অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- ৭ পূর্ব
মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের পর টেকনাফের প্রবেশদ্বার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন। এটি হ্নীলা ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত। এর পূর্বে নাফ নদীও পশ্চিমে বিস্তীর্ণ পাহাড়। অধিকাংশ বসতবাড়ী পাহাড়ী এলাকায়। দীর্ঘ লম্বা এ ইউনিয়ন। এ পাড়ের মানুষের সাথে ঐ পাড়ের (আরাকানের) রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতœীয়তার বন্ধনে গড়ে উঠায়, ব্যবসা বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির বন্ধন রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে নাফ নদীটি ক্রমান্নয়ে উত্তরে প্রশস্থতা ও দক্ষিণের চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নটি হচ্ছে, মিয়ানমারের আরাকানের কাছাকাছি। নাফ নদীর পাড় থেকে সে দেশের অদৃশ্যগুলো দেখা যায়। নাফ নদী সাতরিয়ে এ পাড়ে আনায়সে আসা যায়। সিংহভাগ রোহিঙ্গারা এ পাড়ে বেশীরভাগ অনুপ্রবেশ ঘটে। ভৌগলিক অবস্থান বেঁধে এখানকার প্রায় মানুষ চোরাচালানের প্রতি নির্ভরশীল। নীরবে চলছে মাদক ও মানব পাচার চোরাচালান বাণিজ্য। অনুসন্ধানী তথ্যের ভিক্তিতে জানা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে দৃশ্যমান বৈধব্যবসা ছাড়াই অনেকেই জড়িয়ে পড়েছে, মাদকও ইয়াবা হুন্ডি ব্যবসায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীরা মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে। অথচঃ এর বদনামের ভাগী হতে হচ্ছে, বেশীরভাগ টেকনাফের দক্ষিণাংশের। সীমান্তের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের সাথে ওরা ম্যানেইজ করে এ কালোব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। হোয়াইক্যং ও হ্নীলায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থাকায় এখানে মাদকের রামরাজত্ব চলে। ফলে এখানে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ক্রম অবনতি ঘটে। চুরি, ডাকাতী, অপহরণ, চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যু ও চোরাচালান প্রায় ঘটে থাকে। হোয়াইক্যং সীমান্তের যে ক’টি আলোচিত চোরাইপয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ও মাদকের চালান উলুবনিয়া বিনা বাঁধায় ঢুকে, তার মধ্যে উনচিপ্রাং, জিম্মংখালী, মিনাবাজার, নয়া বাজার ও মৌলভী বাজার সীমান্তের নাফ নদীর পয়েন্ট দিয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবা, মাদক, বিয়ার মিয়ানমার থেকে এসে এখানে খালাস হয়। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা নামক আদম বাণিজ্য ও চলে। সন্ধা নামার পর চলে আদমঘাটগুলোর রমরমা বাণিজ্য। এসব ঘাট দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য প্রবেশের সমারোহ থাকে এবং সীমান্তের প্রায় দোকানে বর্মীপণ্যের দৃশ্যমান মওজুদ থাকে। ফলে দেশীয় পণ্যের কদর ভোক্তাদের অনাগ্রহ করে তোলে। তথ্য মতে এ ইউনিয়নে ১৯৯৩ সালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাদক তালিকানুযায়ী ১৯জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। ওরা অদরা থাকায় আরো যুক্ত হয়েছে নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও। তাদের মধ্যে অনেকেই যুবক। ওরা এখন মাদকের রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন, কাটাখালীর মোঃ মফিজ, বাবুল হোসেন, জসীম উদ্দীন, শাহজাহান, বাবুল, মোঃ আলম, আতাউর রহমান, কায়েম উদ্দীন, বালুখালীর জসিম, মোঃ হেলাল, তোফায়েল, সোহেল রানা, তুলাতলির সিরাজুল মোস্তফা, লম্বাবিলের শাহ আলম, ছফর আলী, নয়াপাড়ার নুর হোসেন, নয়া বাজারের ছিদ্দিক, জিমংখালীর শফিক আলম, মিনাবাজারের নবী হোসেন, সাতঘড়িয়া পাড়ার তৈয়ব, আব্দুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন ও মমতাজ। এছাড়া নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা শীর্ষের স্থানে দখল করে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী মূলক তথ্যভিত্তিক গোপন তথ্য দিতে এ (০১৮১৮০৮৭৩০৪) নাম্বারে যোগাযোগ করুন। নাম গোপন করা হবে। চোখ কান খোলা রাখুন। অপেক্ষায় থাকুন।
