জাহাঙ্গীর আলম, টেকনাফ :
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মধ্যহ্নীলায় নিকাহ ও তালাক নামা রেজিষ্ট্রাট কাজী অফিসে পুরোদমে চলতেছে মোঠা অংকের টাকার বিনিময় হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বিয়ের রেজিষ্ট্রাট ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েদের এবং প্রথম স্ত্রী থাকার পরও দ্বিতীয় বিয়েও রেজিষ্ট্রি ও হচ্ছে ঐ কাজীর কার্যালয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল হোয়াইক্যং লম্বাবিলে বসবাসরত বার্মা থেকে আসা রোহিঙ্গা, হোছন আলীর মেয়ে মনিরা বেগম এবং একই গ্রামের বসবাসরত আবু তৈয়বের পুত্র মোঃ আয়ুব । বর্তমানে মনিরা ও আয়ুব দুইজনে স্বামী, স্ত্রী, তারা দুইজনে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রেজিষ্ট্রার্ড কামিননামা মূলে বিয়ে করেন। এরা বার্মা থেকে এসে হোয়াইক্যং লম্বাবিল,তেচ্ছিব্রিজ গ্রামে থাকেন ।বিয়ের কাবিন নামাতে মোঃ আয়ুব ঠিকানা দেখিয়েছে পেকুয়া উপজেলা, মগনামার, আর মিনার ঠিকানা লম্বাবিলের।
তাদের সাথে আলাপকালে তারা নিজেরা বলেন আমরা বার্মা থেকে এসেছি।বিয়ের কাবিন কিভাবে রেজিষ্ট্রা করার হল জানতে চাইলে টাকা দিয়েছি এরপর করে দিছে। জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি বিষয় জানতে চাইলে জন্ম নিবন্ধন দিয়েছি। তবে বিয়ের কাবিন নামাতে উক্ত ব্যাক্তিদের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সমুহ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেইনি তারা কোন কম্পিউটার দোকান থেকে নাম বদলাই স্কীন করে নিছে। পরিষদ সূত্রে জানা যায়,এই রকম কারও নিবন্ধন আমাদের রেজিষ্ট্রার্ড খাতায় নাই।
হোয়াইক্যং মধ্যহ্নীলা ওরি আমগাছ তলায় অবস্থিত বিয়ের কাবিননামা রেজিষ্ট্রার্ড কাজী অফিসে বিয়ের কামিননামা করার সময় কাজী আক্তার কামাল নুরী অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে সহ রোহিঙ্গাদের বৈধ কোন কাগজ পত্র ছাড়া বিয়ের কাবিন নামা মোঠা অংকের টাকার বিনিময় করে দিচ্ছে। বিয়ের কাবিননামা রেজিষ্ট্রাট করার সময় বর পক্ষ বা কনে পক্ষের তেমন কোন স্বাক্ষী লাগেনা টাকা দিলে সব ঠিক ।
উক্ত কাজী অফিসে রয়েছে গিয়াস উদ্দিন নামে এক সহকারী কাজী আক্তার কামাল নুরী দিক নির্দেশনায় সেই সহকারী সমস্থত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।মুল কাজী ঠিকমত তার নিজ কার্যালয়ে তেমন তাকেনা। রেজিষ্ট্রি করার ক্ষেত্রে কোন আইন কানুন না মেনে অসম্পন্ন ভাবে বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করেন।
দিন দিন রোহিঙ্গারা এসব সুযোগের ফলে এলাকাতে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছে।এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এই ভাবে চলতে থাকলে অপ্রাপ্ত ছেলে মেয়েদের মাঝে বাল্য বিবাহের প্রভাব বিস্তার ঘটবে। অভিবাবক ছাড়া নিজেরা অল্প বয়সে বিবাহ বন্ধনে জড়িয়ে পড়বে।
এবিষয় স্থানীয়দের বেশ কিছু লোকজনদের সাথে আলাপকালে জানা যায়,রেজিষ্ট্রা কার্যালয়ের কাজী আক্তার কামাল নুরী বিরুদ্ধে এগুলি তেমন কিছু না,কারণ অনেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েদের সরকারী কোন নিয়েমের তোয়াক্কা না করে ও রোহিঙ্গাদেরকে সরকারী রেজিষ্ট্রাট মোতাবেক বিয়ের কাবিন নামা কাজ সম্পন্ন করে যাচ্ছে। কাজী আক্তার কামাল নুরী মোঠা অংকের টাকা পেলে সব ঠিকটাক করে কাজ করে ফেলতে পারে।স্থানীয়রা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এবিষয় হোয়াইক্যং মধ্যহ্নীলা ওরি আমগাছতলার কাজী অফিস কার্যালয়ের প্রধান কাজী আক্তার কামাল নুরীর কাছ থেকে অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে সেই এসব নিয়ে কোন কথা বলতে অপরাগত প্রকাশ করেন।
উক্ত অফিসের সহকারী যিনি নিয়মিত অফিসের সব বিষয় দেখা শুনা করেন তিনি বলেন আমার জানা মতে এই রকম কোন কাজ আমাদের অফিসে হয়নি।
