শিল্প বিপ্লব ছাড়া দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না : সংসদে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

শুধু কথার কথা নয়, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে * শিল্পঋণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে * নারী ও শিশু নির্যাতন সাম্প্রতিক সময়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে * প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ‘মা ও শিশু মাতৃসদন’ স্থাপনের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট |

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, শুধু কথার কথা নয়, অবশ্যই ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করে না, বিদেশে পাচার করবে, কিংবা পালিয়ে যাবে তারা যেন আর ঋণ না পায়, সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে যে অর্থ আছে তার বেশিরভাগ শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পঋণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। যারা ভালো শিল্পোদ্যোক্তা, ঋণগ্রহীতা হিসেবে যাদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে তাদের এ তহবিল থেকে আরও বেশি করে ঋণ দিতে হবে। অবশ্যই সেটি হতে হবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সিঙ্গেল ডিজিটের মধ্যে সরল সুদে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭ জুন মহান সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের সমাপনী আলোচনায় ব্যাংকে তারল্য সংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন- ‘বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। ব্যাংকে টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই।’

সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যটি খুবই প্রণিধানযোগ্য। যেহেতু উনি প্রধানমন্ত্রী, তাই উনার কাছে অবশ্যই প্রকৃত তথ্য থাকবে। এটিই স্বাভাবিক। সঙ্গত কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যকে সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ তথ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলব, ব্যাংকে যে টাকা আছে অবশ্যই তার সদ্ব্যবহার করতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করে না, বিদেশে পাচার করবে, কিংবা পালিয়ে যাবে- তারা যেন আর ঋণ না পায়, সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘পাশাপাশি ব্যাংকে যে অর্থ আছে তার বেশিরভাগ শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার জোরালো দাবি থাকবে, শিল্পঋণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। যারা ভালো শিল্পোদ্যোক্তা, ঋণগ্রহীতা হিসেবে যাদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে তাদের এ তহবিল থেকে আরও বেশি করে ঋণ দিতে হবে। অবশ্যই সেটি হতে হবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সিঙ্গেল ডিজিটের মধ্যে সরল সুদে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে একটি কথা না বলে পারছি না। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। কিন্তু বেশকিছু ব্যাংক তা মানা তো দূরের কথা, উল্টো আমানত সংগ্রহ করছে ১১/১২ শতাংশ সুদে। যা এক ধরনের ধৃষ্টতা। এর একটা বিহিত হতেই হবে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে আরও বলতে চাই, ব্যাংকের টাকা আর লুটপাট হতে দেয়া যাবে না। শুধু কথার কথা নয়, অবশ্যই ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি, জাতির সামনে তালিকা প্রকাশসহ তাদের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি বলেন, ‘একজন স্বনামধন্য শিল্পপতির সহধর্মিণী হিসেবে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আজ অবধি আমাদের খেলাপি ঋণের তকমা স্পর্শ করতে পারেনি। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, আমার পরিবারের কেউ কোনোদিন খেলাপি নন এবং আমরা বিদেশে একটি টাকাও নিয়ে যাইনি। যা কিছু করেছি, সব দেশের জন্য। যমুনা গ্রুপ একের পর এক শিল্প গড়ে তুলেছে দেশের মানুষের কল্যাণে। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারী হিসেবে যমুনা গ্রুপের কোনো বদনাম নেই। এটা এখন ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সর্বজনস্বীকৃত।’

জাতীয় পার্টির এ নেত্রী আরও বলেন, ‘শিল্পের জন্য জমি প্রাপ্তিতেও আমলাতান্ত্রিক নানা বাধা আমরা এখনও দূর করতে পারিনি। সরকার শিল্পে বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও আজ পর্যন্ত সরকারি অফিসগুলোতে শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীদের পদে পদে হেনস্তা হতে হয়। অবস্থা এমন যে, বৃহৎ শিল্পপার্ক করে তারা যেন অপরাধ করেছেন। অথচ এ বেসরকারি খাত লাখ লাখ বেকারের হাতে চাকরি তুলে দিচ্ছে। সরকারের মাথার ওপর থেকে বেকারের চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু তারপরও বৈধভাবে জমি কিনে যথাসময়ে নামজারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর চেয়ে হতাশার কী হতে পারে!’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘শুধু বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আসন্ন নতুন অর্থবছরে টাকার বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ শিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হলে আমাদের বাজেট অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমি আশা করব, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে আরও অর্থবহ করে তুলবেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। আমরাও এ স্বপ্নের সারথি হতে চাই। কিন্তু আমি মনে করি, এ পথচলাকে আরও বেগবান ও সার্থক করতে হলে আমাদের একটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেটি হল- অলস বা ঘুমন্ত টাকাকে জাগাতে হবে। কিন্তু প্রতিবছর বাজেটে আমরা যেভাবে জাগানোর ব্যবস্থা করছি তাতে তেমন একটা সুফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। কেননা ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে কেউ তার অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শন করতে চাইবে না।

সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এতে করে হয়তো কিছু প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রি বাড়বে। আবাসন খাত কিছুটা চাঙ্গা হবে, এটা ঠিক। কিন্তু ওই অর্থে অর্থনীতিতে আমরা যে বিপ্লব ঘটাতে চাই, সেটি হবে না। সে জন্য আমি মনে করি, টাকাকে কালো আর সাদা- যাই বলি না কেন, টাকার প্রয়োগক্ষমতা একই। তাই টাকার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ জন্য কোনো শর্ত আরোপ নয়, শর্ত ছাড়াই অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ একবারের জন্য হলেও পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। তাহলে শুধু দেশের মধ্যে পড়ে থাকা অর্থ নয়, যারা নানা উপায়ে বিদেশে টাকা নিয়ে গেছেন তারাও সেসব অর্থকড়ি দেশে নিয়ে আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার শুল্ক আদায় ছাড়াই এসব টাকা অন্তত ৫ বছরের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে শিল্প খাতে। তাহলে দেশে কাঙ্ক্ষিত শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। দেখা যাবে ৫ বছরেই মাথাপিছু আয় ৫ গুণ বেড়ে গেছে। দক্ষ-অদক্ষ সব বেকারের কর্মসংস্থান হয়ে গেছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘মহান সংসদে এ বক্তব্য দেয়ার অর্থ এই নয় যে, আমার বা আমাদের গ্রুপের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ আছে। শিল্পপতি পরিবারের অন্যতম সদস্য হিসেবে নানা অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, এটি একটি ‘ফর্মুলা’ হিসেবে কাজে দিতে পারে। অনেকে আছেন, রাত-দিন কালো টাকার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, এত বছর তো এ নিয়ে অনেক কথা হল, কিন্তু এ অন্ধগলির পথ তো বন্ধ হল না। অর্থাৎ আমরা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাহলে আসুন সবাই একসঙ্গে মিলে কঠিন শপথ নেই, আজ থেকে আর একটি কালো টাকারও জন্ম হতে দেব না। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে যে কালো টাকা পড়ে আছে তার সঠিক ব্যবহারের পথও মসৃণ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আলোচনার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এ মহান নেতার জন্ম না হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা। নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তিনি একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছেন। শক্তভাবে দেশের হাল ধরার সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন টানা তৃতীয় দফায়। এ জন্য তাকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

‘এ ছাড়া বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানতে চাই, আমাদের দলের চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি, ৯ বছরের সফল রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি। দল ও দেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি আমাকে তৃতীয় দফায় সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের প্রতি।’

বাজেট প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার শুরুতে বলতে চাই, এ বাজেটের জনকল্যাণমুখী যত দিক আছে সে জন্য অবশ্যই আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাব। পাশাপাশি যেসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেবে, কষ্ট বাড়বে এবং অগ্রসরমান দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী, সেগুলো আমি সংশোধনের জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট এমন একটি বিষয়, যা সংসার পরিচালনা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ হিসাব ও ব্যবস্থাপনাপত্র। তাই এখানে সবদিক খেয়াল রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আয়-ব্যয় নীতি গ্রহণ করতে হয়। পাশাপাশি আয় বাড়ানোর জন্য বাস্তবমুখী ক্যারিশমেটিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও একটি বড় বিষয়। এ ক্ষেত্রে পুঁজি, সঞ্চিত অর্থ কিংবা যে কোনো অলস অর্থ আমরা কতখানি দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারব তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি অর্জন।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আমার বিশেষ আবেদন থাকবে- দেশে সত্যিকারার্থে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে না পারলে আমরা কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। কেননা, যে দেশ যত উন্নত হয়েছে তার পেছনে রয়েছে শিল্প বিকাশের সাফল্যগাথা। যদিও আমাদের দেশ যাতে শিল্পে এগোতে না পারে, সে জন্য সব সময় দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রের নাগপাশে আটকে আছে। যে কারণে সরকার শত চেষ্টা করেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নভাবে কোয়ালিটি গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। এতে করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া খোলাবাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য ঢুকে পড়াসহ চোরাইপথে দেদার বিদেশি পণ্যসামগ্রী ঢুকছে। এসব কারণে দেশি শিল্পকলকারখানা স্বস্তিতে দাঁড়াতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘নানা রকম হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ায় বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস করতে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের হয়রানির শিকার হতে হয়। অহেতুক পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হয়। এর ফলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যায়। প্রশ্ন হল, এগুলো কে দেখবে। এ জন্য যারা দেখার আছেন তাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকাটা জরুরি।’

নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সব শেষে আর একটি কথা না বললেই নয়। আমি নিজে একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে এ সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা খুবই প্রাসঙ্গিক মনে করছি। সেটি হল নারী ও শিশু নির্যাতন। সাম্প্রতিক সময়ে এটি একরকম মহামারী আকার ধারণ করেছে। পত্রিকার পাতা খুললে, টিভির খবরে চোখ রাখলে প্রায় গা শিউরে ওঠার মতো ধর্ষণ ও লোমহর্ষক হত্যার ঘটনার সংবাদ দেখা যায়। আমাদের চোখের সামনে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা তো আদিম যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, আজকাল যেন সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। কেননা, আমার জানামতে, প্রধানমন্ত্রী শক্তভাবে হস্তক্ষেপ না করলে রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে ধামাচাপা পড়ে যেত। আশার কথা, এখানে সরকারি দলের লোকজনও ধরা পড়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের একজন ওসিও রেহাই পাননি। তাকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘শুধু রাফির ঘটনা নয়, প্রতিটি ঘটনায় আইন অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোনো ঘটনা সঠিক পথে পরিচালিত না হওয়ার সংস্কৃতি মোটেই শুভকর নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এমন অবস্থা নির্ঘাত আমাদের ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করবে।’ তিনি বলেন, অবশ্য একটি বিষয় অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, বিগত কয়েক বছরে সরকারের নানামুখী চেষ্টার ফলে দেশে নারী ও শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে। তবে এ সাফল্য ধরে রাখতে হলে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ‘মা ও শিশু মাতৃসদন’ স্থাপন করা জরুরি। এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।