বার্তা পরিবেশক : কক্সবাজার টেকনাফের হৃীলা রঙ্গিখালীতে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুরামিয়া গ্রুপের স্বশস্ত্র বাহিনীরা ৭টি বাড়ী-ঘর ও দোকান পাট ভাংচুর এবং লুপাট করেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। গতকাল আনুমানিক ১টার দিকে গিয়াস বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আম্মুনি ও বাগাইস্যা ডাকাতের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গিয়াস বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আম্মুনি ও বাগাইস্যা ডাকাতের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসি অস্ত্র মহড়া দিয়ে হঠাৎ আনসার সদস্য আবুল আলম ও তার ছোট বোন সানজিদার বাড়ি-ঘর ও দোকান পাট ভাংচুরসহ পুড়িয়ে দেয়। এ সময় আশপাশের আরো ৪/৫টি ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের বহুল আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনা নিয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদের পরিবারের সাথে হত্যাকারী গুরামিয়া গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আব্দুল মজিদের পরিবারকে ধ্বংস করতে গুরামিয়া গ্রুপের স্বশস্ত্র সদস্যরা নানাভাবে হামলা-মামলা, ঘরবাড়ি-দোকান পাট ভাংচুর ও ভুক্তভোগীদের জমি জবর দখলসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। শুধু তাই নয় সম্প্রতি সময়ে এ বাহিনীর স্বশস্ত্র সদস্যরা এলাকার নিরীহ মানুষদেরও নানা হয়রানিসহ চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে বীরদর্পে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে স্থানীয়রা। গুরামিয়া গ্রুপের সদস্য গিয়াস বাহিনী তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বাগাইস্যা ডাকাত, আম্মুনি ডাকাত ও পুতুইয়া ডাকাতের কবল থেকে মুক্তি পেতে আইনশৃঙ্খলা বিাহিনীর হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন অসহায় সাধারণ মানুষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক মানুষ জানান, জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী গুরামিয়ার সমস্ত অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন তার পুত্র গিয়াস উদ্দিন। এ জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্বশস্ত্র বাহিনী যা গিয়াস বাহিনী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে এলাকায়। গিয়াস বাহিনীর প্রধান গিয়াস উদ্দিন ইয়াবার চালান নিয়ে পুলিশের হাতে আটকের পর বর্তমানে কারগারে রয়েছে। তার অনুপস্থিতে এ বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার দুই সহোদর বোরহান উদ্দিন প্রকাশ আম্মুনি ডাকাত ও মিজানুর রহমান প্রকাশ বাগাইস্যা ডাকাত। এখন আম্মুনি ও বাগাইস্যা ডাকাতের নিয়ন্ত্রণে গিয়াসের ইয়াবা সম্ররাজ্য ও আপরাধ জগত। এ দুই সম্রারাটের নিয়ন্ত্রে প্রতিদিন এলাকায় ঘটছে হামলা, ভাংচুর, জবরদখল, চাঁদাবাজিসহ হরেক রকমের অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে এই অপরাধীরা। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ শংকিত।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন জানান,সরকার মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরু টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে আসছে। চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসিরা বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেনা। আজ না হয় কাল অবশ্যই ধরা পড়বে।
