ইরাকের মসুলে ঐতিহাসিক আল-নূরি মসজিদ (বাঁয়ে)। বুধবার মসজিদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়
ডেস্ক :
ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক পরাজয় ঘটেছে। গত বুধবার তাদের স্বঘোষিত ‘খেলাফতে’র মূল কেন্দ্র প্রখ্যাত আল-নূরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইএস নিজেই বোমা মেরে ধ্বংস করেছে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তা ধ্বংস হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইরাকের মসুলই ছিল আইএসের সর্বশেষ বড় ঘাঁটি। সেখান থেকে উৎখাত হওয়া এক অর্থে পুরো ইরাকেই আইএসের পরাজয় ঘটা।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেছেন, মসজিদটি উড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা আসলে আইএসের আনুষ্ঠানিক পরাজয়ের ঘোষণা। ইরাকি একজন কমান্ডার বলেন, ইরাকি সেনারা মসজিদটির ৫০ মিটারের মধ্যে পেঁৗছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আইএস বোমা মেরে মসজিদটিকে উড়িয়ে দেয়। মূলত ইরাকি সেনাবাহিনীর অগ্রগমন ঠেকাতেই আইএস জঙ্গিরা আরও একটি ঐতিহাসিক ধ্বংসের অপরাধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহযোগিতা নিয়ে গত বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে ইরাকি বাহিনী, কুর্দি পেশমেরগা যোদ্ধা, সুনি্ন আরব উপজাতির এবং শিয়া ধর্মগোষ্ঠীর আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা মসুল দখলের চেষ্টা করে আসছে। গত জানুয়ারি মাসে পূর্ব মসুলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরাকি বাহিনী। এরপর থেকে শুরু হয় পশ্চিম মসুল দখলের লড়াই। গত রোববার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইরাকি বাহিনী। সে সময় ধারণা করা হয়, পশ্চিম মসুলে এখন মাত্র ৩শ’ জঙ্গি অবস্থান করছে। তবে গত অক্টোবরে সেখানে অন্তত ৬ হাজার জঙ্গি ছিল।
গত মঙ্গলবার ইরাকি বাহিনী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানায়, এবার পশ্চিম মসুলেও আইএস নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যেসব সাধারণ মানুষ আইএসের হাতে আটকা ছিল তাদেরও মুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রাচীন এই শহরটিকে এখন পুরোপুরি আইএসমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
