহ আহমদ গংয়ের জন্য আদালতে একটি জমি বিরোধ সংক্রান্ত মামলা করেছিল। সে বিষয়ে কথা বলতে একবার ফাঁড়িতে এসেছিল তবে কখন এসেছিল তারিখটা মনে নেই।

(৭,৮ ও ৯)নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মমতাজ বেগম জানান,জমি ক্রেতা পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত আমির আলীর পুত্র ছালেহ আহমদ জমি ক্রয়ের জন্য বায়না করে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর জমি রেজিষ্ট্রি না দেওয়ায় মৌখিক সালিশ দায়ের করলে তাদের উভয়কে ডেকে আলোচনা করা হয়। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছালেহ আহমদকে জমি রেজিষ্ট্রি দেওয়ার জন্য রবিউল স্টাম্প দেন। ছালেহ আহমদও বকেয়া টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য খালি চেক জমা দেন। ছালেহ আহমদের অভিযোগ জমি রেজিষ্ট্রি দিতে না পারলে আমার নিকট থেকে গৃহিত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য রবিউলকে চেক জমা দেওয়ার দাবী জানান। এতে সম্মত হয়ে রবিউল চেক জমা করে।

নিহতের চাচাত ভাই আবুল কালাম আরো জানান,এখানকার পূর্বের জমির মালিক রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন ছিল। খারাংখালী রাখাইন পল্লীর জনৈক মইয়া রাখাইন হ্নীলা ষ্টেশনের জনৈক মুন্সীর সাথে যোগ-সাজশ করে অপরজনকে এই জমি রেজিষ্ট্রি দেওয়ায় ছালেহ আহমদ এবং রবিউল হোসাইন সিকদারের মধ্যে বায়নাকৃত জমি রেজিষ্ট্রি দিতে বিলম্ব ঘটে। তা নিয়ে মামলা-মোকর্দ্দমার জেরধরে সে প্রায় সময়ে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরত। শেষ পর্যন্ত এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হল।

নিহতের ফেইসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে আব্দুর রহিম লালুর নিকট জানতে চাইলে বলেন,ছালেহ আহমদ আর রবিউলের জমি ক্রয় ও বিক্রয়ের বিষয়ে মহিলা মেম্বার ভালই জানেন। এখানে আমার কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

নিহতের স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়া জানান,এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তদন্ত স্বাপেক্ষে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করে রিসিভ না হওয়ায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন জমি জালিয়াত চক্র এবং রবিউলকে নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য এলাকার সচেতনমহল জোর দাবী জানিয়েছে। ###