প্রচার-প্রচারনায় পিছিয়ে ধানের শীষ, সুবিধাজনক অবস্থানে নৌকা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

কক্সবাজার-৪, টেকনাফ উপজেলার নির্বাচনী হালচাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি প্রার্থী প্রচার-প্রচারনায় ততই পিছিয়ে পড়ছেন। প্রার্থীর পক্ষে নেই কোন মাইকিং কিংবা কোথাও চোখে পড়েনা নির্বাচনী পোষ্টার। অপরদিকে নৌকার প্রার্থীর মিছিল-সমাবেশ, মাইকিং-পোষ্টারে সরগরম হাট-বাজার, স্টেশন, মাঠ-ঘাট সর্বত্র। কক্সবাজার-৪ আসনের টেকনাফ উপজেলার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এ চিত্র।

বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদির কারনে বহুল আলোচিত কক্সবাজার-৪(উখিয়া-টেকনাফ)আসনটি। উখিয়া ও টেকনাফ এ দুই উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের ২৯৭ এ আসন। এই আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপি সভাপতি ৪বারের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী। অপরদিকে মহাজোট তথা আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার। এ দুইজন ছাড়াও এ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসাবে আছেন আরো ৬জন। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থীও নির্বাচন করছেন এ আসনে। জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও এ আসনে তাদের প্রার্থী এমএ মনজুর এখনও মাঠে রয়েছেন। এছাড়া হাতপাখা প্রতিক নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থীও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদের কোন সাড়া নেই।

এলাকার ভোটাররা জানান, তফসীল অনুযায়ী গত ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হলে প্রথম থেকে নৌকা প্রতিকের শাহিন আক্তারের কর্মী-সমর্থকরা সভা-সমাবেশ, মাইকিং ও নাচ-গানের মাধ্যমে মাঠ সরগরম করে তোলেন। শাহীন আক্তারের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি শাহজাহান চৌধুরী একই সাথে প্রচারনা শুরু করলেও ধীরে ধীরে ভোটের মাঠে পিছিয়ে পড়েছেন। টেকনাফের তেমন কোথাও ধানের শীষের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি বলে জানান ভোটাররা। টেকনাফের কোথাও ধানের শীষ প্রার্থী মাইকিংও শোনা যায়না কিংবা কোথাও চোখে পড়ে না নির্বাচনী পোষ্টার। অথচ নির্বাচন বাকি মাঝখানে আর ৬দিন। টেকনাফের একজন ভোটার জানান তিনি গোঠা টেকনাফ ঘুরে শুধুমাত্র একটি স্থানে ধানের শীষের পোষ্টার দেখেছেন।

টেকনাফ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ এই অবস্থার জন্য পুলিশের বাড়াবাড়িকেই দায়ী করেছেন। তিনি দাবী করেন পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের খুঁজছেন। ক্রস ফায়ারের ভয় দেখাচ্ছে পুলিশ। এমনকি পরিবারের নারী-শিশুদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে সমস্ত সক্রিয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছে তারা প্রানভয়ে কিংবা গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে টেকনাফে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার প্রচারনায় অংশ নিতে পারছেন না তারা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে বিএনপির প্রথম সাড়ির কমপক্ষে ৩০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি রোববার বিকালেও জেলা বিএনপি সদস্য ও টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ সাংগঠনিক বিএনপির সভাপতি মো. ইসমাঈল মেম্বারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুধু তাই নই ধানের শীষের প্রচারনার গাড়ী থেকে মাইক ও পোষ্টার খুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

টেকনাফে এই অবস্থা চললেও উখিয়া উপজেলায় অবশ্য সমান তালে প্রচারনা চলছে বলে দাবী করেছেন দুই দলের কর্র্মী সমর্থকরা। ধানের শীষ প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বাড়ি উখিয়া উপজেলায় হওয়াতে সেখানে অনেকটা বাঁধা ডিঙ্গিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্র্মী সমর্থকরা।

টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর জানান, আব্দুর রহমান বদির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গত ১০ বছরের উন্নয়নের কারনে প্রচারনা থেকে শুরু করে সবদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন নৌকা প্রার্থী শাহেনা আক্তার। নৌকা মার্কার সমর্থনে অতীতের ন্যায় গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে শাহেনা আক্তার বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষনে তার স্বামী আব্দুর রহমান বদি মামলা সংক্রান্ত কারনে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলীয় সভানেত্রী তাকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন এবং নির্বাচিত হলে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে পরিচালিত হবেন বলে উল্লেখ করছেন।

অপরদিকে ধানের শীষ প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ইতিমধ্যে কয়েকদফা সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কর্তৃক নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও হয়রানীর প্রতিবাদ করেছেন। এমনকি টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে কক্সবাজার-৪ আসনে এইবার ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৬ জন। তৎমধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৩২ হাজার ৫২জন ও নারী ভোটার ১লাখ ৩৩ হাজার ৭৮৪ জন। দুই উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে জাতীয় সংসদের এ আসনটি গঠিত।

এদিকে ভোট যুদ্ধ শুরুর পর এ আসনে আব্দুর রহমান বদির গাড়িতে হামলা ও উখিয়ার পালংখালীতে শাহীন আক্তারের নির্বাচনী প্রচারনার গাড়ীতে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবার একি ভাবে টেকনাফের রঙ্গিখালী এলাকায় ধানের শীষের নিবাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।