এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : একাদশ সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ (মহাজোট) মনোনীত এমপি প্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম তথা নৌকার সমর্থনে প্রচার-প্রচারণার পাঁচদিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে তিনটি স্বরণকালের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, পেকুয়া সদর, টইটং, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, ফাঁসিয়াখালী, হারবাং, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন গণসংযোগকালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। গনসংযোগকালে তিনি একাধিক উঠান বৈঠক, পথসভায় অংশগ্রহন করেছেন। দুপুরে ব্যক্তিগত অর্থায়নে হারবাং ইউনিয়নে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেছেন এমপি প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম।
এদিন সকালে চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ও বাদে জুমা উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামীলীগের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে বিকালে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজবাজারে আওয়ামীলীগ নৌকার সমর্থনে পথসভার আয়োজন করলেও রাজাখালীসহ পাশের টৈইটং, বারবাকিয়া ইউনিয়ন থেকে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও হাজার হাজার জনগনের ঢল নামে পথসভায়। একসময় রাজাখালীর পথসভায় জনসমুদ্রে রূপ নেন। তাঁর আগে এমপি প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে রাজাখালী সবুজ বাজারে নির্বাচনী জনসভায় অংশনিতে যাওয়ার পথে সর্বস্তরের জনতা সড়কের দুইপাশে দাঁিড়য়ে তাকে স্বাগত জানান। জনগনের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে রাজাখালীর জনসভায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নৌকার এমপি প্রার্থী। ওইসময় জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হন আলহাজ জাফর আলম।
রাজাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরু সভাপতিত্বে নৌকার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামীলীগের এমপি প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম। জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চকরিয়া-পেকুয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান।
রাজাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আজাদের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, ছৈয়দ আলম কমিশনার, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ওসমান চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা পরিমল বড়–য়া, রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, টৈইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, পেকুয়া আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন আমু, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক ছেনুয়ারা বেগম, পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বারেক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন বাহাদুর।
অপরদিকে চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ও হারবাং ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভা ও দিনব্যাপী নৌকার সমর্থনে গনসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলা, সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, সহ-সভাপতি মকছুদুল হক ছুট্টু, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জসীম উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোক্তার আহমদ চৌধুরী, এমআর চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল, যুগ্ম সম্পাদক চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, শাহনেওয়াজ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক মিজবাউল হক, আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল করিম, হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেরাজ উদ্দিন মিরাজ, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো.ওয়ালিদ মিল্টন, সহ-সভাপতি বাবু তপন কান্তি দাশ, অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন মানিক, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রতন কুমার সুশীল, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সেলিম উদ্দিন লিটন, কাউন্সিলর রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান লিটন, নজরুল ইসলাম লিটন, ফরিদুল ইসলাম, ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বার, সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, ইউপি মেম্বার মাহাবুবুল করিম, আওয়ামীলীগ নেতা মিফতাব উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা কৃষকলীগের সভাপতি সুলাল কান্তি সুশীল, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফ উদ্দিন মামুন, চকরিয়া পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক খলিল উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ হায়দার আলী, সাবেক সভাপতি শেফায়েতুল কবির চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক সম্পাদক সাজিদ হোসেন শাকিব, সাদ্দাম হোসেন মিঠু, চকরিয়া পৌরসভা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ধুলু, চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ, সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা পারভেজ ও ছাত্রনেতা আবদুল বারেক টিপু প্রমুখ।
রাজাখালীতে নৌকার নির্বাচনী জনসমুদ্রে সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম বলেছেন, চকরিয়া-পেকুয়ার প্রতিটি জনপদে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগন এলাকার উন্নয়ন চান। আগের পুরানো ইতিহাস ভুলে নতুন উদ্যোমে এলাকাকে সাজাতে চান। সেইজন্য চকরিয়া-পেকুয়াবাসি শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নে আস্থাশীল। আজ রাজাখালী সবুজবাজারের বিশাল জনসমুদ্র তাঁর প্রমাণ। ইনশাল্লাহ জনগনের এই ভালোবাসা প্রমাণিত হয়েছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। কেউ গুজব ছড়িয়ে নৌকার বিজয় রুখতে পারবেনা।
আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ার জনগণের কাছে উন্নয়নের বদলে বিএনপি প্রার্থী চান স্বামী দেশে ফেরাতে। তিনি ২০০৮সালে নির্বাচনে স্বামী যখন জেলে ছিলেন, তখন ঠিক একইভাবে মায়াকান্না করে ভোট নিয়ে ছিলেন। এখন মানুষ চাই উন্নয়ন, স্বামীর জন্য মায়াকান্না করে দেশে ফেরাতে আর ভোট দিবে না চকরিয়া-পেকুয়াবাসী। এবার নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ অধির অপেক্ষায় বসে আছে। মনে রাখবেন, এখন ২০০৮সাল নয় ২০১৮সালে তরুণ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ উন্নয়নে মনেপ্রাণে বিশ^াসী।’
তিনি বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ এখন ইতিবাচক রাজনীতি চায়। জ্বালাও-পোড়াও জনগণের পছন্দ নয়। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবন-যাপন জন্য উন্নয়ন সবাই চাই। এদেশের মানুষ জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি প্রত্যাখান করেছে। যারা জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি করে, সেই দলকে মানুষ আর ভোট দেবে না। এবারের নির্বাচনে স্বাধীনতার শক্তি নৌকার কোন বিকল্প নেই। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, উন্নয়ন চায়। শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেওয়ার আহŸান জানান তিনি।
জাফর আলম জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ার গ্রাম হবে শহর। আমি সংসদ নির্বাচিত হলে চকরিয়া-পেকুয়ায় মুল সমস্যা মাতামুহুরী নদী খনন করে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা হবে। শিশু বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক, রাস্তাঘাট নির্মাণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী এ অঞ্চলে ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। তাঁর সাথে বেকার যুবকের কর্মস্থানের জন্য কারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের আহŸান করা হবে।’
আওয়ামীলীগের প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম বলেছেন,দেশের অগ্রগতি ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো সৎ দক্ষ ও বিচক্ষন নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ধারাবাহিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। সেইজন্য সকলস্তরের জনসাধারণকে উন্নয়নের পক্ষে আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
