শাহপরীরদ্বীপের মাদক ও মানবপাচারকারী এখনো অধরা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

ফরিদ ও আলী জোহারের নিয়ন্ত্রনে চোরাচালান বাণিজ্য
স্টাফ রিপোটার :
টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া এবং ঘোলারপাড়া এ ২টি চোরাইপয়েন্ট বহুল আলোচিত হলেও এর নিয়ন্ত্রনকারীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে এখনো অধরা রয়েছে। অথচঃ এলাকায় কালো ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও কেন? তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তাই নিয়ে আজকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। শাহপরীরদ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ স্থল সীমানা এবং সাগর ও নাফ-নদী বৈষ্টিত সীমান্ত এলাকা। উপজেলা প্রশাসন থেকে এর দুরত্ব ১১কিঃ মিটার। এর ভৌগলিক অবস্থান পূর্বে নাফ-নদী ও মিয়ানমার, দক্ষিণ পশ্চিমে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপ সাগর ও উত্তরে সমতলভূমি। অতীতে শাহপরীরদ্বীপের খ্যাত বদবমোকার মিয়ানমারের আকিয়াবের সাথে জমজমাট নৌ-বাণিজ্য ছিল। বর্তমানে সেই বদরমোকাম এখন দক্ষিণ সাগর বক্ষে। শীত মওসূমে সাগরে এটি জেগে উঠে। আজ সেই শাহপরীরদ্বীপ বৈধ ব্যবসার পরিবর্তে এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। কতিপয় শীর্ষ চোরাকারবারী ও মানবপাচারকারীর কারণে গোটা শাহপরীরদ্বীপ বদনামের শিকার। শাহপরীরদ্বীপের আলোচিত জালিয়াপাড়া ও ঘোলার পাড়া এ ২টি চোরাইপয়েন্ট স্থানীয় চোরাকারবারী ও মানবপাচারকারীরা নিয়ন্ত্রন করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। এ ২টি চোরাইপয়েন্ট এর মধ্যখানে চোরাচালান দমনকারী সংস্থার ক্যাম্প থাকলেও এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় মাদকসহ মানবপাচার নামক কালো ব্যবসা চলে থাকে। চ্রোাচালানের সুবিধার্থে এ ২টি পয়েন্ট অঘোশিত ঘাটে পরিনত করে এবং এর আড়ালে নিয়ে আসে বস্তা বস্তা ইয়াবা, মাদকদ্রব্য, গোল্ডেন পাথর, স্বর্ণ ও মানব ব্যবসা। ২০১৭ সালে ২৫ আগষ্টের সময় এ ২টি আলোচিত পয়েন্ট দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিংগা অনুপ্রবেশ করেছিল। সেই সাথে নিয়ে আসছিল বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণ। এসব কালো ব্যবসা করে অনেকেই অডেল অর্থ ও সম্পদের মালিক বনে যায়। পরবর্তীতে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ওরা অতœগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফের ওরা চালিয়ে যাচ্ছে, মাদক ব্যবসা। জালিয়াপাড়া ও ঘোলারপাড়া এ ২টি সীমান্ত পয়েন্ট এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে চুনোপুতুড়ী পাচারকারী আটক হলেও শীর্ষ মাদকও মানব পাচারকারীরা থাকে বরাবর অধরা। ওদেরকে আইনের আওতায় না আনলে মাদক ও মানবপাচার নামক জগণ্যতম অপরাধ প্রবণতা বন্ধ হবেনা। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। গভীর রাত হলেই এ ২টি চোরাইপয়েন্ট চোরাচালান বাণিজ্যের জমজমাট ব্যবসা চলে। অবস্থা বেধে এ ২টি চোরাই পয়েন্ট কড়াকড়ী হলে ওরা ব্যবহার করে সাবরাং কাটাবনিযা ঘাট এলাকা। বস্তা বস্তা ইয়াবাও স্বর্ণের চালান খালাস করে কাটাবনিয়া ঘাট এলাকায়। মাদক বিরোধী অভিযান থমকে যাওয়ার পর জালিযাপাড়া ও ঘোলারপাড়া এখন সরগরম চলছে। সরেজমিন অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয়রা জানায়, এ ২টি চোরাইয়েন্ট নিয়ন্ত্রন করছেন জালিয়াপাড়ার মিয়া হোসেনের পুত্র মোঃ ফরিদ প্রকাশ ওয়াই ফরিদ, একই পাড়ার নুর মোহাম্মদ মাঝির ছেলে আবু তাহের, ক্যাম্প পাড়ার আলী জোহার, মোঃ আলম প্রকাশ মাদ আলম ও কাসো, রশিদ আহমদ প্রকাশ কালু, মোঃ আলম প্রকাশ কাটট্যল্যা, শাকের আহমদ, আবুল কালাম, জামাল হোসেন, দক্ষিণ পাড়ার আমান উল্লাহ মাঝি, ছলিম উল্লাহ, কবির আহমদ প্রকাশ কবিরা, মিস্ত্রি পাড়ার মোঃ ছলিম প্রকাশ লম্বা ছলিম, এনায়ত উল্লাহ, ও শরীফ হোসেন। ওরা বর্তমানে শীর্ষ মাদক ও মানব পাচারকারী বলে এলাকায় জনশ্রুত থাকলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে কেন? আটক হচ্ছে না এলাকাবাসীর প্রশ্ন। ওদের মধ্যে অনেকেই চোরাচালান ও মানব পাচারের মামলা থাকলেও নিরবে ওরা পারপেয়ে যাচ্ছে। ওদের অতিথ ও বর্তমান জীবনের আয়ের উৎস ক্ষতিয়ে দেখলে কালো টাকার অর্থ বিত্তের মালিক বনে যাওয়ার গোমর পাস হয়ে যাবে। স্থানীয় কথিপয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য এবং শাসকদলের নেতার সখ্যতা থাকায় ওরা চোরাচালানে বেপরওয়া হয়ে উঠেছে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এর সাথে জড়িত এবং পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের কোন মতেই ছাড় দেয়া যাবেনা। দেশ ও জাতীর সার্থে পুলিশের সহযোগিতা চাই।