এম.জিয়াবুল হক : কক্সবাজার শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দে চলতি অর্থবছর নতুন একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হচ্ছে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহওমরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিকল্প জায়গা থাকার পরও ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ভবনটি নির্মাণে বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।
খেলার মাঠটি বিলুপ্ত হবার বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুলত এরপর থেকে সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি রক্ষায় প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন তরুন যুবক থেকে শুরু করে এলাকাবাসি। এই নিয়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রক্ষায় সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর এলাকাবাসীর দাবির সঙ্গে একমত পোষন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন মঞ্চ। পরে কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও স্বাধীনমঞ্চের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সরাসরি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলমকে অবহিত করেন।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার ২৫ জানুয়ারী সকালে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন সাংসদ আলহাজ জাফর আলম। তিনি সেখানে গিয়ে খেলার মাঠের বদলে বিদ্যালয়ের বিকল্প জায়গায় (পরিত্যক্ত ডোবা) নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে বলে এলাকাবাসীকে ঘোষনা দেন। এ সময় সংসদ সদস্য জাফর আলম বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসীকে বলেন, ‘বিদ্যালয়েরই পরিত্যক্ত ডোবা ভরাট করেই নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এজন্য ডোবা ভরাট করতে যত টাকার প্রয়োজন হবে তা আমি নিজেই বহন করবো।’
বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনের সময় এমপির সাথে ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুদ্দীন খালেদ, প্রধান শিক্ষক জসীম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আবু মুছা, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান, ব্যাংকার বেলাল উদ্দিন, শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান বলেন, ‘প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহ উমরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। খেলার মাঠ অক্ষত রেখে পরিত্যক্ত ডোবা ভরাট করে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এমপি মহোদয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন পরিত্যক্ত ডোবা ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। এতে এলাকাবাসী এবং খেলাধুলায় আগ্রহী তরুন-যুবকরা খুশি।
স্বাধীন মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক সৌরভ মাহাবী বলেন, বিদ্যালয়েরই বিকল্প জায়গা থাকার পরও খেলার মাঠ নষ্ট করে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগটা ছিল একেবারেই অযৌক্তিক। তাই এলাকাবাসীর দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে স্বাধীন মঞ্চ এগিয়ে আসেন। অবশেষে সবার প্রচেষ্ঠায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি রক্ষা করা সম্ভব হলো। ###
