লেদায় ছিনতাই হওয়া ৪লাখ ৮০হাজার ইয়াবা লুটকারীদের মধ্যে ৪০লক্ষ টাকার সমঝোতার চেষ্টা ; অপরাধী দুপক্ষই নিরাপদে!!!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : গত দু’মাস পূর্বে মিয়ানমার হতে ইয়াবার চালান আনার সময় ছিনিয়ে নেওয়া ৪ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবার চালান লুটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রকৃত ইয়াবা মালিক খালেকের পক্ষ থেকে ৪০লক্ষ টাকা দাবী করা হয়েছে। ছিনতাইকারী চক্র মোহাম্মদ আমিন, খাইরুল আমিন, বেলাল ও গাজু ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করলেও বিষয়টি এখনো ঝুঁলে আছে। তবে মধ্যস্থতাকারীরা এই বিষয়টি দ্রুত সমাধানে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধী দু,পক্ষই শাস্তির আওতায় আসা তো দূরের কথা বীরদর্পে চলাফেরা করায় জনমনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একদল রোহিঙ্গা পশ্চিম লেদার আবুল হোছনের পুত্র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কিং আব্দুল খালেকের জন্য আনা ৪ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবার চালান এনে পূর্ব লেদার লবণের মাঠে গর্ত করে লুকিয়ে রাখে। এই ঘটনার পর খবর পেয়ে পূর্ব লেদার লেদা লামার পাড়ার আহমদ হোছনের পুত্র মোহাম্মদ আমিন (৩০), খাইরুল আমিন (২৮), জাফর মার্কেটের পূর্বপার্শ্বে সাতঘর পাড়ার আমির হোছনের পুত্র বেলাল (২৫), লামার পাড়ার সোলেমানের পুত্র আব্দুর রশিদ প্রকাশ গাজুসহ একটি চক্র উক্ত ইয়াবার চালান ছিনতাই করে অন্যত্র সরিয়ে রাখে।
পরে এই চালান বিক্রি করে মোটাংকের টাকা হাতে পায়। একজনে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা ভাগ পেয়ে বদলে যায় ভাগ্যের চাকা কিন্তু প্রশাসনের হাত হতে ধর-পাকড় এড়াতে সাধারণ গরীব দিন-মজুরের অভিনয় শুরু করে।

ইয়াবা চালানের মালিক খালেক এই সর্বনাশের জন্য স্থানীয় ফরিদের পুত্র শাহজালালকে (১৮) জড়িত সন্দেহ করে চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে ভাড়াটে দিয়ে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে ৩/৪ দিনধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর পাহাড়ী পথে রঙ্গিখালী পাহাড়ী আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে যৌথ অভিযানে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়। সপ্তাহের অধিক সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ নির্যাতনের পর আইন-শৃংখলা বাহিনী তাকে ফেরত দেয়।
এসব বিষয় নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে কৌশলী হয়ে উঠে ইয়াবা গডফাদার খালেক। গত ৩দিন আগে খালেক মোটর সাইকেলযোগে এসে ইয়াবার চালান লুটকারীদের ৪০লক্ষ টাকা দিয়ে সমঝোতায় প্রস্তাব দেয় এবং লুটকারীরা ২০লক্ষ টাকা দিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য সম্মত হয়েছে বলে একাধিক গোপনীয় সুত্রের দাবী।

এই ব্যাপারে অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ আমিন বলেন, এই ধরনের ঘটনায় সে জড়িত না। এলাকায় এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে তবে কারা ঘটিয়েছে তা জানিনা।

এদিকে ইয়াবা কিং ও সন্ত্রাসী আব্দুল খালেক মাদকের কোটি কোটি টাকায় নানা অপকর্ম এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালেও প্রকাশ্যে মোটর বাইক নিয়ে চলাফেরা অব্যাহত রাখায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী প্রকৃত ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধী এবং ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের আইনের কাঠহড়ায় নেওয়ার জন্য সর্বস্তরের আইন-শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। #