স্পোর্টস ডেস্ক |
সুপার ফোরে দুটি করে ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই বিন্দুতে। দু’দলের সামনেই অভিন্ন সরল সমীকরণ। জিতলে ফাইনাল, হারলে বিদায়। এবারের এশিয়া কাপে গ্র“পপর্বে দু’দলই রানার্সআপ হয়েছিল। সুপার ফোরের প্রথম দুই ম্যাচেও একই ফল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে কষ্টের জয়, ভারতের বিপক্ষে প্রতিরোধহীন হার।
একটি করে জয় ও হারে দু’দলের পয়েন্টও সমান। আবুধাবিতে আজ এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেয়া ম্যাচে তাই কাউকে এগিয়ে রাখতে হলে পরিসংখ্যানই সামনে আনতে হবে। স্মৃতি হাতড়ালে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি পেতে পারেন মাশরাফি মুর্তজারা।
ওয়ানডেতে সর্বশেষ ২০১৫ সালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে সেবার তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল স্বাগতিকরা। আজ সুপার ফোরের শেষ ম্যাচের বিজয়ী দল শুক্রবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে।
২০১৫ সালের পর বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও নিজেদের অনেক বদলে ফেলেছে। একসময় র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পেছনে চলে যাওয়া পাকিস্তান এখন দুই ধাপ এগিয়ে রয়েছে। তবে এশিয়া কাপে রাজা হওয়ার ম্বপ্নে মাঝে যে ধাক্কাটা লেগেছিল, সেটা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচে তিন রানের নাটকীয় জয়ে এখন ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর মাশরাফিরা। আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই শিরোপা-স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।
একসময় দু’দলের মুখোমুখিতে নিশ্চিত বলে দেয়া যেত পাকিস্তান জিতবে। কারণ দু’দলের প্রথম ৩২ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র একটি। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ২৫ ম্যাচে হারের রেকর্ড ছিল। এখন সব মিলিয়ে ৩৫ বারের মুখোমুখিতে বাংলাদেশের জয় চারটি, পাকিস্তান জিতেছে ৩১ ম্যাচ। তবে বলে-কয়ে বাংলাদেশকে হারানোর দিন শেষ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানও এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে প্রবল চাপে থাকে।
সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দুইশ’ ছুঁতে পারেনি। পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে দুইশ’ পার করলেও নয় উইকেটে হেরেছে। আফগানিস্তানের স্পিনারদের বিপক্ষে লড়াই করেছেন দু’দলেরই ব্যাটসম্যানরা। রশিদ খানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ আড়াইশ’ রানের কাছাকাছি যেতে পারে মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েসে দারুণ ব্যাটিংয়ের কারণে। পাকিস্তানও আফগানদের বিপক্ষে আড়ইশ’ ছাড়ানো রান তাড়া করে জয় পায় মিডল অর্ডারে শোয়েব মালিকের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের সুবাদে। ধারে-ভারে তাই পাকিস্তান যে এগিয়ে, এমন যুক্তি দেখাতে পারছেন না কেউই।
বরং পাকিস্তানের পেস বোলিংকে ভেজা বারুদ মনে হচ্ছে। স্পিনাররাও খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। সর্বোচ্চ উইকেট পাওয়া বোলারদের তালিকায় সেরা ১৯ জনের মধ্যেও নেই পাকিস্তানের কেউ! এখান থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের রসদ নিতে পারে বাংলাদেশ। তবে লেগ-স্পিনার মানেই তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক। সে হিসেবে শাদাব খান আজ মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন। এশিয়া কাপের মাঝপথে বাংলাদেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ইমরুল কায়েস আগের ম্যাচে প্রবল চাপের মুখে ৭২* রানের ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনার থেকে টেনে তুলেছেন। বাংলাদেশের অস্বস্তির মূলে রয়েছে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা।
এশিয়া কাপে চারটি ম্যাচেই পাওয়ার প্লের মধ্যে অন্তত দুটি উইকেট হারিয়েছে দল। আগের ম্যাচে অনেক আলোচনার পরও ওপেনিংয়ে পরিবর্তন আনেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই আজ লিটন দাসের সঙ্গী হতে পারেন জরুরি ভিত্তিতে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকার। ব্যাটিং অর্ডারেও ওলটপালট আসতে পারে। আগের ম্যাচে তিন স্পিনার নিয়ে খেলে সফল হয়েছেন মাশরাফিরা। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরাও স্পিনে সুবিধা করতে পারছেন না।
তাই উইকেট, কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের কথা মাথায় রেখে আজও তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ। ঠাসা সূচির মধ্যে একদিন বিশ্রাম পেয়ে ফুরফুরে দল। প্রচণ্ড গরমে আগের ম্যাচে বোলিংয়ের সময় বোলারদের যে সমস্যা হয়েছে সেটা যেন না হয়, এজন্য দলের ফিজিও কিছু উপায় বলে দিয়েছেন ক্রিকেটারদের। বাঁচা-মরার রূপ নেয়া ম্যাচে জিততে হলে বাংলাদেশকে সাহসী ক্রিকেট খেলতে হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ষষ্ঠ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অঘোষিত সেমিফাইনাল। এই ম্যাচে যারাই জিতবে তারা খেলবে শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন সৌম্য সরকার। ওপেনিংয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত প্রত্যাশা মাফিক খেলতে পারছেন না। তার পরিবর্তে একাদশে সৌম্যকে দেখা যেতে পারে। এটাই টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া।
তবে এশিয়া কাপের সর্বশেষ তিন ম্যাচে ৬, ৭ ও ৭ রানে আউট হওয়া তরুণ ওপেনার শান্তর ওপর আস্থা রাখছেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে শান্তকে রাখার পক্ষে কোচ। যে কারণে টস হওয়ার আগে বলা মুশকিল কে খেলছেন, সৌম্য নাকি শান্ত।
শুধু বাংলাদেশই নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট দলেও পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে যাওয়া সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটি একাদশের পাশাপাশি খেলার কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: লিটন দাস, সৌম্য সরকার/নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ মিঠুন, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু।
পাকিস্তান সম্ভাব্য একাদশ: ইমাম উল হক, ফখর জামান, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, আসিফ আলী, শাদাব খান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হাসান আলী, মোহাম্মদ আমির, শাহিন শাহ আফ্রিদি।
