এক.
আজ বিশ্ব এক নিরব প্রলয়ে থর থর করে কাঁপছে, স্বজন হারানোর বেদনায় যখন নির্ঘুম রাত পোহাচ্ছেন মানব সভ্যতা, নিজের প্রাণ সংহারের নাভিশ্বাস সারা দুনিয়ার আদম জাতিকে ঘিরে ধরেছে ঠিক সেই সময়ও কিছু দুনিয়ালোভী , স্বার্থলোভী বঙ্গপালের খবর সত্যি বুকে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করে। শুনেছি পঙ্গপালের দল ফসল খেকো কিন্তু এই সব বঙ্গপালের দল শুধু ফসল নয় ! ফসলি জমি, পাহাড়ের কাঠ , রাস্তা ঘাট, খাল-বিল নদী-নালা,গ্যাস থেকে খনির কয়লা কি বাদ গেছে এই হায়েনাদের হাত থেকে? অর্থ পাচার,মানব পাচার, শেয়ার বাজার থেকে ক্যাসিনো ,ব্যাংক বীমা সব যখন যা পায় সব খায় । রক্ত মাংস হাড় কোন কিছু বাদ পড়ে না তাদের নজর থেকে। শেষ পর্যন্ত হত দরিদ্র মানুষের ত্রাণের উপর পড়েছে এদের শকুনি দৃষ্টি। এক কথায় এরাই বঙ্গপালের দল, এরাই নর খেকো , এরাই সভ্য সমাজের লেবাসধারী চোর , বাটপার, এরাই হীন কাপুরুষ, এরাই সমাজের ক্ষতিকর কীট। ধিক এদের শত ধিক, নিপাত যাক এই সব বঙ্গপালের দল , যাদের সব কিছু থাকার পরেও অসহায় দরিদ্র মানুষের দুমুটো খাবারে কুনজর পড়ে। কবির ভাষায়….এই জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি রাজার হস্তে করে হয় সমস্ত কঙ্কালের ধন চুরি!!
দুই.
পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্র বলতে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ফ্রান্স চীন সহ অন্যান্য যেসব রাষ্ট্রকে বুঝি , সেই সব রাষ্ট্র সমূহও এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ছোবলে অসহায় হয়ে পড়েছে সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে নেয়া প্রদক্ষেপ এখনো মোটামুটি সন্তোষজনক বলা যায়। তারপরও সমানে হয়তো আরও বড় ধরণের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারে আমার এই মাতৃভূমি বাংলাদেশকে, হে আল্লাহ আপনি আমাদের এই গরীব রাষ্ট্রকে রক্ষা করুন আমিন!
করোনা মহামারীর হুমকিতে বাংলাদেশের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে…. আজ এই জাতির ক্লান্তিকালে সরকার ও দেশের সচ্ছল দয়াবান মানুষ যেভাবে আর্থিক সহযোগিতা ভুখা , গরীব ও অসচ্ছল মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছে তা সত্যি প্রশংসা করার মত… কিন্তু সেই সাথে আরেকটা বিষয় অবতারণা করা যৌক্তিক মনে হচ্ছে তা হলো আমার প্রতিবন্ধী সমাজ বা পিছিয়ে পড়া মানুষ যারা হয়তো আপনি আমার মতো করে আকাশ আকাশের নীল রং , সূর্যের কিরণ কিংবা রাতের হিমেল হাওয়া ছড়ানো জোছনার মৃদু হাসি দেখতে পায়না! আর না দেখতে পারে প্রিয়জনের সুন্দর মুখ , এমনি বন্ধুর অঙ্কিত ছবি খানাও ! কারণ তাদের যে আপনার আমার মতো দৃষ্টি শক্তি নেই, তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী , অনেকেই আবার অন্ধ কানা বলতেও পিছপা হন না!
আমি এই দুর্যোগের সময় তাদের বিষয়ে অবতারণা করতে চাই যারা দেখতে আপনি আমার মতো দেখালেও প্রকৃত পক্ষে আপনার আমার মতো কথা বলতে পারে না, শুনতে পায় না.. সেটা গান গজল , তেলাওয়াত কিংবা প্রিয়জনের কোমল সুরে হৃদয় স্পর্শী ডাক! না তারা কিছু বলতে পারে না ..শুনতেও পায়না! কান আছে কিন্তু শ্রবণশক্তি নেই কণ্ঠ আছে , মুখ জিহ্বা সব আছে কিন্তু বাকশক্তি হীন করে গড়েছেন স্রষ্টা । তারা বাক- শ্রবণ প্রতিবন্ধী । কিন্তু কেউ কেউ বোবা কালা বলেও ডাকে সেটা ভালো করে হোক বা অবজ্ঞা করে হোক। এই রকম শারীরিক ও মানসিকভাবে ভাবে অসুবিধা গ্রস্থ সকল ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের কথা আমি বলছি ! হোক সেটা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী , বেকার, অসচ্ছল খেটে খাওয়া মানুষ বা ভিক্ষুক সকলেই আমাদের সমাজের একটি অংশ। আমার বা আপনার , আমাদের বা আপনাদের মা , বাবা , ভাই বোন অথবা আত্মীয় স্বজন যারা বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে আমি তাদের কথা বলছি।
সত্যি বলতে কি যখন কোনো প্রতিবন্ধী ভাই কান্নার সুরে বলে ভাই আমি খেতে পারছিনা, আমার খাবার নেই , খাবার বা ঔষধ কিনার টাকা নেই তখন নিজেকে সত্যি খুব অসহায় মনে হয়! তখন নিজেদের ধিক্কার দিয়ে বলি সভ্য সমাজের তুঙ্গে থাকা মানুষের এমন হওয়ার তো কথা নয় , হয়তো আমরা সাম্যের কথা ভুলে গেছি , হয়তো আমরা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি।
সরকার ও দেশের সচ্ছল দয়াবান মানুষের প্রতি আমার আকুল আবেদন , এই অসহায় গরীব দুঃস্থ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে এগিয়ে আসুন, এই আপদকালীন সময় দেশের সকল প্রতিবন্ধীদের জন্য ছড়িয়ে দিন আপনার স্নেহের পরশ, তারা বেঁচে থাকলে আপনিও সুন্দর থাকবে ,জয় হোক সুন্দর মনের মানুষের জয় হোক মানবতার।
প্রতিবন্ধীদের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা …
** প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা।
** লকডাউন করা এলাকায় প্রত্যেক প্রতিবন্ধীদের ঘরে ঘরে ত্রাণ বা উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া!
** যেহেতু বর্তমানে প্রতিবন্ধীদের আয়ের উৎস নেই বললেই চলে তাই পর্যাপ্ত ত্রাণ বা উপহার সামগ্রী বিতরণ করা
** প্রতিবন্ধীদের ঔষধ পথ্যের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা।
সর্বশেষ মহান আল্লাহর দরবারে এই ফরিয়াদ করি ..হে আল্লাহ আপনি আমাদের ও আমার প্রাণ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে এই ভয়াবহ করোনা থেকে আপনার রহমতের করুনা দিয়ে রক্ষা করুন আমিন।
মোঃ রফিকুজ্জামান
সভাপতি ” পরশ”
মুরাদপুর চট্টগ্রাম
01820284937
