বিএনপির সমাবেশে তারেকের যুক্ত না হওয়ার নেপথ্য কারণ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ১লা সেপ্টেম্বর শনিবারের বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে লন্ডনে পলাতক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে সমাবেশে করণীয় নিয়ে মির্জা ফখরুল ও রিজভীর সাথে দ্বন্দ্বের কারণে শেষ পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হননি তারেক।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুল ও রিজভীকে বড় ধরণের আন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তারেক। খালেদার মুক্তি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলা প্রসঙ্গ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সমাবেশে কঠিন আন্দোলন ঘোষণার কথা বললেও ফখরুল ও রিজভী রাজি হননি।

গোপন সূত্রে জানা যায়, সমাবেশের আগের রাতে তারেক- মির্জা ফখরুলকে ফোন করে সমাবেশে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা বলে এবং সমাবেশ থেকেই আন্দোলন শুরু করার পরামর্শ দেয়, তবে ফখরুল তাতে রাজি হয়নি। পরে তারেক রিজভীকে ফোন করলে তিনিও আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এত তারেক রেগে গিয়ে দু‘জনকেই গালি-গালাজ করে ফোন রেখে দেন।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনে পেট্রোল বোমা মেরে জীবন্ত মানষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জনগণের কাছে বিএনপির ইমেজ খারাপ হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিএনপির ইমেজ খারাপ হয়েছে। যার কারণে বিদেশী রাষ্ট্রগুলো বিএনপির পক্ষে কথা বলতে চায় না। সে কারণেই আবারও আন্দোলনের নামে মানুষ মেরে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে চায় না দলের অধিকাংশ নেতা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপির এক নেতা জানায়, আন্দোলন করে বিএনপির অর্জনের থেকে ক্ষতিই বেশী হয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আবার সহিংস আদোলন করলে নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না। নির্বাচনকে সামনে রেখেই ফখরুল তারেকের প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

সমাবেশের দিন নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভিডিও কনফারেন্সে দিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। তবে ফখরুল আর রিজভীর সাথে মত পার্থক্য হওয়ায় তারেক শেষ পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্স না করার সিদ্ধান্ত নেয়।