নিজস্ব প্রতিবেদক : পেকুয়া উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন ফুটবল আর ক্রিকেট সহ নানারকমের খেলাধলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের মাঠটি বিশাল আকৃতির হওয়ায় এখানে খেলোয়াড় আর ক্রীডামোদীদের আগমন ঘটে।
তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মেহেরনামা আধাঁখালী ও মছন্যাকাটা এলাকার ছেলেদের মধ্যে কথাকাটাকাটিতে ব্যাপক মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে মছন্যাকাটা এলাকার সরফরাজ, অভি সাত্তার,ডালিসহ অন্তত চারজনকে ব্যাপক মারধর করে আধাখালী এলাকার জাহেদ, জিহাদ,বোরহান, এরফানসহ একটি পক্ষ।
সর্বশেষ আগের ঘটনার জেরে শুক্রবার ২২ জানুয়ারী আহত ডালিম, অভি, সরফরাজ, নোমানসহ তাদের লোজন মিলে প্রতিপক্ষের জাহেদ, জিহাদ, বোরহানকে পেকুয়া আহমদ ডিলার চৌমহনীত পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবু তালেবের সামনে মারধর করে। এ ঘটনার পর এলাকায় উভয়পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুইপক্ষের মধ্যে সংগঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সদর ইউনিয়নের চডাপাড়া বাজারে আ.লীগ নেতা আবু তালেব একপেয়ে আধাখালী এলাকার বোরহান, এরফান, জাহেদ,জিহাদ মিলে ব্যাপক মারধর করে। এতে আবু তালেব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
পরবর্তীতে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সরকারী হাসপাতলে প্রেরণ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। বর্তমানে আহত আবু তালেব কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এনিয়ে এলাকায় নৈরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলাচরম অবনতি হয়েছে। এলাকাবাসি অভিযোগ তুলেছেন, বিদ্যালয়ের মাঠে একছত্র কর্তৃত্ব চালায় এবং নিয়ন্ত্রন করেন স্থানীয় মোহাম্মদ ফারুক তার নিয়ন্ত্রিত ছেলেরা। তাঁরা অহেতুক খেলতে বাঁধা প্রদান করেন এবং খেলতে গেলে টাকা দাবী করেন।
এলাকাবাসি জানান, ভিন্ন এলাকার ছেলেরা বিদ্যালয় মাঠে খেলতে গেলে টাকা দাবি করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মোতাহার বেগমকে অবহিত করেছি এবং স্থানীয় মেম্বার জিয়াবুল হককেও বলেছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন বিচার পাইনি।
আহত বোরহান, জিহাদ, জিহাদ জানান, ঘটনার মুল কারন বিদ্যালয় মাঠ, তাই সংগঠিত ঘটনা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় মাঠে খেলা আপাতত বন্ধের জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর নিকট আকুল আবেদন করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতাহারা বেগম জানান, মাঠে প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটার কথা শুনে আসছি আমি এ বিষয়ে সভাপতিকে বারবার অবহিত করেছি। আপাতত স্কুল মাঠের খেলা বন্ধ করার জন্য ইউএনও মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দীন বাদশা বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, ঘটনার অজুহাত বিদ্যালয় মাঠকে কেন্দ্র করে নয়, মুলত উঠতি বয়সের তরুণদের কথাকাটাকাটিতে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে অবৈধভাবেভাবে টাকা নেওয়ার কথা ভিত্তিহীন বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারপরও বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্তিপুর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
অপরদিকে স্থানীয় ইউপি মেম্বার, জিয়াবুল হক জানান, দুইপক্ষের উত্তপ্ত পরিস্থিতে বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলা বন্ধ রাখা হউক এবং প্রয়োজনে খেলতে হলে অনুমতির নেওয়া হউক।#
