রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চরিত্র হনন করছে টেকনাফের ওসি – শাহজাহান চৌধুরী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : একাদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন- টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের মিশনে নেমেছেন। তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর দ্বারা পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে বিএনপির ও ধানের শীষের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো ইয়াবা ও অস্ত্র মামলা দিয়ে তাদের চরিত্র হনন করছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি শাহজাহান চৌধুরী এই দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মী ও ধানের শীষের কর্মীদের দমন-পীড়ন ও নির্যাতন শুরু করেছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এর অংশ তিনি নিরীহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করছে। একই সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। নেতাকর্মীদের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখি আসছেন। গায়েবী মামলা দিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও অনেককে এলাকা ছাড়া করেছেন।

তিনি আরো বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ওসি নিজেই আওয়ামী লীগ কর্মীর ভূমিকায় নেমেছেন। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ কাজ করতে নিষেধ করছেন। এতে ক্ষান্ত না হয়ে শেষ মুহূর্তে এসে তিনি বিএনপি শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিনা অপরাধে আটক করে সম্পর্ণূ সাজানো ও পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করছেন।

বিবৃতি শাহজাহান চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ২১ ডিসেম্বর ২৩ দলীয় জোট নেতা সরওয়ার কামাল সিকদারকে দিন-দুপুরে তাঁর নিজ এলাকা আলীখালীর জিন্নাহর দোকান থেকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে দুইদিন থানায় আটকে রাখার পর তিন হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে জঘন্যভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ইয়াবা মামলা ও আরেকটি অস্ত্র মামলা দিয়ে তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাতে উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে মুরাদ হোসেনকেও আসামী করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শাহপরীর দ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিয়ন সভাপতি ইসমাঈল মেম্বারকে লবণমাঠে কাজ করা অবস্থায় বিকাল ৪টায় আটক করে একদল পুলিশ। পরে দুই হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃত এসব নেতার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ইয়াবার মামলা দূরের কথা; কোনো প্রশাসনের কোনো দপ্তরে তাদের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগও নেই।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান আহমদ বি.এ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাতি হাসেম মেম্বার সিআইপি, কবির আহমদ, সাবরাং যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরু, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাব্বির আহামদসহ ২০ জন নেতাকর্মীকে নয়াপাড়া সাইক্লোন শেল্টারে নিচে নির্বাচনী সভা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে জঘন্যভাবে পেট্রোল বোমাসহ আটক দেখিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ একজন আওয়ামী লীগারের ভূমিকায় কাজ করছে। তাঁর এই মিথ্যা ও সাজানো মামলা, বিনা অপরাধে ধরপাকড় ও এবং নির্যাতনের অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে টেকনাফের মানুষ। তারা অতিসত্বর এই বিতর্কিত ওসির প্রত্যাহার চায়। একই সাথে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের স্বার্থে আমরাও অতিদ্রুত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আহŸান জানাচ্ছি।

সংবাদ প্রেরক
এড. হাসান ছিদ্দিকী
সহ-দপ্তর সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা বিএনপি।
০১৬৮৩০৫৪৯৪২।