রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায়ের পালা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখা ও এলাকার সক্রিয় রাজাকারের সাথে বিরোধিতা করার কারণে নির্যাতনের ভয়ে এলাকা ছেড়েছিল আমার বাবা। মায়ের কাছে শুনেছি পাকিস্তানি মিলিটারি যখন টেকনাফ থানায় আসতেছে সেটা শুনে বড় মামা (টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন বিএসসি শিক্ষক তৈয়ব মাষ্টার) বড় মামীকে (টেকনাফ পৌরসভার সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর জনাবা দিলদার বেগম) হ্নীলা পাঠিয়ে দিয়েছিল আর নানার বাড়ির বাকিরা পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মা বাবার মুখে শুনেছি। এলাকায় কট্টর আওয়ামী পরিবার বলে সকলের কাছে পরিচিত। পরিবারে আট ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট।বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে শাহ পরীর দ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাতের আধারে শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মিটিং চলাকালীন সময়ে তৎকালীন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা নুরুল আলম ভাইকে প্রথম দেখেছি, বক্তব্য শুনেছি ও সেই থেকে ছাত্ররাজনীতিতে পথচলা।হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালীন থেকে অধ্যবদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। শাহ পরীর দ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সভাপতি ,বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং শাহ পরীর দ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে,হুমকি ধমকি উপেক্ষা করে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক বর্তমান সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান জননেতা নুর হোসেন এর পক্ষে নির্বাচন করেছি ও জীবনের প্রথম ভোট বিদ্রোহী প্রার্থীকে প্রদান করেছি এবং জনগনের ভোটে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।একই ভাবে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টেকনাফ উপজেলার ছাত্রসমাজের অহংকার নুরুল আলম ভাইয়ের জন্য সময়,শ্রম দিয়ে শাহ পরীর দ্বীপের পাড়ায় পাড়ায় প্রতিটি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছি এবং টেকনাফ উপজেলার সাধারন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।রাতদিন পরিশ্রম করে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে শরীরের ঘাম ঝরালাম আমরা আর ফুলের সুভাস গ্রহন করেছে রাজনীতিতে সুযোগ বুঝে পক্ষ নেওয়া মানুষগুলো। তবুও দুঃখ নেই কারন টেকনাফ উপজেলার একচ্ছত্র রাজনীতির এই ক্রান্তিলগ্নে আলম ভাইয়ের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরী ছিল।দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে শাহ পরীর দ্বীপে আওয়ামীলীগ, যুবলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগের সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে অনেকে মিটিং,মিছিল সহ সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছি,সেই পথচলায় অজান্তে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।ব্যক্তিগতভাবে তোষামোদকারী দের পছন্দ করি না,ছোট মুখে বড় কথা বলা,যেখানে সেখানে নাক গলানো অভ্যাস আমার নিজেরও নেই, দেখতেও পারিনা।টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি সুলতান মাহমুদ ভাই এবং বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম মুন্না এর সাথে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব শাহ পরীর দ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একটি সুন্দর সম্মেলনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করব অথবা প্রয়োজন সাপেক্ষে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা দিলেও আমার কোন আপত্তি নেই।এখন সুসময়, দায়িত্ব নেওয়া ও দায়িত্ব নিয়ে দেওয়ার লোকের অভাব নেই।মনের ভেতর চাপা ক্ষোভ অনেক,আপাতত জীবন গুছিয়ে নেয়,দুঃসময়ে আবার ফিরে আসব।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

লেখক : মো. সাদেকুল আমিন, আহবায়ক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, শাহপরীরদ্বীপ সাংগঠনিক ইউনিট শাখা
এলএলবি(অনার্স),বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, এলএলএম, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম।