বদরখালী ছিরাদিয়াঘোনা নিয়ে নতুন নাটক ; জমি মালিকদের আল্টিমেটাম

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদের ইউনিয়ন বদরখালীতে ২০০ পরিবারের মালিকানাধীন বদরখালী ছিরাদিয়া ঘোনায় ভূমিদস্যুতা নিয়ে সংগঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন জমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, শতবছর ধরে দুইশত পরিবার পরস্পর মিলেমিশে নিজেদের বৈধ ঘোনাটি লাগিয়ত দিয়ে রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে ভোগদখলে থাকলেও একটি কতিপয় মহল বৈধ ঘোনাটি নিয়ে নানাধরণের চক্রান্তে মেতে উঠেছে। এ অবস্থার কারণে প্রশাসনসহ সর্বমহলে ছিরাদিয়া ঘোনার সুনাম ও ঐহিত্য ভুলুন্ডিত হচ্ছে।
সর্বশেষ ওই মহলটির চক্রান্তে বদরখালী ছিরাদিয়া ঘোনায় ভূমিদস্যুতা ও জবরদখলের মতো ঘটনার প্রাদুর্ভাবও ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জমি মালিকরা। এরই প্রেক্ষিতে বদরখালী ইউনিয়নের মগনামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ২০০ পরিবারের মধ্যে সিংহভাগ মালিক উপস্থিত থেকে ঘোনা নিয়ে শুরু করা অনভিপ্রেত ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা প্রশাসনসহ সর্বমহলের জ্ঞাতার্থে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ছিরাদিয়া ঘোনার জটিলতা নিরশনপুর্বক শাসন সংরক্ষনের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
বদরখালী ছিরাদিয়া ঘোনার মালিক দুইশত পরিবারের সদস্যরা বলেন, ছিরাদিয়া ঘোনাটি ২১০ একর আয়তন বিশিষ্ট একীভূত ঘোনা। এখানে কোন ধরণের খাস জমি অবশিষ্ট নেই। তদমধ্যে মালিকদের নামে ১৫৭ একর খতিয়ানী তথা রেকর্ডভুক্ত এবং ৪৭ একর লীজভুক্ত (সমিতির সাথে মামলাধীন) উচ্চ আদালতের আদেশ জারী আছে)।
২০১ একর আয়তনের ঘোনাটি ১৯৬৩/৬৪ সালে বদরখালী সমিতির প্রয়াত সম্পাদক মরহুম হাজী এজাহারুল হক সিকদার ( নুরুল ইসলাম সিকদার চেয়ারম্যান ও নুরুজ্জামান সিকদার এর পিতা) প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে অধ্যবদি ঘোনাটি লাগিয়ত দিয়ে শাসন সংরক্ষন করে আসছেন সিকদার পরিবার। পরবর্তীতে ঘোনাটি নিজেরা প্রতিষ্ঠা করলেও পাশের প্রতিবেশির জন্যও কিছু সম্পত্তি বরাদ্দ নেন। এতে প্রমাণিত হয় সিকদার পরিবার নিজেরা সব সম্পত্তির মালিকানা রাখেনি।
ঘোনার মালিকরা বলেন, সকল সদস্যদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ঘোনাটি গত ১০ বছর ধরে ইজারাদার হিসেবে নাজেম সওদাগরকে বর্ষা মৌসুমের জন্য লাগিয়ত করে আসছেন। নাজেম সওদাগর সেই আলোকে ঘোনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন পূর্বক শান্তিপূর্ণ ভাবে চাষাবাদ করে আসছেন। শুষ্ক মৌসুমে যার যার মাঠ তিনি (জমি মালিকরা) লবন উৎপাদন করে আসছেন
তবে ২০২১ সালে পরবর্তী বছরের মৎস্যচাষের জন্য ইজারা দেয়ার সময় হলে মতবিরোধের কারণে সিকদার পরিবার এর পক্ষে নাজেম সওদাগর ঘোনাটি পুনরায় লীজ নেন। অন্যদিকে কিছু মালিকপক্ষের অংশিদার হিসেবে আহসানুল কাদের সাব্বির গং চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনার জামাল হাজী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন।
জমি মালিকরা দাবি করেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ইতোমধ্যে ইজরাদার নাজেম সওদাগর সর্ম্পুণ ২১০ একর ঘোনার উপর ১৪৪ ধারা আনেন। এরই প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার সাবেক ওসি ওসমান গনির মধ্যস্হতায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্ট ও রশিদ আহমদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়। উলে­খিত বৈঠকে ঘোনার জমির মধ্যে রেকর্ড যাচাই করে ৮০ একর সিকদার পক্ষে (নাজেম সওদাগর) পক্ষে পাওয়া যায় এবং ৭০ একর সাব্বিরের পক্ষে (জামাল হাজীর) পক্ষে পাওয়া যায়। অবশিষ্ঠ ৫০ একর জমি লীজ সম্পত্তি উভয়পক্ষ হারাহারি ভোগদখলে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
সিকদার পরিবার পক্ষের ঘোনার মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, স¤প্রতি সময়ে সাব্বির গংয়ের জামাল হাজি ঘোনায় কিছু লোক দেখানো উন্নয়ন মূলক কাজ করতে গিয়ে জোয়ারের সময় পানিতে ছয় হাজার মন লবন পানিতে ভেসে যায়। মুলত উক্ত লবন মাঠ লাগিয়ত নিয়েছিলেন মরহুম নুরুস সোবহান সিকদারের ছেলে মানিক ও জিয়াবুল সিকদার। উক্ত ঘটনায় তাদের ৩০ লাখ টাকা এবং চাষিদেরও সম পরিমান ক্ষতিসাধন হয়েছে।
জমি মালিকদের দাবি, লবণ ভেসে গিয়ে ক্ষতিসাধনণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এতে অভিযুক্তরা (জামাল হাজীর) লোকজন ক্ষতিপূরন না দেবার কুমানসে উল্টো ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে ঢালাও অপপ্রচার চালিয়েছে। এমনকি খবর ছড়িয়ে প্রশাসনসহ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্ঠা করেছে। এইধরণের ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
ছিরাদিয়া ঘোনার অংশিদার সিকদার পরিবার পক্ষের জমি মালিকরা বলেন, বর্তমানে আমাদের ঘোনাটি আদালতের মাধ্যমে দাগ-সিট মোতাবেক সেপারেশন এর প্রক্রিয়াধীন। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ঘোনার মালিকানা সেপারেশন হয়ে গেলে আগামীতে যার যার পছন্দ মোতাবেক ইজারাদারকে লাগিয়ত করতে পারবেন। তখন নিজেদের মধ্যে কোনধরণের বিভেদ বৈষম্য থাকবেনা। তাই সেই পর্যন্ত সবাইকে ধৈয্য ধরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমি মালিকরা অনুরোধ করেছেন। ##