মোদি ঝড় শেষ এবার প্রিয়াংকা জাদু

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

সালমান রিয়াজ |

কংগ্রেসের এক ঝাপটায় বদলে গেল ভারতের নির্বাচনী হাওয়া। প্রিয়াংকা গান্ধী আসছেন- শুনতেই কপাল ঘেমে গেছে বিজেপির। ভারতের নির্বাচনী মঞ্চে এখন একটাই নাম- প্রিয়াংকা। কংগ্রেসের ‘ছোট ইন্দিরা’।
২০১৪ সালে ঠিক এমন ‘মোদি ঝড়ে’ মসনদে উঠেছিল বিজেপি। এবার পাল্টা বান মারছে কংগ্রেস, নাম ‘প্রিয়াংকা জাদু’। দিন কয়েক ধরেই এই ভয়টিই পাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

শেষ পর্যন্ত সেটাই জেঁকে বসল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কূটচালে। তার শেষ ‘তুরুপের টেক্কা’ ছোট বোন প্রিয়াংকা গান্ধীকে (৪৭) রাজনীতিতে এনে সোজা মোদি-যোগীর ডেরায় পাঠিয়ে দিলেন। রাজনীতিতে ‘দ্বিতীয় ইন্দিরা গান্ধী’ হিসেবে পরিচিত প্রিয়াংকার হঠাৎ আবির্ভাবে ভারতের নির্বাচনে হাওয়া বদল শুরু হয়েছে। নতুন ভাবে উজ্জীবিত হচ্ছে কংগ্রেস। বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বিরক্ত শরিকদলগুলোর কেউ কেউ প্রিয়াংকার জাদুতে মত্ত হতে চাইছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ভারতের রাজনীতিতে ‘মোদি ম্যাজিক’, ‘মোদি ঝড়ের’ দিন শেষ হতে চলল।

এনডিটিভি জানায়, প্রিয়াংকার রাজনীতিতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের আধিপত্য বেড়ে গেল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহেরু।

গত ৭১ বছরের মধ্যে ৫০ বছরই দেশকে শাসন করেছেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্যরা। এ পরিবার থেকে জন্ম হয়েছে তিনজন প্রধানমন্ত্রীর, যাদের দু’জনই গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন।

প্রিয়াংকার রাজনীতিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে পরিবারতন্ত্র বজায় রাখল কংগ্রেস। রাজীব-সোনিয়ার মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। প্রিয়াংকাকে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেই তিনি সেখানে যাবেন।

প্রতিবার ভোটের আগে প্রিয়াংকার রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলে। কিন্তু কখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ গ্রহণ করেননি। উত্তরপ্রদেশের যে দুই লোকসভা আসন গান্ধী পরিবারের খাসতালুক বলে পরিচিত, ভোটের সময় রাহুলের আমেথি ও সোনিয়ার রায়বেরিলিতে প্রচারণার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখতেন প্রিয়াংকা।

কংগ্রেসের এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশের যে অঞ্চলের দায়িত্ব নিলেন প্রিয়াংকা, সেখানকার বারানসী প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্বাচন কেন্দ্র। আরেকটি গোরখপুর আসনে লড়বেন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই পূর্বাঞ্চলে বিজেপি তাদের পায়ের তলার জমি শক্ত করে ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) কংগ্রেসকে ছাড়াই জোটবদ্ধ হয়েছে। আমেথি ও রায়বেরিলি ছাড়া বাকি আসনগুলো নিজেদের মধ্যে বাটোয়ারা করে নিয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি রাজ্যে একার শক্তিতে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। বোনকে দলীয় দায়িত্বে এনে রাহুল রাজ্যের কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে চাইছেন। পাশাপাশি এ কথাও বোঝাতে চাইলেন যে রাজ্যে দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে তিনি আগ্রহী।

দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোমা চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব বা প্রতিপক্ষের টক্কর নেয়ার ক্ষমতা ধরলে প্রিয়াংকা অবশ্যই কংগ্রেসের জন্য সম্পদ। প্রিয়াংকা এখনও ফুরিয়ে যাননি। তবে তাকে উত্তরপ্রদেশে জোড়াতালি দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হলে তাতে বিশেষ কিছু হবে না। রাজনীতির স্বার্থে তাকে আরও সামনে আনতে হবে। কারণ তার মধ্যে ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখছেন ভোটাররা।

রাজনীতিতে প্রিয়াংকার পদার্পণে খুব খুশি বিজেপির বহুদিনের শরিক শিবসেনা। বৃহস্পতিবার বিজেপির তিন দশকের পুরনো ‘বন্ধু দল’ শিবসেনার মুখপাত্র মনীষা কায়ান্ডে বলেন, প্রিয়াংকার মাঝে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিচ্ছবি দেখছেন ভোটাররা।

শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘গত দু’মাস ধরেই বুঝতে পারছি, অচ্ছে দিন আসছে কংগ্রেসের। বিজেপির ঘাঁটি তিনটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে জিতল কংগ্রেস। তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, প্রিয়াংকাজি আসছেন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে।’

কয়েক বছর ধরেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে শিবসেনার। প্রিয়াংকার রাজনীতিতে পদার্পণের খবরে তাই বিজেপিকে খোঁচা দেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করল না শিবসেনা। সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘প্রিয়াংকাকে রাজনীতিতে আনার ব্যাপারে বিচক্ষণের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল। আমাদের দেশের মানুষ বরাবরই গান্ধী পরিবারের সঙ্গে থেকেছেন। ইন্দিরা গান্ধীর উত্তরাধিকার সব সময়ই থাকবে এ দেশে।

সূত্র : যুগান্তর