ফলোআপ :- হ্নীলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক চক্র ও স্থানীয় দালালদের অপতৎপরতা থামছেনা!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : হ্নীলায় মাদকের চালান নিয়ে অনুপ্রবেশের সময় গোলাগুলির ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা মাদক বহনকারী নিহত হলেও কুতুপালংসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক সক্রিয় ইয়াবা গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং দালালদের অপতৎপরতায় সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান সাফল্যের মুখ দেখছেনা। তাই যেকোন মূল্যে এই অভিযানকে স্বার্থক করতে অশুভ মাদক চক্র এবং বিভিন্ন পয়েন্টে সক্রিয় থাকা তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে হ্নীলা জালিয়াপাড়া পয়েন্টে নিয়মিত টহলের সময় মিয়ানমার হতে আসা একটি নৌকা হতে দুই ব্যক্তিকে কাঁদায় নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি জওয়ানেরা চ্যালেঞ্জ করলে দু‘পক্ষের গোলাগুলিতে ৩জন বিজিবি সদস্য আহত এবং মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার বুড়া সিকদার পাড়ার মোস্তাকের পুত্র দিল মোহাম্মদ (২১) ও দিল মোহাম্মদের পুত্র দোস্ত মোহাম্মদ (১৯) গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল হতে ৭০হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় লম্বা বন্দুক. ২রাউন্ড বুলেট ও ১টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এই ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে কুতুপালং ক্যাম্পের বাদশা মিয়ার পুত্র আরসা নেতা কেফায়েত উল্লাহ, হাবিবুর রহমানের পুত্র ইয়াছিন, কুতুপালং ক্যাম্পের খেলার মাঠ সংলগ্ন মোঃ হাশিমের পুত্র ইয়াছিন, মোঃ হোছনের জামাই মোঃ হাশিম, জামতলী ক্যাম্পের আব্দু শুক্কুরের পুত্র জয়নালসহ ৬/৭ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নানা অপতৎপরতার কথা। এই সিন্ডিকেট বর্তমানে দুই উপজেলায় বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে কৌশলে মাদকের চালান খালাস ও সরবরাহ করে আসছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা দিন মজুর লোকজন চালান বহনে রাজি নাহলে তাদের ধরে নিয়ে কঠোর নির্যাতনের পর মোটাংকের বিনিময়ে মাদকের চালান আনার জন্য ওপারে পাঠানো হয়। এমন কি মাঝে-মধ্যে ইয়াছিন নিজে গিয়েও এসব মাদকের চালান নিয়ে আসে। এই চক্রের মাদকের চালান আনতে গিয়েই দিল মোহাম্মদ (২১) ও দোস্ত মোহাম্মদ (১৮) বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়।

উখিয়া উপজেলার থাইংখালী পয়েন্ট দিয়ে খালাসকৃত মাদকের চালান লম্বাশিয়া ক্যাম্পের জনৈক মাহমুদুর রহমানের নিকট মওজুদ রাখে। উপরোক্ত গডফাদারদের ইশারায় মাহমুদুর রহমান ইয়াবার চালান বিভিন্ন ব্যক্তি এবং স্থানে সরবরাহ করে থাকে।

মিয়ানমারের নাগাকুরায় সক্রিয় থাকা ইয়াবা গডফাদার জিন্নাহ, বলী মোঃ হোছন, জব্বারু, এক সময়ে হ্নীলা চৌধুরী পাড়া ও জালিয়াপাড়ার আদম ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী ওপারের নাগাকুরার লাল পাড়ার রাখাইন গডফাদার অং ছিংয়ের অন্যতম সহযোগী বুড়া সিকদার পাড়ার ইয়াবা গডফাদার শামসুল হাকিম, নাগাকুরার ছৈয়দ আমিনের পুত্র কবির আহমদ, ক্যাংব্রাংয়ের বাসিন্দা অং ছেং নাই এর ইয়াবা সিন্ডিকেটের চালান আনতে গিয়েই এরা বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। এসব গডফাদারের প্রেরিত ইয়াবার চালান হ্নীলা চৌধুরী পাড়া, নাটমোরা পাড়া, জালিয়া পাড়া, পূর্ব ফুলের ডেইল, কাস্টম্স ঘাট, সুলিশ পাড়া, হোয়াব্রাং, মৌলভী বাজার, খারাংখালী, নয়াবাজার ও মিনা বাজার পয়েন্টে ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাদকের চালান খালাসে জড়িত কিছু লোক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে এসব মাদকের চালান খালাস করে বিভিন্ন মাদক কারবারীদের গন্তব্যে পৌঁছানো হয়।
আর এসব চালানের দেখভাল করে বার্মাইয়া মোঃ হোছনের মেয়ে জামাই লেদা মৌলভী পাড়ায় অবস্থানকারী আবু ছিদ্দিকের পুত্র মৌঃ আনসারী ও দমদমিয়ায় অবস্থানকারী মৌঃ ইয়াছিন সহোদর । কুতুপালং ভিত্তিক সক্রিয় থাকা অন্যান্য মাদক সিন্ডিকেটের শেকঁড় উপড়ে ফেলা নাহলে এই সীমান্তে মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা অব্যাহত রয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

অপরদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একদল রোহিঙ্গা মাদকের চালান নিয়ে আসার সময় পূর্ব লেদা লবণের মাঠ হতে ১৫/২০জন দূবৃর্ত্ত কর্তৃক ৪ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবার চালান লুটপাট ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তুমুল হৈ ছৈ শুরু হয়েছে। এই খবর পাওয়ায় পাহাড়ে অবস্থানকারী স্বশস্ত্র ডাকাত গ্রæপের সদস্যরা হুমকি দেওয়ায় ইয়াবার চালান লুটকারী সিন্ডিকেট হতে ৬ কার্ড তথা ৬০ হাজার ইয়াবা তাদের চাঁদা দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্থ সুত্রের দাবী।

এদিকে উক্ত ইয়াবার চালান লুটে জড়িত থাকার অপরাধে পূর্ব লেদার ফরিদের পুত্র শাহজালাল (১৮) কে ইয়াবা চালানের মালিক দাবিদার স্থানীয় মকতুল হোছনের পুত্র নুরুল আমিন, আবুল হোছনের পুত্র আব্দুল খালেক, আব্দু শুক্কুর প্রকাশ শুক্কুনোর পুত্র মোঃ ইসলাম প্রকাশ ধইল্যা মিলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এলাকার কিছু সুবিধাভোগী নেতা এবং প্রভাবশালীরা এসব মাদক অপরাধীদের ছায়া হয়ে থাকায় মাদক দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হতে চলছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ।

এখনো পর্যন্ত অপহৃতের মা-বাবা ছেলের সন্ধান না পেয়ে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক ও দূর্নীতিসহ যাবতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে যতই সোচ্ছার হচ্ছে ততই মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা জনমনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ###