প্রকৃতির প্রতিশোধ : যে কারণে শাহপরীরদ্বীপকে সাগর গ্রাস করছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী:শাহপরীরদ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্তের একটি জনপদের এক ঐতিহাসিক নাম। যার নামের মধ্যে শাহ সুজার নামকরণ করা হয়েছে। এটি সাবরাং ইউনিয়নের একটি অংশ বিশেষ ২০ হাজার মানুষের বসবাস যোগ্য আবাসস্থল। এর পূর্বে নাফ নদী ও দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে সমতল ভূমি। লবণ, চিংড়ি, ও মৎস্য সম্পদের জন্য ভরপুর। এক কথায় শাহপরীরদ্বীপ মৎস্য জোন হিসাবে খ্যাত। তাছাড়া এখানকার অনেক মানুষের মধ্যেপ্রাচ্যে কর্মজীবনে রয়েছে। অতীতে শাহপরীরদ্বীপ মূলখন্ড থেকে আলেদা একটি দ্বীপছিল দেশ স্বাধীন হবার পর এটি মূল ভূখন্ড সাবরাং এর সাথে সংযুক্ত হয়। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করনের পর শাহপরীরদ্বীপ থেকে, সরাসরী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু কালের বির্বতনে ২০০৭ সাল থেকে এটি পূনরায় দ্বীপে পরিনত হয়। আজ এক যোগ অতিক্রান্ত হতে চলেছে, দ্বীপবাসী নাফ নদীও সাগরের ভাংগনে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে আছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দ্বীপটি ভাংগণের ভয়াবহতা পেয়ে আসছে। শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণ ও উত্তর পশ্চিম প্রায় অর্ধকিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। হা করে আছে সাগর। এ দ্বীপের উত্তর ও পূর্বে নিয়মিত জোয়ার ভাটা চলে। মূলভূখন্ডের সাথে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌকা। ওখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী দাম আকাশ ছোয়া। চিকিৎসার অভাবে অনেকেই অকালে মারা যাচ্ছে। যারা বিত্তশালী তারা অর্থের প্রভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। ওখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড স্লান হয়ে যাচ্ছে। এ দ্বীপটি সাগরের ভাংগন থেকে রোধকল্পে বেড়ীবাঁধ সংস্কার কাজে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করলে ও এটি কোন কাজে আসছেনা। চলতি বছর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) শাহপরীরদ্বীপ টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প খাতে ১শত ৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, তা জানা যাচ্ছে না। তবে একাদিক সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছর ডিসেম্বর/১৭ মাসে কাজ শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একাজ বাস্তবায়িত হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে, শাহপরীরদ্বীপবাসী। বিশিষ্টজনদের মতে শাহপরীরদ্বীপ সাগরের ভাংগন কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোন দিয়ে বিশ্লেষন করে বলেন, এ জনপথ দিয়ে দুইটি বিষয়ের জন্য গজব হয়েছিল। এর মধ্যে মানব পাচার ও ইয়াবা অন্যতম। এ জনপথ দিয়ে অতীতে ও বর্তমানে অসংখ্যা মানব মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে সাগর পথে পাচারের শিকার হয়েছিল। পাচারের সময় অনেকেই সাগরে শলিল সমাধী এবং দালালের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। দালালেরা অনেক মায়ের কুলখালি করে ফেলে এবং ছেলে হারানো অনেক মা বিলাপধরে আহাজারি করতে শুনা যায়। এছাড়া সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতনে শিকার হয়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গারে নিয়ে শাহপরীরদ্বীপের দালালেরা আর্তমানবতার সেবার পরিবর্তে গলাকাটা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অর্থের মোহে পড়ে দালালেরা নৌকাও বোটের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে গিয়ে এ জনপদে প্রায় ১৬৩ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু ট্রলার ডুবে মারা যায়। আশ্রিত অসহায় রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে দালালেরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে। এর জন্য দায়ী কে ? রোহিঙ্গা নাকি দালাল। প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে শাহপরীরদ্বীপে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা দালালের খপপরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। সেই সাথে মরণ নেশা ইয়াবাসহ এ জনপদে দুর্বলের উপর চলে আসছে স্ববলের অত্যচার। এসব অত্যচার এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্বীপের জনগণ প্রতিবাদ না করে চুপ থাকায়, এজনপদের উপর চলে আসে প্রকৃতির আজাব। যা দ্বীপবাসী তিলে তিলে উপলব্দি করছে। দালাল, ইয়াবা কারবারী ও সমাজের পেশি শক্তির অপকর্মের কারণে শাহপরীরদ্বীপ আজ প্রকৃতির আজাবে নিমজ্জিত হচ্ছে।