মিয়ানমার থেকে শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পশু আমদানী : তবে দাম আকাশছোয়া

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago
টেকনাফ পাইলট হাই স্কুল মাঠে কোরবানীর হাটে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া দুটি গরু

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, স্টাফ রিপোর্টার :

আবহাওয়ার বৈরীতা কেটে যাওয়ার পর পূণরায় শাহপরীরদ্বীপের করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাধী পশু আমদানি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সাগর পথে আবহাওয়া বৈরীহাওয়ার কারণে ৩দিন গবাদীপশু আমধানি বন্ধ ছিল। এ কারণে বাজারে পশুর দাম বেড়ে যায় ।

এ প্রতিবেদক রোববার টেকনাফের সর্ববৃহৎ পশুর বাজার টেকনাফ মডেল হাইস্কুল মাঠ পরিদর্শন করে এ তথ্য জানা গেছে। ক্রেতারা জানান, পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দাম অত্যধিক। এক সপ্তাহ পূর্বেও যে পশুর দাম ছিল ৫৫হাজার রোববার তার দাম বেড়ে হয়েছে ৭০হাজার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফের গোদারবিলসহ অনেক পাড়ায় প্রচুর পরিমাণ গবাধী পশুর মওজুদ রয়েছে। তারপরও কোরবানীর বাজারে পশুর অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধির কারন রহস্যজনক বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর থেকে একজন সংবাদকর্মী জানায়, মিয়ানমার থেকে সাগর পথে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাধী পশু ট্রলার যোগে আমদানি হচ্ছে। পশু রাখার টাই নেই এবং আরো আসার পথে। এসব পশু দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

পশুর হাটবাজার পরিদর্শন করে আরো জানা যায়, এবার পশুর বাজারে ইয়াবা কারবারীদের আনাগোনা তেমন দেখা না গেলেও তাদের আতœীয়-স্বজনের মাধ্যমে পশুর দাম ও মোবাইল ফেইসবুকের ছবি প্রদর্শন করে পশু বেছাবিক্রি করতে দেখা গেছে। দেশীয় পশুর চেয়ে মিয়ানমারের গবাধী পশুর হাট বাজার দখলে এবং দেশীয় কিছু গবাধীপশু মোটা তাজাকরণ করে পৃৃথকভাবে তাবুটাংগিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়ে আসা গবাধীপশু খুরারোগে আক্রান্ত। তাই ভোক্তারা দেশীয় গবাধীপশুর প্রতি বেশী আকৃষ্ট। পশুর হাটবাজার থেকে ছোটবড় পশু থেকে কি পরিমাণ ইজারা আদায় করবে, প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। ইজারাদারেরা ইচ্ছামাপিক গবাধীপশু থেকে টোল আদায় করছে বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেন। আদায়কৃত ইজারার কোন অর্থ সরকারী তহবিলে জমা না হয়ে শুধুমাত্র প্রভাবশালীদের পকেটভারী হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ ক্যাবল করিডোর দিয়ে আসা গবাধীপশু ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশু আনা নেওয়ার পথে কোন প্রকার চাঁদাবাজী না হয় এবং গবাধীপশু বোঝাই ট্রলারে সাথে মাদক ঢুকতে না পারে সে জন্য পুলিশের নজরদারী রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭-২০১৮অর্থ বছরের প্রথম দেড় মাসে মোট ১৩ হাজার ৪০৭টি গবাধিপশু আমদানীখাতে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৯শত টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থল বন্দর শুল্ক বিভাগ। গত বছর আগষ্ট মাসে ২১ তারিখ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৪৫ টি গুরু এবং ১ হাজার ২৫৭ টি মহিশ আমদানি খাতে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬শত টাকা এবং জুলাই মাসে ৪ হাজার ৬৭১ টি গরু, ২ হাজার ৭টি মহিষ ও ২টি ছাগল আমদানি করে আদায় হয়েছে ৩৩লাখ ৪০ হাজার টাকা। এভাবে পশু আমদানি হলে পশুর হাটবাজারে পশুর সংকট থাকবেনা বলে মনে করছেন গবাধীপশু ব্যবসায়ী ও আমদানি কারকরা সূত্র আরো জানায় ২০১৬-২০১৭ গেল অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৪৯৬টি গরু, ১২ হাজার ৩৯৫টি মহিষ ও ৪৫টি ছাগল আমদানি করে ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়। যা ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের তুলনায় ১ কোটি ৩৭লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার চেয়ে দ্বিগুণ বেশী।
39609994 1922490394485346 1784917386638393344 n TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
উল্লেখ্য মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে পশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাবল করিডোরটি চালু করা হয়। প্রতি গরু মহিষের জন্য ৫শত টাকা ও ছাগলের জন্য ২শত টাকা হারে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়। তবে করিডোর প্রতিষ্ঠার এক যুগ অতিবাহিত হলেও সরকারী ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোসহ কোন স্থাপনা গড়ে উঠেনী। ফলে আমদানিকৃত গবাধীপশুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া আমদানিকৃত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরীক্ষা ছাড়াই পশু আমদানি হচ্ছে।