টেকনাফ টুডে ডেস্ক : করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পোশাক শিল্পের জন্য দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বৃদ্ধি ও নতুন করে সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক।
সোমবার ‘কোভিড-পূর্ববর্তী এবং চলমান কোভিড পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের বাস্তবতা’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
রুবানা হক বলেন, করোনার সঙ্কটে পোশাক শিল্পের সরবরাহকারী ও ক্রেতা সকলেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। ফলে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে। বিদেশি ক্রেতারা নতুন করে অর্ডার দিচ্ছে না। এ কারণে পোশাক শিল্পের আকাশে মেঘ ঘনীভূত। এ জন্য পোশাক শিল্পের জন্য যে প্রণোদনা প্যাকেজটি দেয়া হয়েছে তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা ও নতুন সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।
তিনি বলেন, করোনা অতিমারি পোশাক শিল্পে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে এর পরিনাম আরো ভয়াবহ হতো, যদি না আমরা স্টেকহোল্ডারদের ক্রয়াদেশ বাতিল ইস্যুতে সোচ্চার না হতাম Ñ যদি না ক্রেতাদের সাথে দর কষাকষি না করতাম এবং যদি না ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিলের ফলে সৃষ্ট শিল্পের দুর্দশা ও চ্যালেঞ্জগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে তুলে না ধরতাম।
বর্তমান এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বিজিএমইএ’র একা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে আমরা আন্তর্জাতিক পরিম-লে আমাদের সম্পৃক্ততা ও চাপ অব্যাহত রেখে কাজ করছি, তারপরও শিল্পের সুরক্ষার জন্য এ মূহুর্তে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে নতুন সহায়তা প্রদান শিল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
রুবানা হক বলেন, বিশ্ব বাজারে আমরা পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিশ্ববাজারে আমাদের শেয়ার মাত্র ৬.৮%। এ বাজারে আরও অংশ করায়ত্ত করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। যদিও ভিয়েতনামকে আমাদের মূল প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হয়, বাস্তবতা হলো, রাতারাতি তাদের পক্ষে সামর্থ্য বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাছাড়া, পোশাক পণ্য ভিয়েতনামের প্রধান রপ্তানি পণ্যও নয়। আবার, কম্বোডিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধা হারিয়েছে। অন্যদিকে, ইথিওপিয়ায় সংঘটিত অস্থিতিশীলতা তাদের শিল্প ও অর্থনীতিকে হূমকির মুখে ফেলেছে।
এগুলোর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বলা যায় সকলে মিলে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়টি মোকাবিলা করতে পারলেই আগামীতে আমাদের পোশাক শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমরা আশা করি, কোভিড-এর দ্বিতীয় ঢেউ আগামী জুনের পর আর দীর্ঘায়িত হবে না। অতএব এটুকু সময়ে আমাদের অর্জনগুলো ধরে রাখতে সবাই মিলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পোশাক শিল্প আজ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। লাখো লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থানকারী এ খাতটি যেন কোনভাবে বিপর্যয় কবলিত না হয়, সেজন্য সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করে শিল্পকে এগিয়ে নেই। একটি সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি গড়ে তুলি।
