সড়ক ও জনপদ বিভাগের ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
কক্সবাজার সড়ক জনপথ বিভাগের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ টেকনাফ পৌর শহরের কুলাল পাড়া থেকে শাহপরীরদ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ৮ কিঃ মিটার কার্পেটিং সড়ক উন্নয়ন এবং ৯টি ব্রীজ নির্মাণ কাজের জন্য ১৬ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে এ সড়কের ফলক উম্মোচন করেন, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদী। এর পর থেকে পুরোদমে সড়কও ব্রীজের কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মানুষের কাছে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর এ,বি আরমি প্রাইভেট লিঃ এর সত্বাধিকারী আবু বকর ছিদ্দিক এ কাজটি পায়।

এ দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন ও ব্রীজ নির্মাণ কাজের মধ্যে রয়েছে, সড়কের দু পাশ্বে প্লাস, আইডি ধারা গাইড ওয়াল, সিলেটী পাথর ব্যবহার ও সড়ক উন্নয়নের সময় পানি ধারা রোলার দিয়ে কমপেকশান করার কথা থাকলেও কোন কোন স্থানে এ নিয়ম মানা হচ্ছেনা।

সড়ক ও ব্রীজ উন্নয়ন কাজে সার্বক্ষনিকভাবে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি কর্মস্থলে থাকেননা।

শুধু মাত্র কার্যসহকারীর উপর এ দায়িত্বে দিয়ে তারা গরহাজির থাকেন।

তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকার সকল তথ্য জানার জন্য এ অধিকার দিলেও তাহা এ প্রতিষ্ঠান দিচ্ছেনা।

নিয়মানুযায়ী টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপে সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণ কাজের সিডোওয়েল মোতাবেক কি কি কাজ হবে এবং এর ব্যয় কত তাহা জানার জন্য নাগরিকের অধিকার থাকলেও এ অধিকার থেকে ওরা বঞ্চিত করে রেখেছে।

সড়ক ও ব্রীজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থানে কাজের ওপেন সাইন বোর্ড টাংগানোর নিয়ম থাকলেও তাহা এখানে নেই।

ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিমার্ণকারী প্রতিষ্ঠানের উপর জনগণের আস্থা হারাতে বসেছে।

গত বুধবার সকাল ১১টায় টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়কের শীলবনিয়া পাড়া ও কুলাল পাড়া হয়ে আসা সড়ক উন্নয়ন কাজে স্থানীয় কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে, সড়ক উন্নয়নের শুরুতেই অনিয়মও দুর্নীতি ধরা পড়ে।

পুরাতন মেয়াদ উত্তীর্ণ সড়কের উপর স্থানীয় নিম্মমানের পাথর ও মাটি বালি মিশ্রন করে পুরাতন সড়কের উপর প্রলেপ দ্বারা নির্মাণ করে তড়িঘড়ি করে রোলার দেয়া হচ্ছে। এতে বালির পরিমাণ ৭০% শতাংশ ও পাথর ৩০% শতাংশ।

সড়ক ও ব্রীজ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে সিলেটী পাথর ব্যবাহার করার কথা থাকলেও কোন কোন স্থানে করা হচ্ছেনা। যার ফলে ভবিষ্যতে উক্ত প্রকল্প বেশীদিন টেকসই হবেনা বলে অভিজ্ঞরা জানান। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে। উন্নয়ন প্রকল্পবাস্তবায়ন ৮০% শতাংশ কাজ অগ্রগতি হয়েছে। বাকি কাজ অচীরেই শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত সুপার ভাইজার নুরুল করিম জানায়।

এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প স্থানে সড়কও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়ার সাথে মুটোফোনে জানতে চাইলে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি শিগ্রিই এর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।