রাগের ক্ষতি ও ভয়াবহতা

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

মাওলানা আবদুল জাব্বার : ক্রোধ সংবরণ ও মার্জনাকারী ব্যক্তি মানুষের মাঝে সবচেয়ে জ্ঞানী ও নম্র-ভদ্র ব্যক্তি। বিবেকবান লোকরাই ক্রোধ সংবরণ করেন, এটা অত্যন্ত উপকারী বিষয়। হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর দৃষ্টিতে কোনো বান্দা রাগের ঢোকের চেয়ে উত্তম কোনো ঢোক গেলে না, যা সে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য গিলে থাকে।’মুসনাদে আহমাদ

উমর বিন আহতাম (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি সহনশীলতার মাধ্যমে তার অজ্ঞতার প্রতিকার করে।’ সহনশীলতা হলো ক্রোধের পথে একটি বাধা এবং এটি কোমল বাহন, যা তার আরোহীকে গৌরবের শীর্ষে পৌঁছে দেয় ও উচ্চমানের প্রশংসার অধিকারী করে। যে ব্যক্তি ক্ষমাকে লোকসান এবং ক্রোধকে লাভজনক মনে করল, সে মূলত ভুল করল। কেননা সহনশীলতা ও ক্ষমা প্রদর্শনের স্বাদ প্রতিশোধের স্বাদ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট। সহনশীলতা ও ক্ষমা প্রদর্শনের স্বাদের সঙ্গে প্রশংসনীয় পরিণতি যুক্ত হয়, পক্ষান্তরে প্রতিশোধ গ্রহণের স্বাদের সঙ্গে অনুশোচনার অপমান যুক্ত হয়।

হজরত সোলায়মান বিন সুরাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা নবী করিম (সা.)-এর সামনে দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গালমন্দ করতে লাগল, আমরা তখন রাসুল (সা.)-এর পাশে বসা ছিলাম। এর মধ্যে একজন তার সাথীকে খুব রাগতস্বরে গালমন্দ করছিল। এতে তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখে নবী করিম (সা.) বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার রাগ চলে যাবে। সেটা হলো ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম।’সহিহ বোখারি

হজরত আবু মাসউদ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার এক ক্রীতদাসকে বেত্রাঘাত করছিলাম। হঠাৎ আমার পেছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম, হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো! হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো! রাগের কারণে আওয়াজ কার তা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। যখন তিনি আমার কাছে এলেন, হঠাৎ দেখতে পেলাম, তিনি রাসুল (সা.)। তার ভয়ে আমার হাত থেকে বেতটি পড়ে গেল, তিনি বললেন, হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার ওপর যেরূপ ক্ষমতাবান, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাকে আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিলাম। এরপর রাসুল (সা.) বললেন, যদি তুমি তা না করতে তাহলে অবশ্যই (জাহান্নামের) আগুন তোমাকে ঝলসে দিত। কিংবা তিনি বললেন, আগুন তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করত।’সহিহ মুসলিম

মুয়াররেক আল-ইজলি (রহ.) বলেন, ‘ক্রোধের অবস্থায় আমি যে কথাই বলেছি, তার জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় আমি লজ্জিত হয়েছি।’ হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যখন কষ্টদায়ক কোনো কথা শ্রবণ করবে, তখন তোমার মাথা অবনত করে দাও, যেন তা তোমাকে অতিক্রম করে চলে যায়।’

হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘হে আদম সন্তান!! তুমি তো রাগান্বিত হলেই লাফালাফি করো! হতে পারে তুমি এমন এক লাফ দেবে যার মাধ্যমে জাহান্নামে পতিত হবে।’