কোরআন-হাদিস থেকে জানা যায়, অতীত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কারণে আল্লাহপাক রহমতের বৃষ্টি নাজিল করেন; তীব্র গরমে শীতলতা দান করেন।
কোরআন-হাদিস থেকে জানা যায়, অতীত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কারণে আল্লাহপাক রহমতের বৃষ্টি নাজিল করেন; তীব্র গরমে শীতলতা দান করেন।
অতএব, দেশে খরা বা অনাবৃষ্টি শুরু হলে রহমতের বৃষ্টির জন্য একনিষ্ঠতার সঙ্গে ইস্তিগফারের কোনো বিকল্প নেই।
পিপাসার্তদের পানি পান করানো
তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষ বা কোনো জীবজন্তুকে পানি পান করানো অধিক উত্তম।
কাজেই গরমের এই তীব্র মুহূর্তে সাধ্য অনুযায়ী মানুষকে পানি-শরবত পান করানো উচিত।
গাছ লাগানো
গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ার বিকল্প নেই। গাছ রোপণ করা মহানবী (সা.)-এর একটি সুন্নত।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৮২৪)
সুতরাং প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে বাঁচতে গাছ লাগানোর পাশাপাশি এসব সদকা প্রদানে সচেষ্ট হতে হবে।
গ্রীষ্মকাল বা গরমকালকে গালমন্দ না করা
তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই গরমকালকে গালমন্দ করে, অযাচিত বাক্য ব্যবহার করে, যা করা উচিত নয়।
অতএব, গ্রীষ্মকাল বা গরমকালকে গালি দেওয়া যাবে না। কেননা এই দিন, এই রাত, এই গরম, এই শীত—সবই মহান আল্লাহর নির্দেশে চলমান।
গরমকালে জোহর সালাত বিলম্বে পড়া
ভীষণ গরমের দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) জোহরের সালাত কিছুটা বিলম্বে আদায় করতেন, যেন গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে। আবু জার গিফারি (রা.) বলেন, ‘এক সফরে আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। একসময় মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিতে চেয়েছিলেন। তখন নবী (সা.) বলেন, গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার আজান দিতে চাইলে নবী (সা.) বললেন, গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।’
(বুখারি, হাদিস : ৫৩৯)
বৃষ্টির জন্য দোয়া বা সালাত আদায় করা
যখন খরার সৃষ্টি হয় এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে তখন সালাতুল ইস্তিসকা বা বৃষ্টির জন্য সালাত আদায় করার কথা হাদিসে আছে। এমতাবস্থায় এই সালাত আদায় করা সুন্নত। আব্বাদ ইবনু তামিম (রা.) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘(একদা অনাবৃষ্টি শুরু হলে) নবী কারিম (সা.) ঈদগাহের দিকে বের হলেন, বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন, কিবলার দিকে মুখ করলেন, চাদর উল্টালেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন।’
(নাসায়ি, হাদিস : ১৫০৯)
পরিশেষে এটাই কাম্য যে প্রচণ্ড গরমে ইসলামী এই নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন!
লেখক : চেয়ারম্যান, নুরুস সুন্নাহ রজভীয়া ফাউন্ডেশন
