: বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইন রাজ্যের সব নাগরিকদের দেশে ফেরাতে মিয়ানমার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাতে জাতিসংঘকে তাগিদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
শনিবার ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপো গ্রান্ডির সঙ্গে বৈঠককালে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) গ্রান্ডি।
আগামী সোমবার কক্সবাজারে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। তিনি আগামী ১১ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ঢাকায় বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের শরণার্থী ও অনিবন্ধিত নাগরিকদের মানব্কি সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধানকে অবহিত করেন।
এসময় তিনি হাইকমিশনারকে জানান,২০০৫ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রাখাইন মুসলিমকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মিয়ানমারের এই বিশাল সংখ্যক নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করায় ইউএনএইচসিআরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তবে ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া মিয়ানমার সরকার স্থগিত রেখেছে।
হাইকমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, ১০ হাজার ৮২০ শরণার্থীর পরিচয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার উভয় পক্ষ যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পরেও তাদের প্রত্যাবর্তন বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক নাগরিক অব্যাহতভাবে অবস্থান করায় সেখানে ও আশেপাশের জেলাগুলোতে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক, জনমিতিক-পরিবেশগত-মানবিক এবং নিরাপত্তাজনিত বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বৈঠকে জাতিসংঘ হাইকশিনার দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।
এছাড়া রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য রাখাইন মুসলমিদের নাগরিকত্ব না দেয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বৈঠককালে বাংলাদেশ সফর করায় জাতিসংঘ হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডিকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। হাইকমিশনার কক্সবাজার মিশনে সব ধরনের সহযোগিতার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন তিনি।
