হুমায়ূন রশিদ : নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাত সাদেকের নারী কেলেংকারী ঘটনার নৃশংস হামলার প্রতিশোধ নিতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে ডাকাত নুরুল আলম বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পর ডাকাত সাদেক গ্রæপ ক্যাম্পের রাজত্ব হাতে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে পুরো ক্যাম্পকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে।
জানা যায়, বিগত দেড় দুই বছর পূর্বে ডাকাত সাদেক জনৈক শুক্কুরের স্ত্রী ও ভোলাইয়ার বোন মরিয়ম (২৭) প্রকাশ বুরুনীকে জোরপূর্বক বিয়ে করে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে শুক্কুর ও ভোলাইয়া মিলে সাদেক ডাকাতকে নির্মম নির্যাতন করে মারধর করেছিল। ডাকাত সাদেক এই হামলার প্রতিশোধ নিতে কৌশল অবলম্বন করে তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং স্বাভাবিক চলাচল করে আসছে। সময়, সুযোগ পেয়ে নির্মম নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে স্বশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যদের নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আশ্রয় নেয়।
এরই সুত্রধরে গতকাল ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) উপজেলার রাত ৯টারদিকে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের মৃত ডাকাত নুরুল আলমের অনুসারী ডাকাত সাদেক, সেলিম, রফিক, নুর ছালাম ও জকিরের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্ত গ্রুপ এইচ ব্লকে এসে এমআরসি নং-৬১০০১, শেড নং-৬৪০, রোম নং-৬ এর বাসিন্দা আজিম উল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ ভোলাইয়া (২৪) ও এমআরসি নং-১২৩৬৫, শেড নং-৬৪৬, রোম নং- ৫ এর বাসিন্দা মৃত শামসুদ্দিনের পুত্র মোঃ ইলিয়াছ প্রকাশ জজাইয়া (২৭) কে গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ পুলাইয়া মারা যায়। হঠাৎ করে গুলির শব্দে সাধারণ রোহিঙ্গারা আতংকিত হয়ে কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি। প্রায় আধ ঘন্টা পর লোকজন জড়ো হয়ে অপর গুলিবিদ্ধ ইলিয়াছ প্রকাশ জজাইয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার রেফার করা হয়। রাতে নিহত ভোলাইয়ার মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ ইলিয়াছ চমেকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের আইসি, মোঃ কবির হোসেন রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপের হামলায় ১জন নিহত ও গুলিবিদ্ধ অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সত্যতা স্বীকার করেন।
