হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে বঙ্গোপসাগর হতে মাদকের বড় চালান খালাস করে কক্সবাজার নেওয়ার পথে ৭লাখ ইয়াবা বোঝাই প্রাইভেট কারসহ টেকনাফের ৪জন দূধর্ষ মাদক কারবারী র্যাব-১৫ এর অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে।
জানা যায়,২০মে ভোররাত সোয়া ২টারদিকে কক্সবাজার র্যাব-১৫ (সিপিএসসি) ক্যাম্পের চৌকষ একটি আভিযানিক দল মায়ানমার হতে সাগর পথে মাদকের চালান এনে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারী আব্দুল আমিনের মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যসহ মাদকের একটি বিশাল চালান নিয়ে একটি বিলাস বহুল প্রাইভেটকারযোগে টেকনাফ হতে কক্সবাজার শহরের দিকে পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউপির পাটুয়ার টেক চেংছড়ি মেরিন ড্রাইভ রোডে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে মাদক উদ্ধারের একটি বিশেষ তল্লাশী অভিযান শুরু করে। তল্লাশী চলাকালীন সময়ে টেকনাফ থেকে আগত কক্সবাজারগামী একটি কালো রং এর বিলাস বহুল প্রাইভেটকারকে থামার জন্য সংকেত দিলে তা অমান্য করে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টাকালে র্যাবের আভিযানিক দল প্রাইভেটকারটি থামাতে সক্ষম হয়। পরে প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় গাড়িটি উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে তল্লাশী করে গাড়ির পিছনে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থা হতে ৭লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। এরপর উক্ত গাড়িতে থাকা টেকনাফ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড ডেইল পাড়ার হাজী মোহাম্মদ আলীর পুত্র আব্দুল আমিন (৪০), সদর ইউপির ৬নং ওয়ার্ড গোদারবিলের আবু সৈয়দের পুত্র মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩৫), একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ কাশেমের পুত্র নুরুল আবসার (২৮) এবং টেকনাফ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডেইল পাড়ার মৃত দিল মোহাম্মদের পুত্র জাফর আলম (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুল আমিন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা সম্রাট ও মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। সে প্রথমে মুদির ব্যবসা এবং বিভিন্ন গরুর হাটের ইজারাদারি করতো। পরে সে পলিথিন ও কার্পেট ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এসব ব্যবসায়ের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বার্মাইয়া সিরাজের ইয়াবার বিশাল সব চালান সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলারযোগে আব্দুল আমিনের নিকট পৌঁছাতো। এসব ইয়াবার চালান দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে এসে কয়েক দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে মজুদ করতো। পরে মজুদকৃত মাদকের চালান স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নির্ধারিত এজেন্টদের নিকট সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করে থাকে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১১টির অধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল আমিন ও আবদুল্লাহ পরস্পর মামা-ভাগিনা। আব্দুল্লাহ পারিবারিকভাবে গরু ব্যবসায়ী হলেও ইয়াবা চোরাচালান লাভজনক হওয়ায় গরুর ব্যবসাকালীন সময়ে আব্দুল আমিনের সাথে ইয়াবা ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বার্মাইয়া সিরাজের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং গরু ব্যবসায়ের আড়ালে সিন্ডিকেটটি মাদকের রমরমা ব্যবসা শুরু করে। আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত নুরুল আবসার আবদুল্লাহর বোন জামাই ও মাদক কারবারীর অন্যতম সহযোগী। আব্দুল আমিন ও আবদুল্লাহর নির্দেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবার বড় বড় চালান সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতো আবসার। তার বিরুদ্ধে মাদকের ১টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অপর আসামী জাফর আলম মূলত আব্দুল আমিন ও আবদুল্লাহ সিন্ডিকেটের তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতো। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক সরবরাহ এবং মাদক পরিবহনের বিভিন্ন পয়েন্টে গোপনে অবস্থান করে প্রশাসনের গতিবিধির খবরা-খবর পৌঁছে দিতো। গ্রেফতারকৃত জাফর আলমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ২টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু সালাম চৌধুরী জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত এজাহার দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্য্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ###
