ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

ডা. মারুফা খাতুন : গর্ভধারণ ও প্রসব নারীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি নারীই চায় তার সন্তান যেন নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ভয়, ভীতি ও শঙ্কা। এই ভয়ের মূল কারণ হলো প্রসবব্যথা। নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি মায়ের অধিকার। একজন মা সন্তান প্রসব করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সম্মুখীন বা তীব্র ব্যথায় জর্জরিত হোক, এটা কাম্য নয়। তাই সর্বস্তরে ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব প্রসূতি মায়ের জন্য জরুরি।

নারীর প্রসাব ব্যথা লাঘবের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করে আসছে। তারই ফলে ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্য। অত্যাধুনিক বহির্বিশে^ প্রসব ব্যথা শব্দটি এখন জাদুঘরে। সেখানে আমাদের দেশে এখনো প্রসব ব্যথা লাঘবের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের আগ্রহ ও জানা নেই। মায়ের বুকফাটা চিৎকার আর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তান জন্ম নেবে এটাই যেন স্বাভাবিক।

প্রায়ই এই তীব্র ব্যথার ভয়ে অনেকেই স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে বেছে নিচ্ছে পূর্বপরিকল্পিত সিজারিয়ান ডেলিভারি। তাই অপ্রতিরুদ্ধভাবে বেড়ে চলেছে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার। মাত্রাতিরিক্ত সিজারিয়ান ডেলিভারির কারণে বেড়ে যাচ্ছে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, জরায়ু ফেটে যাওয়ার মতো জীবনঘাতী রোগ। হুমকির মুখে পড়ছে মা ও বাচ্চার জীবন। অথচ একজন প্রসূতি মাকে যদি নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত প্রসব নিশ্চিত করা যায় তাহলে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়বে ও প্রসবপরবর্তী জটিলতা কমবে।

ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব কী?

যোনিপথে বাচ্চা প্রসবের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেখানে কোমরে একটি ক্যাথেটারের মাধ্যমে ব্যথা সংবেদনশীল স্নায়ুগুলোতে

ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে মস্তিষ্কে ব্যথার পরিবহনকে ব্যাহত করা হয়। ফলে মা ব্যথা অনুভব করতে পারে না। তবে খুব অল্প পরিমাণে ওষুধ প্রয়োগ করা হয় বলে সে স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন হাঁটাচলা, খাওয়া, টয়লেটে যাওয়া সবই করতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?

প্লাস্টিকের চিকন ক্যাথেটার বা নল স্পিনাল কর্ডের বাইরে এপিডুরাল স্পেসে প্রবেশ করানো হয়। যা দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। প্রসব প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যখন জরায়ুর মুখ ৪-৫ সেমি খুলে যায় এবং ব্যথা তীব্রতর হয় সাধারণত তখন ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা হয়।

কাদের জন্য প্রযোজ্য

যে কোনো প্রসূতি মা, যিনি প্রসব প্রক্রিয়ায় ব্যথামুক্ত থাকতে চান, তিনিই এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কারও মেরুদ-ের কোনো গঠনগত ত্রুটি থাকলে অনেক সময় ক্যাথেটার প্রয়োগে অসুবিধা হতে পারে।

উপকারিতা

ব্যথামুক্ত প্রসব মায়েদের একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ফলে স্বাভাবিক প্রসবের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি ও অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কমে যায়। যেহেতু নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই মা ও বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কোনো ধরনের জটিলতা হলে সহজেই প্লাস্টিক ক্যাথেটারের মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগ করে অবশ করে সিজারিয়ান ডেলিভারি করানো যায়।

কোনো জটিলতা আছে কিনা?

নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও দক্ষ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলে জটিলতার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে মা ও বাচ্চার কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রয়োজন হতে পারে।

সহকারী অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।