নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে অন্যতম মাদকের আড়ত হিসেবে খ্যাত হোয়াইক্যং সাতঘরিয়া পাড়ার সৌদিয়া কেন্দ্রিক মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের এক সদস্য চেকপোস্টে আটকের পর এলাকায় এবং বিদেশে এই চক্রের অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এসব ছদ্মবেশী মাদক কারবারী চক্রের অপতৎপরতার কারণে প্রবাসে অবস্থানরত নিরীহ লোকজন পদে পদে হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফের ১নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতঘরিয়া পাড়ার আব্দুর রহমানের পুত্র কফিল উদ্দিন, শফিক ও শাহাবুদ্দিন ৩ভাই সৌদি প্রবাসে রয়েছে। তাদের মধ্যে কফিল উদ্দিন প্রতি বছরে ৩/৪ বার আসা-যাওয়া করে। এলাকায় তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য মাদক কারবারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও সৌদি প্রবাসের অজুহাতে বার বার পার পেয়ে যায়। গত ২৫-০৪-২০২২ইং বিকাল পৌনে ৩টারদিকে এই কফিল সৌদিয়া যাওয়ার জন্য সিএনজি যোগে কক্সবাজার যাওয়ার সময় মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে দায়িত্বরত ৩০বিজিবির নায়েক মোঃ আব্দুল মোতালেব তল্লাশী চালিয়ে আন্ডার ওয়ারের ভেতরে অভিনব কায়দায় ফিটিং করা ২হাজার পিস ইয়াবা, ১টি ভিভো, ১টি স্যামসাং স্মার্টফোনসহ গ্রেফতার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের খবর সৌদিয়া ছড়িয়ে পড়ায় সহোদর ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তারা বিষয়টি ধামা-চাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করেছে।
এরপর প্রবাসের আড়ালে দীর্ঘদিন মাদক পাচারে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিয়ে লোকমুখে আলোচনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। কোন কারণ ছাড়াই বছরে ৫/৬ বার সৌদিয়া আসা-যাওয়া নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে। এরা এলাকায় আসলে প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া চলাফেরা পর্যন্ত করেনা। তাদের কঠোর হাতে দমনের দাবী উঠেছে।
উক্ত বিষয়ে এক সৌদি প্রবাসী জানান, আমরা এখানে কষ্ট করে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সেখানে তারা ৩ভাই এক হয়ে বছরে ৪/৫ বার করে আসা-যাওয়া ছিল খুবই সন্দেহজনক। অবশেষে সৌদিয়া আসার সময় বাংলাদেশের চেকপোস্টে ইয়াবাসহ কফিল আটকের ঘটনায় তাদের আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। শুধু এরা না আরো অনেকে এই অপকর্ম করতে গিয়েই প্রবাসী আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে অনেকে আটক হয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। যারা বিদেশে ঘাম ঝরিয়ে দেশে রেমিটেন্স পাঠায় তারাও ছদ্মবেশী মাদক কারবারীদের কারণে বিভিন্নভাবে হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই গুটিকয়েক মাদক কারবারী নিজেদের স্বার্থের জন্য সারাবিশে^ প্রবাসী ও দেশের দূর্নাম ছড়ানো খুবই দুঃখজনক। তাই ছদ্মবেশী এসব মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ###
