সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনএইচসিআর-এর ৩ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি সই
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অব্যাহত সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৩ মিলিয়ন ইউরোর উদার অনুদানকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমানের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেয়া হয়, যেখানে ছিলেন ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার কার্যালয়ের প্রধান ইটা শুয়েত এবং বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে আসা ইইউ কমিশনার ফর হোম এফেয়ার্স ইলভা ইয়োহানসন।
ইউএনএইচসিআর-এর ইটা শুয়েত বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অবদান আমাদেরকে ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করতে সাহায্য করবে, যেন তারা নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে বাঁচতে পারে, এবং একটি টেকসই সমাধান অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থবহ জীবন যাপন করতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রকল্পের সহায়তায় জাতিসংঘ ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত ও উদার সহায়তা সব সময়ই অমূল্য”।
ইইউ’র কমিশনার ফর হোম এফেয়ার্স ইলভা ইয়োহানসন বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের চলমান সমর্থনে আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেমন এই বছর সরাসরি হুমকিতে থাকা ৪ মিলিয়ন (৪০ লাখ) ইউক্রেনীয়কে আশ্রয় দিয়েছে, বাংলাদেশও ঠিক তেমনি তার সীমান্তে নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে ইইউ ও বাংলাদেশ একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী, এবং কাজের মাধ্যমেই তা প্রমাণিত”।
মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত যে ভাসান চরে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩ মিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় বাংলাদেশের একটি ভালো অংশীদার। তাদের এই সময়োপযোগী মানবিক সহযোগিতার জন্য আমি সত্যিই তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আমাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে”।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অনুদান শরণার্থীদের – বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের – যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মত প্রধান কিছু কর্মকান্ডে সহায়ক হবে। এছাড়াও শরণার্থীরা মনোসামাজিক সাহায্য ও মারাত্মক অপুষ্টি প্রতিরোধমূলক সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পাবে। এর মাধ্যমে শরণার্থীদের পক্ষে জবাবদিহিতামূলক তথ্য পাওয়া আরও সহজ হবে, এবং ভাসান চরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে।
ইইউ বিশ্বব্যাপী ইউএনএইচসিআর-এর অন্যতম অপরিহার্য অংশীদার ও বৃহত্তম দাতা, যা বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাও প্রদান করে।
মিয়ানমারে সহিংসতা ও নৃশংসতা থেকে পালাতে বাধ্য হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় ৯৫০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রয়েছে। কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরের উপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার ভাসান চরে শরণার্থীদের জন্য স্থাপনা গড়ে তুলেছে ও নেতৃত্ব দিচ্ছে সে প্রকল্পের, যেখানে বসবাস করছে ২৮,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী।
