হুমায়ূন রশিদ : বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন মায়ানমারের এলাকায় সরকারী বাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে লড়াইয়ে নিরুপায় হয়ে ওপারে ৯জন বিজিপি সদস্য পৃথকভাবে স্বশস্ত্র অবস্থায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে বিজিবির নিকট আত্নসমর্পণ করে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিকালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সাদা পতাকা নেড়ে আশ্রয়ের সন্ধানে আশা আরো ১০/১২জন বিজিপি সদস্য বিদ্রোহী গ্রুপের হাতে আটক হয়েছে।
জানা যায়, ১৪এপ্রিল ভোরে মায়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মির স্বশস্ত্র সদস্যরা বলীবাজার ব্যাটালিয়ন দখলের পর পুরমা ও কাচারী বিল ঘাঁটিতে হামলায় চালায়। সেখানে অনেকে মারা পড়লেও প্রাণরক্ষার্থে অনেক বিজিপি সদস্য ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। নাগাকুরার ক্যাংব্রাং উত্তরের ঘাঁটির বিজিপি সদস্যরা পালিয়ে দক্ষিণ পাশের রইংগ্যাদং ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়। অনেকে বোটযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় নাফনদীর দ্বীপে স্বশস্ত্র অবস্থানে থাকা দূবৃর্ত্ত দলের হামলার শিকার হয়। এমতাবস্থায় সকালে গুরুতর আহত পুরমা ঘাঁটির ৬জন বিজিপি সদস্য পৃথকভাবে টেকনাফ ২বিজিবির ঝিমংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে স্থানীয় বিজিবির নিকট আত্নসমর্পণ করে। এরপরই খারাংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে বিজিপির আরো ৩জন সদস্য অনুপ্রবেশের পর আত্নসমর্পণ করে আশ্রয় নেয়। এই খবর পেয়ে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওপারের রাখাইন ও রোহিঙ্গা নাগরিকেরা আতংকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ (বিজিবিএমএস) সাংবাদিকদের জানান,সকালে ৯জন বিজিপি সদস্য অনুপ্রবেশ করে বিজিবির নিকট আত্নসমর্পণ করে আশ্রয় নিয়েছে। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবিকে সর্তক পাহারায় রাখা হয়েছে।
এদিকে বিকাল ৪টারদিকে হ্নীলা বিওপির সামনে নাফনদীর বুকে জেগে উঠা নাগাকুরা দ্বীপের জলভাগে নেমে ১০/১২ জন লোক সাদা পতাকা উড়িয়ে উদ্ধারের জন্য সহায়তা কামনা করে। এসময় ঈদের ছুটিতে বেড়িবাঁধে বেড়াতে যাওয়া শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে বিষয়টি অবলোকন করে। কিছুক্ষণ পর এই দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত হতে বিদ্রোহী গ্রুপ আরএসওর সদস্যরা ২/৩টি বোট এতে আশ্রয় প্রার্থীদের জিম্মি করে। তখন তারা নিরুপায় হয়ে হাত উছিয়ে আত্নসমর্পণ করে। তারপর তাদের বেঁধে বোটে তুলে বিদ্রোহীদের আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬.৪৮মিনিটে উক্ত দ্বীপে গোলাগুলির বিকট শব্দে বাংলাদেশ সীমান্তের লোকেরা আতংকিত হয়ে পড়ে। ###
