সাতজনের পরিবারের হাতে দিলেন ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদান
এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে ভোটের দিন নির্বাচনী সংর্ঘষে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল ফারুকের নামাজে জানাযায় অংশ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামমীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। গতকাল সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাযার নামাজের আগে সংক্ষিত বক্তব্য রাখেন। ওইসময় তিনি নিহত ফারুকের মুত্যুর ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের মাধ্যমে সনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে ঘোষনা দেন। এরআগে তিনি তাঁরআগে তিনি নিহত ফারুকের বাড়িতে গিয়ে মা ও স্বজনকে শান্তনা দেন। এসময় তিনি নিহত ফারুকের পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। এরপর তিনি সংঘর্ষে আহত আওয়ামীলীগের আরো ৬জন কর্মীকে দেখতে যান। তাদের প্রত্যেককে ৬০ হাজার টাকা করে নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার তুলে দেন আলহাজ জাফর আলম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন, জিএম আবুল কাসেম, উম্মে কুলছুম মিনু, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছরওয়ার আলম, সহ-সভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিটু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, পেকুয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মো.বারেক, টৈইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহীদুল ইসলাম, রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর, সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল, রাজাখালী সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি, সম্পাদক আবুল কাসেম আজাদ, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন বাহাদুর প্রমুখ।
পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মরহুম আবুল কালামের ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক একজন কোরানে হাফেজ। তিনি পবিত্র কোরআন বুকে ধারণ করার পাশাপাশি মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ নির্বাচনে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহন কালে রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি নেতাকর্মীরা কুপিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হাফেজ আবদুল্লাহ আল ফারুককে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক ফারুককে মৃত্যু ঘোষনা করে। এ ঘটনায় আরো ৬জন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী আহত হয়।
রিহত ফারুকের মাতা আয়েশা বেগম বিলাপ করে বলেন, পবিত্র কোরআন হাফেজ হওয়ার পরও শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার আদর্শ মেনে রাজনীতি করতে গিয়ে কখনো পরিবার থেকে বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। ছেলের স্বপ্ন ছিল শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভাল একটি চাকরি করে তার মা ও ভাই বোনদের সুঃখে রাখবে। কিন্তু ঘাতকেরা তা হতে দেয়নি। মা পুত্রের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিদাবী করেন।
এদিকে গতকাল বিকালে ফারুকের নামাজে জানাযায় হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত আলহাজ জাফর আলম বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক বিএনপির সন্ত্রাসী নেতাদের হাতে জীবন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন। এ ত্যাগের বিনিময়ে আমি চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর সেবা করতে চাই। তাঁর অকালে চলে যাওয়া আমাকে আজীবন পিড়া দেবে। আমি তাঁর বদলে পরিবারের জন্য কিছু করতে চাই। আল্লাহ পাক নিরাপরাধ ফারুককে বেহেস্ত দান করুক, তারজন্য সবাই দোয়া করবেন।
জানা গেছে, ৩ বোন ৫ ভাইয়ের মধ্যে নিহত হাফেজ আবদুল্লাহ ৩য় সন্তান। ১০ বছর আগে পিতা আবুল কালামকে হারিয়ে মা ও চাচাতের হাতে বড় হয়েছেন। পিতার স্বপ্ন ছিল ছেলে পবিত্র কোরআন হাফেজ হবে। স্বামীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে স্ত্রী আয়েশা বেগম কোন অবহেলা করেননি। শত অভাবের মাঝেও পবিত্র কোরআন হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামে অবস্থান করে টিউশনি করে সংসার চলত। শত কষ্ট করে সংসার চালালেও কখনো পিছপা হননি আওয়ামী রাজনীতি থেকে। চট্টগ্রাম থেকে যখন বাড়িতে আসনে তখনি ছাত্রলীগের সভা সমাবেশে তার উপস্থিতি ছিল সরব। ঠিক চট্টগ্রামেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিটিংয়ে তার উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। ঠিক ভোটের ২দিন আগে বাড়িতে আসেন নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য। রবিবার তার ভোটের কেন্দ্র ছিল রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে বিএনপি ক্যাড়ারের স্বশস্ত্র হামলায় হাফেজ আবদুল্লাহ নিহত হওয়ার পাশাপাশি তার দুই চাচা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুরর পহর গুনছে।##
