মগনামা বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি সড়ক নির্মাণে বদলে যাবে পেকুয়া, হবে বাইপাস সড়ক-টার্মিনাল

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া :
পেকুয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম। শুক্রবার ৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন সমবায় কমিউনিটি হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আলহাজ জাফর আলম এমপি বর্তমান সরকারের আমলে চলমান পেকুয়া উপজেলার একাধিক মেগাউন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সারাদেশে এ সরকারের আমলে যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে তার তুলনায় অতীতের কোন সরকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেনি। বিশেষ করে পেকুয়ায় শুরু হয়েছে সাব-মেরিন স্টেশনের কাজ, ৩৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে একতা বাজার থেকে মগনামা পর্যন্ত বানৌজা শেখ হাসিনা মহাসড়ক।
যেহেতু মহাসড়ক কাজ শুরু হয়েছে তাই বাইপাস সড়ক হিসাবে পেকুয়া থানার সামনের সড়কটি প্রশস্তকরণ কাজ এবং পেকুয়া বাজারের হকার ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি সভায় পেকুয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী যানজট নিরসনে একটি টার্মিনাল নির্মাণের আশ^াসও দেন। একইসঙ্গে পেকুয়া বাজারস্থ গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সরকারি জায়গা নির্ধারণ করে মিনি টার্মিনালের মাটি ভরাট কাজ এক সপ্তাহের ভিতর শুরু হবে বলেও অভিমত প্রকাশ করেন। যার বদৌলতে অনেকাংশে যানজট থেকে মুক্ত হতে পারবে পেকুয়াবাসী।
পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চলমান সকল উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ হল রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিককের সকল সুযোগ সুবিধা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করে দিচ্ছেন। দেশে বর্তমানে মুক্তভাবে সাংবাদিকতা করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমিও যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা নির্ভয়ে লিখতে পারবেন। পেকুয়ার সকল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি প্রেস ক্লাব উপহার দিতে আমার পক্ষ থেকে যা যা করার সব করবো।
মতবিনিময় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংসদ বলেন, আমি নৌকার মনোনীত প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হলেও আমি চকরিয়া- পেকুয়াবাসী সকলের এমপি। হানাহানি ভূলে গিয়ে আমি চাই দলমত নির্বিশেষে চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়ন সারাদেশের রোল মডেল হউক। বিএনপি নেতা সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ পেকুয়ায় অসম্ভব উন্নয়ন করেছেন যা সকলের জানা। আমি চাই ওনার চেয়ে আরো বেশি উন্নয়ন দিয়ে পেকুয়াকে উন্নয়নের সেরা উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে। তাতে সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন।
এসময় সাংবাদিকেরা জাফর আলম এমপির কাছে নানা বিষয় তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার আমলে পেকুয়ায় কোটি কোটি টাকার যে উন্নয়ন তা অতীত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু পেকুয়ায় প্রচার প্রচারণার অভাবে তা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। অথচ বিগত সরকার আমলে লাখ টাকার উন্নয়ন হলেই শুরু হতো প্রচারণার বিপ্লব। বেশিরভাগ ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তার কোন তদারকি নাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। সোনালী ব্যাংক ও খাদ্য ঘোদামের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিনের উজানটিয়াবাসীর দাবী করিয়ারদিয়া-উজানটিয়া ও উজানটিয়া-মাতারবাড়ি সংযোগ সেতুর কাজ দ্রুত সময়ে শুরু করার উপর জোর দেন। দ্রুততম সময়ে সাব-মেরিন স্টেশন, বানৌজা শেখ হাসিনা সড়কের কাজ তদারকি করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, একই সাথে দীর্ঘদিনের দুঃখ লাগবে টার্মিনাল নির্মাণ করায় পেকুয়াবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ প্রেস ক্লাব গঠনে ভূমিকা রাখার ঘোষণায় সকল সাংবাদিক সাংসদ জাফর আলমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেমের পরিচালনায় জেলা আ. লীগের উপদেষ্টা প্রবীণ আ. লীগ নেতা এডভোকেট কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা আ’লীগের সদস্য গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন, সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আজম খান, টইটং ইউনিয়ন আ’লীগের সম্পাদক চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম, রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর, মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম, পেকুয়া খণদান সমিতির সভাপতি মাস্টার নাসির উদ্দিন, সেক্রেটারী তারেক ছিদ্দিকী, বাজার সমিতির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন, সেক্রেটারী শাহেদ ইকবাল, পেকুয়া বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ইসমাঈল সিকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কপিল উদ্দিন বাহাদুর সহ আমন্ত্রিত আ’লীগ ও সসহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, পূর্বদেশের প্রতিনিধি এম.দিদারুল করিম, দেশ রুপান্তরের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, সাগর দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম হিরু, দৈনিক কক্সবাজারের প্রতিনিধি মো. হাশেম, অবজারভারের প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন, বাঁকখালী ও যায়যায়দিনের প্রতিনিধি মো. ফারুক, ভোরের কাগজের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন সুজন, রুপসী গ্রামের প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন, হিমছড়ির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বাবুল, আজকের কক্সবাজার ও ৭১ টিভির প্রতিনিধি ইমরান হোছাইন, সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি এফএম সুমন, কক্সবাজার প্রতিদিনের প্রতিনিধি সাজ্জাদুল ইসলাম, আপন কণ্ঠের প্রতিনিধি রেজাউল করিম, মানব জমিনের প্রতিনিধি জয়নাল আবদীন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইনানীর প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন, দেশবিদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি রেজাউল করিম, সকালের কক্সবাজার প্রতিনিধি এম. জোবাইদ, দৈনন্দিন পত্রিকার প্রতিনিধি মুহাম্মদ শাহাজামাল, কক্সবাজার বার্তার প্রতিনিধি মো. হিজবুল্লাহ, দৈনিক কক্সবাজারের প্রতিনিধি বেলাল উদ্দিন বিল্লাল, বিজয় টিভির প্রতিনিধি মুহাম্মদ দিদার, পলাশী টিভির বিশেষ প্রতিবেদক মো. ইকবাল, সমুদ্রকন্ঠের প্রতিনিধি রেজাউল করিম, মোহনা টিভির প্রতিনিধি হারুন, আনন্দ টিভির প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম, এসএনটিভির প্রতিনিধি রেজাউল করিম, মেহেদী পত্রিকার প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বাহার ও রুপালী সৈকতের শাহাদত।